ঢাকা, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২০ | ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

‘নেতাদের সঙ্গে কথা বলে নিয়েছি, তারা দোকান করতে বলেছেন’


এম আলমগীর, ঝিকরগাছা

প্রকাশিত: ০৮:০১ পিএম, ১৫ মার্চ ২০২০, রোববার
‘নেতাদের সঙ্গে কথা বলে নিয়েছি, তারা দোকান করতে বলেছেন’

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার শিত্তরদাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি দখল করে এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দখল করে দোকানঘর তৈরির অভিযােগ পাওয়া গেছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কথা কর্ণপাত না করে সভাপতি ও স্থানীয় নেতাদের ম্যানেজ করে এই দোকান তৈরি করছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবর বারবার অভিযোগ করেও কোনো সমাধান মেলেনি বলে জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষিকা।

প্রধান শিক্ষিকা মনোয়ারা বেগম জানান, বিদ্যালয়ে আড়াইশ শিক্ষার্থী লেখাপড়া পড়ে এবং বিদ্যালয়টি নির্বাসখোলা ইউনিয়নের প্রাণ কেন্দ্র। প্রাথমিক বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রম এই বিদ্যালয় মাঠে হয়ে থাকে কিন্তু বিদ্যালয়ের জায়গা থাকা শর্তেও জমিগুলো অবৈধভাবে দখল হয়ে গেছে। ফলে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলায় জায়গা পাচ্ছে না। মিড-ডে মিল চালুর জন্য নির্দিষ্ট রান্না করার জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। শহীদ মিনার স্থাপন করা যাচ্ছে না। ইউনিয়নের প্রতিটি স্কুল প্রোগ্রাম এ স্কুলে হয়। একটি একটি মঞ্চ করা দরকার। এগুলো তেরি করলে স্কুলে আর কোনো মাঠ থাকবে না।

সরকার যখন সারা দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়কে বাধ্যতামূলক করে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করেছেন এবং শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি দৈহিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে লেখাধুলার মাঠ ও স্কুল প্রাঙ্গণ প্রসারিত করার প্রতি ব্যাপক গুরুত্ব দিচ্ছে, তখন শিত্তরদাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি অবৈধভাবে দোকানঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। আবুল কাশেম নামে এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী এই দোকানঘর নির্মাণ করছে। তিনি উপজেলার পানিসারা ইউনিয়নের কুলিয়া গ্রামের সুবির আলীর ছেলে।

তিনি আরো জানান, সম্প্রতি বদলি হওয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট অভিযোগ করার পর তিনি দোকান ভেঙে নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু দোকান ভাঙেইনি বরং তিনি বদলি হওয়ার পরে আবারও দোকান তৈরি করছে। স্কুলের পক্ষ থেকে মোট তিনটি আবেদন করেছি। একটি দোকান ভাঙার জন্য, একটি তৈরি বন্ধ রাখার জন্য এবং জমি মাপার জন্য সরকারি আমিন চেয়ে আবেদন করেছি। এছাড়া শিত্তরদাহ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বরাবরও একটি আবেদন করেছিলাম। তিনি কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। পরে আবার কাজ শুরু করলে তাকে জানালে তিনি বলেন, ইউএনও না বললে আমি তাদের নিষেধ করতে পারবো না।

সর্বশেষ ২০ জানুয়ারি দোকানঘন নির্মাণ বন্ধের জন্য উপজেলা নির্বাহী বরাবর আবেদন করেছিলাম। ইউএনও স্যার আবুল কাশেমকে ঘর করতে নিষেধ করেছিলেন কিন্তু তিনি কথা শোনেননি। জমি মাপার জন্য গত ১২ মার্চ সরকারি আমিন চেয়ে আবার আবেদন করেছি।

বিদ্যালয়ের সভাপতি মোমিনুর রহমান জানান, জায়গাটা ফেরানো আছে, তাই দোকান করতে কোনো বাধা দিচ্ছি না। এছাড়া উপরের নেতারা বলেছে, তাকে দোকান তৈরি করতে দিতে।

বিদ্যালয়ের জায়গায় দোকান নির্মাণকারী আবুল কাশেম জানান, নেতাদের সাথে কথা বলে নিয়েছি। তারা দোকান করতে বলেছে। তাছাড়া প্রতিমাসে ভাড়া দেয়ার কথা বললেও কোথায় ভাড়া দেবে সেটা বলেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের সাবেক দুই সদস্য জানান, সভাপতি সহ স্থানীয় নেতাদের ম্যানেজ করে দোকানঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে অতি দ্রুত আমরা গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে দোকানঘর ভাঙার জন্য লিখিত অভিযোগ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) নাজিব হাসান জানান, নতুন দায়িত্বে আসায় বিষয়টি জানা নেই। তবে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।