ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২০ | ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

যশোরে প্রচারণায় এগিয়ে এসএম আফজাল হোসেন


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:১৩ পিএম, ১২ মার্চ ২০২০, বৃহস্পতিবার
যশোরে প্রচারণায় এগিয়ে এসএম আফজাল হোসেন

যশোর সদর উপজেলা পরিষদে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে চান অন্তত এক ডজন প্রার্থী। তাদের মধ্যে প্রবীণ রাজনীতিবিদ যেমন রয়েছেন, তেমনি রয়েছেন এক ঝাঁক সাবেক ছাত্র নেতা। এসব নেতার অধিকাংশের কর্মী সমর্থকরা ইতোমধ্যেই যেমন ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক প্রচার মাধ্যমে তাদের নেতার দলীয় মনোনয়ন দাবি করে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তেমনি অনেক নেতা নিজে থেকেও ‘প্রার্থী হতে চান’ মর্মে মিডিয়াকে জানাচ্ছেন। এদের মধ্যে এগিয়ে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংসঠনিক সম্পাদক এসএম আফজাল হোসেন।

যশোর-৬ কেশবপুর আসনে সংসদ সদস্য ইসমাত আরা সাদেকের মৃত্যু হলে এ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে এ আসনে দলীয় মনোনয়ন লাভ করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার। তিনি ২০ ফেব্রুয়ারি উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং ২৬ ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্য পদে মনোনয়নপত্র জমা দেন। ২৫ ফেব্রুয়ারী স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান নূরজাহান ইসলাম নীরা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। শাহীন চাকলাদার সংসদ সদস্য পদে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই এ উপজেলায় কে হচ্ছেন আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম আফজাল হোসেন, তিনি জেলা আওয়ামী লীগের টানা তিনবারের সাংগঠনিক সম্পাদক। বর্তমান যশোর সদরের ইছালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, একাধিক স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও মন্দির কমিটির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি। সমাজসেবাসহ ইছালী ইউনিয়নের উন্নয়নে শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে তিনি একাধিক কাজ করেছেন। যশোর জেলার সকল ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাহিত্যিক, মুক্তিযোদ্ধা, সুশীল সমাজসহ সর্বস্তরের জনসাধারণকে সাথে নিয়ে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন করেছেন। তার স্বপ্ন আধুনিক এক যশোর।

যশোর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রাজনীতিক মোহিত কুমার নাথ সদর উপজেলা পরিষদে দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে চান। তিনি বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে দলীয় শৃংখলা মেনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন এবং শাহীন চাকলাদারকে সমর্থন জানান।

যশোর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নূরজাহান ইসলাম নীরাকে সদর উপজেলা পরিষদে দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী করার দাবি তুলেছেন তার কর্মী সমর্থকরা।

যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এ এস এম হুমায়ুন কবির কবু যশোর সদর উপজেলা পরিষদে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম দাবিদার। তিনি একজন সমাজ সেবক হিসেবেও পরিচিত। তিনি যশোর চেম্বারের পক্ষ থেকে এফবিসিসিআই এর জিবি মেম্বর হিসেবে কাজ করছেন।

যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মীর জহুরুল ইসলাম সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের প্রত্যক্ষ রাজনীতির সাথে ঘনিষ্ট।

যশোর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান শাহারুল ইসলাম উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে তিনি জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিয়েছেন।

যশোর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান মিন্টু উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। তার কর্মী সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন।

যশোর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ফুল উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক থাকাকালীন আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখেন।

যশোর জেলা যুবলীগের সহ সভাপতি সৈয়দ মেহেদী হাসান ছাত্রলীগ করাকালীন রাজপথের লড়াকু সৈনিক ছিলেন। তিনি বিভিন্ন সময় জেল জুলুম হুলিয়া ও নির্যাতনের শিকার হন।

যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফয়সাল খান এবারো সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি গত উপজেলা নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন দাবি করেন। দলীয় শৃংখলা রক্ষার প্রশ্নে তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন।

যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল বর্তমানে সদর উপজেলা পরিষদে নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান। তার কর্মী সমর্থকরা দাবি করেন, বিগত নির্বাচনে আনোয়ার হোসেন বিপুল ব্যাপক জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিয়েছেন।

যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক দপ্তর বিষয়ক উপ কমিটির নেতা দেলোয়ার রহমান দিপু সদর উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের অর্থ সম্পাদক ছাড়াও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।