ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২০ | ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

চেয়ারম্যানের দুর্নীতির সাক্ষী দিতে গিয়ে অস্ত্রের মুখে মেম্বার!


এম আলমগীর, ঝিকরগাছা

প্রকাশিত: ০৮:৩২ পিএম, ১২ মার্চ ২০২০, বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৮:৩৪ পিএম, ১২ মার্চ ২০২০, বৃহস্পতিবার
চেয়ারম্যানের দুর্নীতির সাক্ষী দিতে গিয়ে অস্ত্রের মুখে মেম্বার! বাঁকড়া ইউনিয়ন পরিষদ ও চেয়ারম্যান নিছার আলী

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিছার আলীর দুর্নীতির সাক্ষী দিতে যাওয়ার পথে এক ইউপি সদস্যকে অস্ত্রের মুখে বাধা দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে প্রশাসনের সহযোগিতায় তাকে তদন্ত কার্যালয়ে পৌঁছে দেয়া হয়। গত মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে ঝিকরগাছা উপজেলা পরিষদের গেটের বাইরে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য ও বাঁকড়া মুকুন্দপুর আলিম মাদরাসার সভাপতি ফারুক হোসেন জানান, ২০১৬ সালে ইউপি নির্বাচনে নিছার আলী নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে সীমাহীন দুর্নীতি করতে থাকেন। ইউপি সদস্যদের মতামত না নিয়ে বিভিন্ন কাজ এককভাবে করেন। ফলে পরিষদের ছয়জন ইউপি সদস্য তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তের জন্য জেলা প্রশাসক ঝিকরগাছা উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করেন। আহ্বায়ক বিএম কামরুজ্জামান ১০ মার্চ ইউপি চেয়ারম্যান নিছার আলী, ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রমজান আলী, ২নং ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুস সোহাবান, ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য ফারুক হোসেন, ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য আজগর আলী, ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য সেলিম রেজা ও ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য গোলাম মোস্তফাকে নোটিশ করে ডাকেন।

তিনি আরো জানান, নোটিশ পেয়ে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে যাওয়ার পথে উপজেলা পরিষদের গেটের বাইরে চারজন মাক্স পরিহিত যুবক তার গতিরোধ করে এবং বলে ভাই আপনি সম্মানিত মানুষ, আপনাকে আমরা সম্মান করি। চেয়ারম্যান আমাদের টাকা দিয়েছে, আপনাকে উপজেলায় ঢুকতে না দেয়ার জন্য। সেই কারণে আপনাকে বাড়ি ফিরে যেতে হবে, উপজেলায় যাওয়া যাবে না। তাদের মধ্যে দুজন ফারুক হোসেনকে তুলে নিয়ে ঝিকরগাছা ব্রিজ পর্যন্ত রেখে যায়। তাদের হাতে ছুরি ছিল।

পরে ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন ঝিকরগাছা থানায় গিয়ে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে বিষয়টি খুলে বললে তিনি উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা বিএম কামরুজ্জামানকে ফোন দেন এবং নিরাপত্তা দিয়ে ফারুক হোসেনকে পল্লী উন্নয়ন কার্যালয়ে নিয়ে যান।

জানতে চাইলে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা ও তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক বিএম কামরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম ফোন করে সময় নিয়েছেন। ৪-৫ দিন পরে তিনি আসলে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হবে।