ঢাকা, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২০ | ২৩ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

যশোরে র‍্যাব-ম্যাজিস্ট্রেট মুখোমুখি


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:৪৯ পিএম, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার
যশোরে র‍্যাব-ম্যাজিস্ট্রেট মুখোমুখি উচ্ছেদ অভিযানে র‌্যাবের বাধা

যশোরে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে র‍্যাব অফিসের দেয়াল ভাঙায় প্রকৌশলী ও বুলডোজার চালককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় উচ্ছেদ অভিযানের নেতৃত্বদানকারী ম্যাজিস্ট্রেটকেও লাঞ্ছিত করার করা হয়েছে।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে যশোর শহরের বকচর এলাকায় র‌্যাব ক্যাম্পের সামনে এ ঘটনা ঘটে। তবে, মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন র‌্যাব কর্মকর্তারা।

প্রত্যক্ষদর্শী বুলডোজারের চালক বলেন, ‘প্রাচীর ভাঙার আগেই ম্যাজিস্ট্রেট ম্যাডাম র‌্যাব সদস্যদের গাড়ি সরাতে বলেন। গাড়ি সরানোর পরই প্রাচীর ভাঙা হয়। এরপর র‌্যাবের ১০-১৫ জন ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে এসে চালক প্রতাপ কুমার ও ইঞ্জিনিয়ার স্যারকে মারধর করে নিয়ে যায়।’

স্থানীয়রা জানায়, ‘র‌্যাব সদস্যরা হকস্টিক দিয়ে বেধড়ক মারপিট ও বুট দিয়ে লাথি মেরে দুজনকে রক্তাক্ত করে এবং গাড়ি ভাঙচুর করে।’

অভিযানে নেতৃত্বদানকারী সিনিয়র সহকারী সচিব অনিন্দিতা রায় অভিযোগ করে বলেন, ‘র‌্যাব কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই উচ্ছেদের বিষয় জানেন। তাদের সঙ্গে সড়কের কর্মকর্তাদের কথাও হয়েছে। র‌্যাব সদস্যরা যা করেছেন তা গ্রহণযোগ্য নয়।’

এ দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম মোয়াজ্জেম হোসেন। তারা আটক দুজনকে উদ্ধার করে নিয়ে যান।

সন্ধ্যায় র‌্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার এএসপি সোহেল পারভেজ বলেন, ‘সওজের কোনও কর্মচারীকে মারধরের ঘটনা ঘটেনি। সওজ আমাদের আগে নোটিশ দেয়নি। প্রাচীর ভাঙা তাদের ভুল হয়েছে। আগামীকাল পুনরায় প্রাচীর নির্মাণ করা হবে।’

সড়ক ও জনপথ বিভাগ যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘এটি র‌্যাবের ভাড়া বাসার প্রাচীর। গত দুই মাস ধরে র‌্যাবকে উচ্ছেদের বিষয়টি অবগত করেছি। আমাদের দুজন কর্মী মারধরের শিকার হয়েছেন এবং একজন হাসপাতালে ভর্তি।’

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাচীর ভাঙাকে কেন্দ্র করে বুলডোজার চালককে র‌্যাব আটকে রাখে। তাকে ছাড়াতে গেলে উপ-সহকারী প্রকৌশলী তরুণ কুমার দত্তকে তারা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে আটকে রাখে। এছাড়া উচ্ছেদে নেতৃত্বদানকারী ম্যাজিস্ট্রেট অনিন্দিতা রায়কে গালিগালাজ করা হয়। পরে জেলা প্রশাসক, সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং বাড়ির মালিক পবিত্র কাপুড়িয়ার উপস্থিতিতে প্রাচীর, গ্যারেজ ও সেন্ট্রি পোস্ট পুনরায় নির্মাণের শর্তে আটক দুজনকে ছাড়িয়ে আনে। পুরো ঘটনাটি অনাকাঙ্খিত।’

যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। র‌্যাব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- প্রাচীর ভেঙে ফেলায় স্থানীয়রা উত্তেজিত হয়ে সওজের কর্মীদের ওপর চড়াও হয়। তখন র‌্যাব তাদের দুজনকে উদ্ধার করে ক্যাম্পে নিয়ে যায়।’