ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২০ | ১৮ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সাবাস চেয়ারম্যান আবুল ইসলামের ১৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ


এম আলমগীর, ঝিকরগাছা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৮:০৫ এএম, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার
সাবাস চেয়ারম্যান আবুল ইসলামের ১৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য, গণপরিষদ সদস্য, স্বাধীনতার পর প্রথম জাতীয় সংসদ সদস্য এবং বঙ্গবন্ধুর সাবাস চেয়ারম্যান খ্যাত আলহাজ আবুল ইসলামের আজ ১৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী।


তিনি ২০০৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারী হাজার হাজার মানুষকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান। নন্দিত নেতা আবুল ইসলাম ১৯৫৫ সালে মৌখিক ভোটে ইউনিয়ন বোর্ডের মেম্বর নির্বাচিত হন। শুরু হয় তার জনপ্রিয়তার পথ চলা। ১৯৫৮ সালে ঝিকরগাছার তৎকালীন বল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (বর্তমান নির্বাসখোলা ও হাজিরবাগ ইউনিয়ন) নির্বাচিত হন সরাসরি জনগণের ভোটের মাধ্যমে।

১৯৬৪ সালে তৎকালীন পাকিস্থানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খাঁন মৌলিক গণতন্ত্র চালুর নামে ফরমান জারি করেন ইউপি চেয়ারম্যানদের ভোটে পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হবেন। জনগণের সরাসরি ভোটের দরকার নেই। এবং আইয়ুব খাঁন নির্দেশ দেন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এই ফরমান সমর্থন সূচক রেজুলেশন করে প্রেসিডেন্ট দপ্তরে পাঠাতে। তখন গোটা পাকিস্থানের মধ্যে একমাত্র চেয়ারম্যান আবুল ইসলাম ওই ফরমানের বিরুদ্ধে উচ্ছারন করলেন। তিনি বল্লা ইউনিয়ন পরিষদের প্যাডে ওই ফরমানের বিরুদ্ধে রেজুলেশন করে প্রেসিডেন্ট দপ্তরে পাঠান।

তিনি রেজুলেশনে উল্লেখ করেন, ভোট জনগণের মৌলিক অধিকার তা খর্ব করার এখতিয়ার কারো নেই। চেয়ারম্যান আবুল ইসলাম ওই রেজুলেশনের কপি স্পিকার ও দৈনিক ইত্তেফাক অফিসে প্রেরণ করেন। এ ঘটনায় তাকে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় সাবাস চেয়ারম্যান শিরোনামে সংবাদ পরিবেশন করে। এরপর থেকে আবুল ইসলাম সারাদেশে সাবাস চেয়ারম্যান নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। তিনি ১৯৬৬ সালে যশোর বোর্ডের সদস্য নির্বাচিত হন। খুলনা বিভাগে তিনিই একমাত্র আওয়ামী লীগের মেম্বর নির্বাচিত হন। এবং ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসাবে চেয়ারম্যান থেকে অবিভক্ত ঝিকরগাছা চৌগাছাসহ মণিরামপুর নির্বাচনী এলাকার প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন। আবুল ইসলাম ১৯৪৯ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে আবুল ইসলাম সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৭১ সালে তিনি দেড়শ সুইসাইড স্কোয়াড নিয়ে যুদ্ধ করেছেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৩ সালে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

কিংবদন্তী এই পুরুষ ১৯২৪ সালে যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার হাজিরবাগ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা সরদার নাসিরউদ্দীন তৎকালীন সমাজের পঞ্চায়েত ছিলেন। আবুল ইসলাম ২০০৪ সালের এদিনে হাজার হাজার মানুষকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান। হাজিরবাগ গ্রামের জামে মসজিদের পাশে পারবারিক কবনস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন নন্দিত এই নেতা। আবুল ইসলাম মৃত্যুর আগে বলেছিলেন তাকে যেন বঙ্গবন্ধুর মত ৫৭০ সাবান এবং নি¤œমানের কাপড় দিয়ে দাফন করা হয়। তার শেষ ইচ্ছা পূরণ করেছিল তার সন্তানরা। আবুল ইসলামের সুযোগ্য উত্তরসুরি যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্নসম্পাদক এ্যাড. মনিরুল ইসলাম মনির।

"
মরহুম আবুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পারবারিক ও রাজনৈতিকভাবে দিনভর বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষনা করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে মরহুমের কবর জিয়ারত, হাজিরবাগ জামে মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠান এবং বিকাল ৩ টায় হাজিরবাগ আবুল ইসলাম ফাউন্ডেশন চত্ত্বরে ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখবেন, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার গণি খান পলাশ, সহ-সভাপতি অ্যাড. মোহাম্মদ আলী রায়হান, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা ফরিদ আহম্মদ চৌধুরী, ঝিকরগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি চৌধুরী রমজান শরীফ আদশা, সাধারন সম্পাদক মুছা মাহমুদ, যশোর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য মেহেদী হাসান মিন্টু, যশোর জেলা কৃষকলীগের সভাপতি অ্যাড. শামসুর রহমান, যশোর জেলা আওয়ামী যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দ মনির হোসেন টগর, জেলা শ্রমিক লীগের সাধারন সম্পাদক নাসির উদ্দীন, জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি মঞ্জুনন্নাহার নাজনীন সোনালী।

"

 

পরিবারের পক্ষ থেকে স্মৃতিচারণ করবেন, মরহুমের ছোট পুত্র ও আবুল ইসলাম জুট মিলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাজহারুল ইসলাম প্রিন্স। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করবেন, মরহুমের ৩য় পুত্র, যশোর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাড. মনিরুল ইসলাম মনির।
উক্ত অনুষ্ঠানে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে উপস্থিত হওয়ার জন্য বিশেষভাবে আহবান জানিয়েছেন স্মরণসভা আয়োজক কমিটি।

অমৃতবাজার/এমএএন