ঢাকা, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২০ | ২১ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ফুলবাড়ীতে পূজা মণ্ডপে হামলা, গ্রেফতার ৪


প্লাবন শুভ, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৫:১৮ পিএম, ৩০ জানুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার
ফুলবাড়ীতে পূজা মণ্ডপে হামলা, গ্রেফতার ৪ ছবি- অমৃতবাজার।

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার আলাদীপুর ইউনিয়নের জিতয় গ্রামে গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় পূজা মণ্ডপে হামলা মারপিটসহ সরস্বতী প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, জিয়ত গ্রামের মৃত ইব্রাহিম আলীর ছেলে শহিদুল ইসলাম (২৫), আব্দুল মজিদের ছেলে আজিজুল ইসলাম (২৪), মৃত তছির উদ্দিনের ছেলে সেকেন্দার আলীর (৪৫) ও মৃত মোজাফ্ফর মণ্ডলের ছেলে মানিক মণ্ডল (২৩)।

থানায় দায়েরকৃত মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সরস্বতী পূজা উপলক্ষে গতকাল জিয়ত গ্রামের শ্রী তাপস চন্দ্র রায়ের বাড়ির উঠানে অস্থায়ী মন্দির নির্মাণ করে সরস্বতী পূজার আয়োজন করেন গ্রামবাসী। ওইদিন বিকেল থেকে ওই অস্থায়ী মন্দিরে সরস্বতী পূজা অর্চনা করা শুরু হয়।

পূজাকে কেন্দ্র করে পূজা মণ্ডপে মাইকসহ সাউন্ড সিস্টেমের মাধ্যমে গান-বাজনা বাজানো হয়। এরই মধ্যে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ওই অস্থায়ী মন্দির থেকে ৩শ` গজ দূরে থাকা গ্রামের মসজিদ থেকে গ্রামের মৃত ইব্রাহিম খলিলের ছেলে শহিদুল ইসলাম (২৫), আব্দুল মজিদের ছেলে আজিজুল ইসলাম (২৪), মো. এন্তাজ আলীর ছেলে জাহিদুল ইসলাম (২৮), মৃত তছির উদ্দিনের ছেলে সেকেন্দার আলীর (৪৫), মৃত আব্দুলের ছেলে আব্দুস সাত্তার (৫৫), জাহাঙ্গীর আলম (৩৫) ও মৃত মোজাফ্ফর মণ্ডলের ছেলে মানিক মণ্ডলসহ (২৩) আন্তত ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল লাঠিসোটা নিয়ে আকস্মিকভাবে সরস্বতী পূজার ওই মন্দিরে হামলা চালায়।

এ সময় মন্দিরে পূজারত অবস্থায় থাকা শ্রী হীরেন্দ্র নাথের ছেলে শ্রী লোচন দাস (২৫), শ্রী ভূপেন চন্দ্র রায়ের ছেলে শ্রী দীপুর চন্দ্র রায়, শ্রী নিরঞ্জন চন্দ্রের ছেলে শ্রী সুজন চন্দ্রসহ অবস্থানরত ব্যক্তিদের এলোপাথাড়ি মারপিটসহ সাউন্ড সিস্টেমের তার ছেড়াছেড়ি, সাউন্ড সিস্টেমের সাথে গান বাজানোর জন্য ব্যবহৃত সেমফোনি মোবাইল ফোন সেট ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় হামলাকারীরা অস্থায়ী মন্দিরে স্থাপনকৃত সরস্বতী প্রতীমার কাপড় ধরে টানাটানি করে মাটিতে ফেলে দেয়। এতে প্রতিমার মাথাসহ বাম হাতের কিছু অংশ ভেঙ্গে যায়। এ সময় সম্ভু শীল, সবুজ রায়, লিটন রায়, শ্যামল চন্দ্রসহ অন্যরা হামলাকারীদের বাধা দিতে গেলে তাদেরকেও নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানোসহ ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্যও হুমকি দেয় হামলাকারীরা। ওই ঘটনার পর গ্রামের সরস্বতী পূজা করতে পারেননি হিন্দু সম্প্রদায়ের গ্রামবাসী।

মামলার বাদী শ্রী লোচন দাস বলেন, কোন কারণ ছাড়াই উচ্চ শব্দে মাইক ও সাউন্ড সিস্টেমে গান বাজানোর অজুহাতে মন্দিরে হামলা চালিয়ে মারপিটসহ মাইক ও সাউন্ড সিস্টেমের তার ছিড়ে দেওয়া, মোবাইল সেট ছিনিয়ে নিয়ে মন্দিরে স্থাপনকৃত সরস্বতী দেবীর প্রতিমার পরণের কাপড় টানাটানি করে প্রতীকে মাটিতে ফেলে দেয় হামলাকারীরা। এতে প্রতিমার মাথা ও বাম হাতের কিছু অংশ ভেঙ্গে যায়। যার কারণে ওই রাত থেকে পূজা-অর্চনা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন গ্রামবাসী। বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন।

থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, পূজা মণ্ডপে হামলাসহ সরস্বতী প্রতিমা ভাংচুর ঘটনার পরপরই ফুলবাড়ী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশীষ বিন হাছান স্যারে নেতৃত্বে তিনিসহ (ওসি) পুলিশদল রাতভর অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আজ বৃহস্পতিবার সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয়ের ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। যার মামলা নং ২৫। মামলার অন্য আসামীদেরকেও গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে।

অমৃতবাজার/এসএস