ঢাকা, রোববার, ২৯ মার্চ ২০২০ | ১৫ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

‘লিখে কী হবে? সবখানে টাকা দিই!’


বিশেষ প্রতিনিধি, ঝিকরগাছা

প্রকাশিত: ০৭:৩৯ পিএম, ২৬ জানুয়ারি ২০২০, রোববার | আপডেট: ০৭:৪৭ পিএম, ২৬ জানুয়ারি ২০২০, রোববার
‘লিখে কী হবে? সবখানে টাকা দিই!’ নির্বাসখোলা স্কুল এ্যান্ড কলেজের পাশেই নাভারণ ব্রিকস নামের ইটভাটা ছবি: অমৃতবাজার পত্রিকা

‘লিখে কী হবে? সবখানে টাকা দিই। লাইসেন্স নেই, করতে দিয়েছি তাতে কী হয়েছে?’ স্কুলের পাশেই অবৈধভাবে গড়ে তোলা ইট ভাটা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে এভাবেই দম্ভোক্তি করে উত্তর দেন নাভারণ ব্রিকসের মালিক আব্দুল হাই।

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার নির্বাসখোলা স্কুল এ্যান্ড কলেজের মূল ফটকের দুইশ গজ দুরে খরুসা জামতলা-কুল্লা বাজার সড়কের গায়ে গড়ে তোলা হয়েছে আব্দুল হাইয়ের নাভারণ ইট ভাটা। অবৈধ ভাটাটি বন্ধের দাবিতে এলাকাবাসী জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদনও করেছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, কোন নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা না করে গড়ে তোলা নাভারণ ব্রিকসের দুইশ (আনুমানিক) গজ দূরে রয়েছে নির্বাসখোলা স্কুল এ্যান্ড কলেজ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একদিকে জনবসতি অন্য দুইদিকে ফসলের মাঠ।

ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী জাহানারা খাতুন জানান, ভাটার ধোয়া, ধুলা-বালিতে কলেজের মাঠে থাকা যায় না। অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আফ্রিদি হোসেন জানান, ভাটার ধুলায় শ্রেণিকক্ষেও বসা যায় না।

নির্বাসখোলা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক অভিযোগ করেন, ভাটার পাশে তার জমিতে এখন আর আগের মতো আবাদ হয় না। তিনি ভাটাটি বন্দেরও আবেদন করেন। পাশ্ববর্তি হোগলাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আহাদ জানান, অদক্ষ চালকদের কারণে ভাটার ট্রাকে প্রায় দুর্ঘটনা ঘটে।

২০১২ সালে ভাটাটি এখানে গড়ে তোলা হয়। এর আগে ভাটাটি শার্শা উপজেলার নাভারণে ছিল। এখানে ভাটা তৈরি করে আর কোন লাইসেন্স করেননি মালিক। ভাটাটিতে ৮টি ট্রাক রয়েছে। কাজ করতে দেখা গেছে বেশ কয়েকজন শিশুকে।

এ বিষয় জানতে চাইলে ভাটার ম্যানেজার তারিক সাইফুল্লাহ ওরফে লাভলু জানান, ভাটার ট্রাকগুলোর কোন বৈধ কাগজপত্র নেই। আর যে শিশুরা কাজ করছে তারা মা বাবার সঙ্গে এখানে থাকে। ম্যানেজার লাভলু ভাটার লাইসেন্স নবায়নের একটি আবেদন দেখান, যাতে উল্লেখ করা হয়েছে ২০১২ সালে এখানে ভাটা তৈরির পর আর লাইসেন্স করা হয়নি।

ভাটার মালিক আব্দুল হাইয়ের কাছে মুঠোফোনে ভাটার লাইসেন্সের বিষয় চানতে চাইলে বলেন, ‘ভাটা নিয়ে লিখবেন? লিখে কী হবে? সবখানে টাকা দিই, যা পারেন লেখেন’। এভাবে দম্ভোক্তি করতে করতে ফোনের সংযোগ বন্ধ করে দেন তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) সাধন কুমার বিশ্বাস জানান, লাইসেন্স না থাকলে ইট ভাটাটির সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হবে।

অমৃতবাজার/এসএইচএম