ঢাকা, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০ | ১৫ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ফুলবাড়ীতে পুকুর পাহারাদারকে কুপিয়ে হত্যা


ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৪:১১ পিএম, ২৩ জানুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার
ফুলবাড়ীতে পুকুর পাহারাদারকে কুপিয়ে হত্যা নিহত বাদশার পরিবারের আহাজারি। ছবি-অমৃতবাজার

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বাদশা মিয়া (৪৮) নামের এক পুকুর পাহারাদারকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুষ্কৃতিকারীরা। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয় তার মাথা ও ঘাড়ে।

বুধবার (২২ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে উপজেলার ৪নং বেতদীঘি ইউনিয়নের নন্দীগ্রামের নিলুয়া পুকুর পাড়ে এই ঘটনাটি ঘটেছে। নিহত বাদশা নন্দীগ্রামের আরজিপুর শাহপুর গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে।

নিহত বাদশার চাচা ইব্রাহিম বাশার ও বড় মেয়ে জেরিন বলেন, বাদশা মিয়া ১ বছর ধরে তামিম হ্যাচারীর অধীনে ২টি পুকুর পাহারা দিয়ে আসছিলেন। প্রতিদিনের মতো গত বুধবার রাতেও সাড়ে ৭টায় নিজ বাড়িতে খাওয়া-দাওয়া শেষে পুকুরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হন বাদশা। ভোরে তার রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান গ্রামবাসী।

কারো সাথে বাদশা মিয়ার কোন পূর্বশত্রুতা ছিল না, তবে কেন তাকে হত্যা করা হয়েছে তা জানেননা তার পরিবার। হত্যাকারীদের আটক করে দ্রুত শাস্তির দাবি জানিয়েছে তারা।

স্থানীয়রা বলেন, ফজরের নামাজের সময় পুকুরের পশ্চিম পার্শ্বে থাকা খামারের মোর্শেদা নামের এক নারী খাবার রান্না করতে যাওয়ার সময় বাদশা মিয়াকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে চিৎকার শুরু করলে এলাকাবাসী এগিয়ে আসে। পরে ইউপি চেয়ারম্যানসহ থানা পুলিশকে খবর দেয়া হয়।

তারা আরও জানান, ওই এলাকাটি মাদকের আখড়া। হরহামেশা মাদক কেনাবেচাসহ মাদক সেবন করেন অনেকে। বাদশা মিয়ে আগে নেশা করলেও, সেসব ছেড়ে দিয়ে তিনি নামাজ-কালাম পড়া শুরু করেছিলেন।

তামিম হ্যাচারীর ম্যানেজার মাহফিজার রহমান বলেন, `বাদশা এক বছর যাবৎ পুকুর পাহারাদারের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তাকে কে বা কেনো হত্যা করেছে সেটি বোঝা যাচ্ছে না। তবে পুকুরে পূর্বপার্শ্বে যে ঘরে বাদশা থাকতেন, সেখানে নানান সামগ্রী ছিলো; সবই ঠিক আছে।`

নন্দীগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. শাখাওয়াত হোসনে বলেন, বাদশার তেমন কোন শক্র ছিল না। কি কারণে তাকে হত্যা করা হয়েেছ এটা গ্রামবাসীর চিন্তাধারার বাইরে।

ফুলবাড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফুলবাড়ী সার্কেলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার স্যার পরিদর্শন করেছেন। লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ধরতে তদন্ত করা হচ্ছে।

ফুলবাড়ী সার্কেলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিষ বিন হাছান জানান, সবকিছু মাথায় রেখে, বাদশা মিয়ার কারো সাথে কোনপ্রকার বিরোধ ছিলো কি-না তা তদন্ত শুরু করা হয়েছে। অচিরেই হত্যাকারিদের আইনের আওতায় আনা হবে।

অমৃতবাজার/প্লাবন/এসএইচএম