ঢাকা, রোববার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

যশোরে জালিয়াতির অভিযোগে প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত


যশোর সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১০:৩৪ এএম, ২০ জানুয়ারি ২০২০, সোমবার
যশোরে জালিয়াতির অভিযোগে প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত

যশোর সদর উপজেলার রুদ্রপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে দুর্নীতিসহ নানাধরনের অপরাধের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এর আগে তাকে প্রথম দফায় শোকজের পর দ্বিতীয় দফায় তাকে শোকজ করে স্কুল পরিচালনা কমিটি। কিন্তু তিনি সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।

এসব অভিযোগের কারণে তাকে প্রধান শিক্ষক পদ থেকে সরিয়ে স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাবেক প্রধান শিক্ষক মৃণাল কান্তি সরকারের বিরুদ্ধে সকল অভিযোগের বিষয়ে স্কুল কমিটির পক্ষ থেকে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্কুলের সাধারণ শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক মণ্ডলী এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

জালিয়াতি করে রুদ্রপুর স্কুলে দুই শিক্ষককে নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ঘুম ভাঙে স্কুল কমিটির। জরুরীসভা ডেকে প্রধান শিক্ষক মৃনাল কান্তি সরকারকে শোকজ করে। স্কুলের সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসাধাচারণসহ একে একে প্রকাশ পায় প্রধান শিক্ষক মৃণাল কান্তি সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির ফিরিস্তি। বিষয়টি এলাকাবাসীকে পীড়া দেয়। সাধারণ শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষকদের সাথে এলাকাবাসী একট্টা হয়ে স্কুলের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে তারা। বিষয়টি নিয়ে স্কুলের দাতা সদস্যরাও প্রতিবাদী হয়ে উঠে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে আদালতে মৃণাল কান্তির বিরুদ্ধে তারা আদালতে মামলা করেন। সাতদিনের মাথায় শোকজের জবাব দেন মৃণাল কান্তি। জবাব ভিত্তিহীন বলে ফের শোকজ করে স্কুল কমিটি। শেষমেশ সন্তোষজনক জবাব না পেয়ে প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের নোটিশ প্রদান করে স্কুল কমিটি।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, জালিয়াতি ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে সন্তুষ্টজনক জবাব না পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ সন্দেহতীত ভাবে প্রমাণিত হয়। এছাড়া এসব বিষয়ের জেরে স্থানীয় অভিভাবকদের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছে মৃণাল কান্তি যা স্কুলের সকলের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করা ও স্কুলের শৃংখলা ভঙ্গ এবং স্বার্থ পরিপন্থী বলে অভিযোগ আনা হয়েছে মৃণাল কান্তির বিরুদ্ধে।

মৃণাল কান্তির বিরুদ্ধে যত অভিযোগ
সদর উপজেলার গোয়ালদহ গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে সামছুল আলম ও মণিরামপুর উপজেলার এড়েন্দা গ্রামের তারিফ মোড়লের ছেলে মুনজুর রহমানকে অবৈধ ভাবে নিয়োগ দান এবং মোটা অংকের টাকা আত্মসাত।

মৃনালকান্তিসহ স্কুল কমিটির সাবেক সভাপতি ইব্রাহিম মিলে স্কুল প্রাঙ্গন থেকে গাছ কেটে সাবাড় করেছে। অহেতুক খরচ দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ, নিজের কু-কিত্তি ডাকার জন্য স্কুলের প্রত্যেক শিক্ষক ও কর্মচারীদের কাছ থেকে এক মাসের বেতন (তিন লাখ ছয় হাজার টাকা) কেটে রাখে প্রধান শিক্ষক মৃনাল কান্তি। ২০১৮ সালের পহেলা জুন স্কুলের আয় ব্যয়ের পর অবশিষ্ট টাকা নিয়ে নয়ছয়, ভুয়া বিল ভাওচার করে বিভিন্ন খাত থেকে টাকা আত্মসাৎ।

এসব বিষয়ে স্কুলের সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকরা বলছেন, প্রধান শিক্ষক মৃণাল কান্তি সরকারের সাময়িক শাস্তি হলেও তার ঘনিষ্ট সহযোগী স্কুল কমিটির সাবেক সভাপতি ইব্রাহিম রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। বাইরে থেকে তিনি বিষয়টি ধামাচাঁপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। অভিভাবকসহ স্কুলের শিক্ষার্থীদের নানা ধরনের হুমকি-ধামকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে দুর্নীতি দমন ট্রাইবুন্যালের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

উল্লেখ, জালিয়াতি, দুর্নীতি ও এক দাতা সদস্যকে হত্যার হুমকির অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যশোর আদালতে মামলা হয়। পুলিশ বুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে মামলা তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। এ ছাড়া স্কুল কমিটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। স্কুল কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি সিনিয়র শিক্ষক ব্রজেন্দ্রনাথ বিশ্বাস, জাহিদুল ইসলাম ও অভিভাবক সদস্য লুৎফর রহমানকে তদন্ত কমিটির সদস্য করা হয়।

অমৃতবাজার/শিমুল/আরইউ