ঢাকা, রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২০ | ২২ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কারাগারে গাঁজা সরবরাহের অভিযোগে কারারক্ষী বরখাস্ত


যশোর প্রতিনিধি,

প্রকাশিত: ০৮:৩৮ পিএম, ১৭ জানুয়ারি ২০২০, শুক্রবার | আপডেট: ০৮:৪৩ পিএম, ১৭ জানুয়ারি ২০২০, শুক্রবার
কারাগারে গাঁজা সরবরাহের অভিযোগে কারারক্ষী বরখাস্ত ফাইল ছবি

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে মাদকের ছড়াছড়ি বন্ধ করতে এবার খোদ জেলার জোরালো ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। অত্র কারাগারে কর্মরত একজন কারারক্ষী বাইরে অবস্থান নিয়ে গাঁজার পোটলা দেওয়ালের ওপার থেকে ছুড়ে মারার ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

তিনি সমপ্রতি অত্র কারাগারে যোগদান করার পর কারাগারে অভ্যন্তরে ভিআইপি ওয়ার্ডের নামে মাদকের ছড়াছড়িসহ নানা অনিয়ম দেখে হতবাক হয়ে পড়েন। তিনি মাত্র কয়েকজন কারারক্ষী নিয়ে মাদক বন্ধ করতে নিজে নেমে পড়েন।

জেলার তুহিন কান্তি খানের সাথে বৃহস্পতিবার ১৬ জানুয়ারী এ প্রতিবেদকের আলাপকালে তিনি জানান, সাতক্ষীরা জেলা কারাগার থেকে বদলী হয়ে গত ২৭ ডিসেম্বর যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে যোগদান করেন। তিনি যোগদান করার পর কারাগারের অভ্যন্তরে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতি তার চোখে পড়েন।

তিনি কারাগারকে মাদক ও দূর্নীতিমুক্ত করতে সামান্য কয়েকজন কর্মকর্তা ও সদস্যদের সাথে নিয়ে মাঠে নেমে পড়েন। তিনি কারাগারের অভ্যন্তরে অভিযান চালিয়ে গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেন। কারাগারে থাকা সিসি টিভির মাধ্যমে তিনি দেখতে পান কারাগারের পূর্ব পাশের ওয়ালের ৭নং পোষ্ট থেকে গত ৭ জানুয়ারী বেলা সাড়ে ১১ টায় কারাগারে কর্মরত কারারক্ষী নাদিম মাহমুদ গাঁজার পুটলা ছুড়ে মারে কারাগারের ওয়ালের বাইরে থেকে ভিতরের দিকে।

গাঁজার পুটলা ভিতরে পড়ার পর কারাগারের ভিতরে থাকা কয়েদী আসামী উক্ত গাঁজার পুটলা খোঁজা খুঁজির এক পর্যায় জেলার সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে দেখে কারাগারের ভিতরে অভিযান চালিয়ে উক্ত গাঁজার পুটলা উদ্ধার করে। এ সময় সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে কারারক্ষী নাদিম মাহমুদকে সনাক্ত করে।

নাদিম মাহমুদকে হাজির করা হলে উক্ত কারারক্ষী এ ঘটনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। কারাগারের অভ্যন্তরে বাইরে থেকে গাঁজার পুটলা ছুড়ে মারার অভিযোগে নাদিম মাহমুদকে সাময়িক সাসপেন্ড করে মেহেপুর জেলা কারাগারে সংযুক্ত করা হয়েছে। জেলার তুহিন কান্তি খান আরো জানান,মাদকদ্রব্য সরবরাহের অভিযোগে অভিযুক্ত কারারক্ষী নাদিম মাহমুদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে।

তাছাড়া, অত্র কারাগারের মধ্যে ভিআইপি দু’টি ওয়ার্ড খুলে মাদকের ছড়াছড়িসহ নানা অনিয়মের অভিযোগের কারণে ওয়ার্ড দু’টি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। উক্ত ভিআইপি ওয়ার্ডগুলোতে মাদকদ্রব্য সেবনসহ নানা অনিয়ম চলে আসছিল।

তাছাড়া,কারাগারের দর্শনার্থীদের সাক্ষাতের কক্ষে গ্রীলের ফাঁকা দিয়ে লোহার তারের সিঁকের মাধ্যমে কর্মরত কারারক্ষীদের প্রত্যক্ষ ও পরো্ক্ষ সহযোগীতায় বাইরে থেকে গাঁজার পুটলা ভিতরে প্রবেশের সময় উক্ত লোহার তারের সিক উদ্ধার করে। তিনি কারাগারের ভিতরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে অভিযান চালিয়ে গাঁজা উদ্ধারসহ দূর্নীতির আখড়া ভেঙ্গে দেয়।

তাছাড়া,কারাগারকে মাদক মুক্ত করতে তিনি তার এই অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষনা দেন। তিনি যত দিন অত্র কারাগারে দায়িত্ব পালন করবেন ততদিন এই কারাগারে মাদক মুক্ত করতে যা করার প্রয়োজন তিনি তাই করবেন বলে জানান। তার সাথে আলাপ কালে আরো জানা যায়,অত্র কারাগারে ধারণ ক্ষমতা ১৯১৯জন হলে ১৬ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১ হাজার ৪শ’ ৫০ জন হাজতি কয়েদি অবস্থান করছিলেন। এর মধ্যে ১ হাজার ৩শ’ ৯১জন পুরুষ বন্দি ও ৫৯ জন নারী বন্দি।

অমৃতবাজার/শিমুল/এএস