ঢাকা, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০ | ১৫ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বিড়ালের জীবন বাঁচাতে ফায়ার সার্ভিস


যশোর সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১১:১৭ এএম, ০৬ জানুয়ারি ২০২০, সোমবার | আপডেট: ১১:১৯ এএম, ০৬ জানুয়ারি ২০২০, সোমবার
বিড়ালের জীবন বাঁচাতে ফায়ার সার্ভিস ছবি: সংগৃহীত

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তিনতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার এসির পাশেই একটি বিড়াল শুয়ে মিউ মিউ করে ডাকছে। আর নিচে দাঁড়িয়ে থাকা নাজমা খাতুনের চোখের কোণে পানি ছল ছল করছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বিড়ালটিকে উদ্ধার করে যখন তার কোলে তুলে দেয় তখন তার চোখ বেয়ে পড়ে আনন্দ অশ্রু। আনন্দে উচ্ছাসিত নাজমা খাতুন বিড়ালটিকে কোলে নিয়ে আদর করতে থাকেন।

এটা যেন সন্তানের প্রতি মায়ের ভালোবাসা। কারণ বিড়ালটিকে মা বলে ডাকেন তিনি। বিড়ালের প্রতি তার বিরল ভালোবাসা দেখে অনেকেই মুগ্ধ হন।

যশোর শহরের পূর্ববারান্দিপড়ার জাকির হোসেন স্ত্রী নাজমা খাতুন জানান, বিড়ালটির লালন পালনের মধ্যে আমি অনেক সুখ খুঁজে পাই। তাকে আমি মা বলে ডাকি। আড়াই বছর ধরে বিড়ালটিকে পরম মমতায় আগলে রেখেছি। নিয়মিত শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করানো হয়। ভাত, মাছ, মাংস দুধসহ অন্যান্য খাবার খাওয়ানো হয় তাকে। অসুস্থ হলে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া, সময়মতো ওষুধ খাওয়ানো সবকিছুই করা হয়। রাতে আমার সাথে এক বিছানায় ঘুমায়। মা বলে ডাকলেই বিড়ালটি আমার কাছে ছুটে আসে। বিড়ালটি হারিয়ে যেনো নিজেকেই হারিয়ে ফেলেছিলাম।

নাজমা খাতুন আরো জানান, শনিবার সকালে পশু হাসপাতাল থেকে বিড়ালটিকে ভ্যাকসিন দিয়ে সরাসরি চলে আসি যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক আত্মীয়কে দেখতে। রোগীর সাথে কথা বলার সময় কোল থেকে বিড়ালটি নেমে যায়। কিছু সময় পর দেখতে পাই ওয়ার্ডের মধ্যে বিড়ালটি নেই। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান মেলাতে পারিনি।

জাকির হোসেন জানান, বিড়ালটিকে হারানোর পর থেকে নাজমা কাঁদতে থাকেন। রোববার সকালে আমরা হাসপাতালে এসে বিড়ালটিকে খুঁজতে থাকি। এ সময় দেখতে পায় তৃতীয়তলার দ্বিতীয় তলায় বাইরের পাশে লাগানো এসি পাশে শুয়ে বিড়াল মিউ মিউ করে ডাকছে। নামতে পারছে না বিড়ালটি। ওই সময় নাজমা সেখানে রেখে আমি ফায়ার সার্ভিস অফিসে গিয়ে কর্মকর্তাদের বিষয়টি খুলে বলি। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বিড়ালটি উদ্ধার করে আমার স্ত্রীর কোলে তুলে দেন। ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞা প্রকাশ করেন জাকির হোসেন ও নাজমা বেগম।

যশোর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার গোলাম কিবরিয়া জানান, বিড়াল উদ্ধারটি ছিলো মূলত মানবিক কারণে। সাধারণ মানুষ বিড়াল ভাবলেও নাজমা খাতুনের কাছে মা। ঘটনার ব্যাখ্যা শুনে বিড়াল উদ্ধারে হাসপাতালে যাই। ভবনের দেয়ালে মই লাগিয়ে বিড়ালটি উদ্ধার করে নাজমার কোলে তুলে দিয়েছি। বিড়ালের প্রতি বিরল ভালোবাসা দেখে আমার মতো অনেকেই অবাক হয়েছেন।

হাসপাতালের জমাদ্দার সরদার ইমরান হাসান জানান, পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডের উত্তরপাশের দেয়ালে লাগানো এসি মেশিনের পাশে বিড়ালটি ছিলো। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বিড়ালটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেছে।

অমৃতবাজার/আরএইচ