ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০ | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

এটাই মেয়ের ‘শেষ বায়না’ জানতেন না বাবা


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮:৫২ এএম, ০৬ জানুয়ারি ২০২০, সোমবার
এটাই মেয়ের ‘শেষ বায়না’ জানতেন না বাবা

সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছিল সারিকা। মা-বাবার কাছে তার বায়না ধরেছিল মামা বাড়ি বেড়াতে যাওয়ার। বায়না পূরণে মেয়েকে নিয়ে রোববার সকালে (০৫ জানুয়ারি) সকালে নিজেই সিএনজি চালিয়ে কিশোরগঞ্জ যান বাবা ওয়াসিম মিয়া। সঙ্গে ছিল স্ত্রী রুমা, মেয়ে সারিকা ও ছোট ছেলে। দুপুরে সেখান থেকে সিএনজি চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন ওয়াসিম।

কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কের কটিয়াদী উপজেলার নিজ বাড়ি বানিয়াগ্রাম বাজার এলাকায় পৌঁছালে তাদের সিএনজিকে চাপা দেয় একটি বাস। আর এতেই স্বপ্ন ভাঙে ওয়াসিমের। সকল আনন্দ এক মুহূর্তে অশ্রুতে পরিণত হয়। প্রাণ হারায় মেধাবী সারিকা। ছোট্ট দেহটি ছিন্নভিন্ন করে দেয় দানব বাসের চাকা। এ সময় সারিকার মা-বাবা ও ছোট ভাই সকলেই আহত হয়।

কটিয়াদী হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম জানান, কটিয়াদী উপজেলার মসুয়া গ্রামের বাসিন্দা ওয়াসিম নিজের সিএনজি চালিয়ে স্ত্রী-কন্যাকে নিয়ে কিশোরগঞ্জে আত্মীয়ের বাড়ি বেড়ানো শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। ময়মনসিংহ থেকে শ্যামল ছায়া পরিবহনের একটি বাস ভৈরব যাচ্ছিল। বানিয়াগ্রাম বাজার এলাকায় ওয়াসিমের সিএনজিকে চাপা দেয় বাসটি। এতে সিএনজি থেকে ছিটকে পড়ে স্কুলছাত্রী সারিকা। সঙ্গে সঙ্গে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত হয় সে।

তিনি আরো জানান, গুরুতর আহত হন শিশুটির বাবা ওয়াসিম, মা রুমা ও ছোট ভাই। তাদেরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দেড় ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে। এ সময় সড়কের উভয় পাশে আটকা পড়ে শত শত যানবাহন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

নিহত সারিকা এবার মসুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে।

অমৃতবাজার/আরএইচ