ঢাকা, রোববার, ১৯ জানুয়ারি ২০২০ | ৬ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

গাছের সঙ্গে এ কেমন শত্রুতা?


এম আলমগীর, বাঁকড়া (ঝিকরগাছা) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১:০৯ পিএম, ০৪ ডিসেম্বর ২০১৯, বুধবার | আপডেট: ১১:২৩ পিএম, ০৪ ডিসেম্বর ২০১৯, বুধবার
গাছের সঙ্গে এ কেমন শত্রুতা?

 

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়নের মাটশিয়া গ্রামে পারবারিক কলহের জের ধরে এক কৃষকের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কর্তনসহ তরকারির ক্ষেত নষ্ট করে দিয়েছে প্রতিপক্ষরা। এ ঘটনায় বাঁকড়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘুষ বাণিজ্য করে আইনগত ব্যবস্থা না নেয়ায় ঝিকরগাছা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কৃষক শরিফুল ইসলাম।

জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে পারবারিক কলহের জের ধরে মাটশিয়া গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে শরিফুল ইসলাম ও আব্দুর রবের ছেলে আহসান কবীর ওরফে হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে গোলযোগ বাধে। এ সময় আহসান কবীর, তার মা তোহরা বেগম ও বোন ইভা খাতুন চাইনিজ কুড়াল ও লাঠি নিয়ে শরিফুল ইসলামকে মারতে আসে। পরে স্থানীয় প্রতিবেশীদের সাহায্যে শরিফুল ইসলাম প্রাণে বেঁচে যান।

পরে বিষয়টি নিয়ে বাঁকড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে অভিযোগ করলে এএসআই মিজানুর রহমান ঘটনার তদন্তে আসেন। ঘটনাস্থলে এসে আহসান কবীর ও তার মায়ের নিকট থেকে এএসআই মিজানুর রহমান ২০ হাজার টাকা গ্রহণ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত না করে আসামির পক্ষ নিয়ে কথা বলেছেন বলে অভিযোগ করেছেন শরিফুল ইসলাম ও তার ভাবি বকুল খাতুন।

পুলিশের কাছে অভিযোগ করায় ঘটনার পরের দিন অভিযুক্তরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে। এদিন রাতে শরিফুল ইসলামের বড় ভাই মাহাবুর রহমান বিশ্বাসের মাঠে লাগানো ২৫০টি মেহগনি গাছ, ২০টি পেঁপে গাছ, মানকচু ক্ষেত ও সাত কাঠা জমির পটল ক্ষেত কেটে দিয়েছে আহসান কবীর গংরা। এতে তার দুই লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষক শরিফুল।

এ ব্যাপারে মাহাবুর রহমান বিশ্বাস জানান, তার উপার্জনের আর কোনো উৎস নেই। এই চাষেই তার সংসার চলে।

শরিফুল ইসলাম জানান, আমাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে আহসান চাইনিজ কুড়াল নিয়ে এসেছিল। প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছি।

আহসান কবীরের সৎ মা বকুল বেগম জানান, আহসান শিবিরের একজন কট্টরপন্থী সমর্থক। সে বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম ও সরকার বিরোধী কার্যকলাপ চালায়। সে বিভিন্ন অপকর্ম করে বেগায়। পুলিশকে বলেও কোনো কাজ হয় না। ওরা টাকা দিয়ে পুলিশকে পক্ষে নিয়ে নেয়। মঙ্গলবারও একই কাজ হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে বাঁকড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই মিজানুর রহমান টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, ওইদিন সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় বিষয়টি নিস্পত্তি করা সম্ভব হয়নি। দ্রুত দুই পক্ষকে ডেকে বিষয়টি নিস্পত্তি করে দেয়া হবে।

অমৃতবাজার/এএস