ঢাকা, রোববার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

দুই ভাই হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৯:৫৭ এএম, ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, সোমবার
দুই ভাই হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় চাঞ্চল্যকর স্কুলশিক্ষক মুজিবর রহমান ও তার ভাই হত্যা মামলায় আদালত ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এ ছাড়া ৭ আসামির যাবজ্জীবন ও একজনের ১০ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চারজনকে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডও দেয়া হয়েছে। রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক অরূপ কুমার গোস্বামী এ রায় দেন। এ সময় ৩ পলাতক আসামি ছাড়া বাকিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।


মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন- ভেড়ামারা উপজেলার গোলাপনগর গ্রামের নরুল ইসলামের ছেলে কমল হোসেন মালিথা, ফকিরাবাদ গ্রামের কাবুল প্রামাণিকের দুই ছেলে কামরুল প্রামাণিক ও সুমন প্রামাণিক, একই গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে নয়ন শেখ।

এ ছাড়া ফকিরাবাদ গ্রামের ছের আলীর দুই ছেলে নজরুল শেখ ও আবদুর রহিম ওরফে লালিম শেখ, আকুল মণ্ডলের ছেলে মাহফুজুর রহমান ওরফে কবি, বেনজির প্রামাণিকের ছেলে হৃদয় আলী (পলাতক), নাজির প্রামাণিকের ছেলে সম্রাট আলী প্রামাণিক (পলাতক), গোলাপনগর এলাকার মৃত নরুল হক মালিথার দুই ছেলে জিয়ারুল ইসলাম ওরফে সিহাব মালিথা ও আশরাফ মালিথাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও এক বছরের জেল দেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া গোলাপনগর এলাকার আইয়ুব আলীর ছেলে আরিফ মালিথাকে ১০ বছর কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে ১ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

কুষ্টিয়া জজ কোর্টের পিপি অনুপ কুমার নন্দী বলেন, সরকারপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আদালত ন্যায়বিচার দিয়েছেন। নিহতদের পরিবার এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পেয়েছে বলে আমরা মনে করছি।

মামলার বাদী জাহারুল ইসলাম বলেন, রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। এখন দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানচ্ছি। আদালত সূত্র জানায়, নিহত স্কুলশিক্ষক মুজিবর রহমানের ৭ম শ্রেণিপড়–য়া নাতনিকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করত এলাকার বখাটে আরিফুল ইসলাম।

বিষয়টি নিয়ে আরিফুলকে সতর্ক করেন মুজিবরের ভাই রতন। এতে আরিফসহ তার বন্ধুরা ক্ষিপ্ত হয়। ২০১৬ সালের ২৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় স্থানীয় মসজিদে মাগরিবের নামাজ শেষে ফেরার পথে আসামিরা মুজিবর ও তার ভাই মিজানুর রহমানকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান শিক্ষক মুজিবর।

পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় মিজানুরের। এ ঘটনায় মুজিবরের ছেলে জাহারুল ইসলাম বাদী হয়ে ভেড়ামারা থানায় মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত করে আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়। দীর্ঘদিন শুনানি শেষে রোববার রায় প্রদান করলেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক অরূপ কুমার গোস্বামী।


অমৃতবাজার/ কেএসএস