ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মাদকাসক্ত ৩১০ তরুণকে খেলার মাঠে ফেরালেন ইউএনও


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০২:৫৬ পিএম, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার
মাদকাসক্ত ৩১০ তরুণকে খেলার মাঠে ফেরালেন ইউএনও

নাটোরের গুরুদাসপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. তমাল হোসেন ৩১০ তরুণকে স্মার্টফোন ও মাদক ছেড়ে খেলার মাঠে ফিরিয়ে এনেছেন বলে জানা গেছে। এলাকার তরুণদের সুস্থ ও সুন্দর জীবনের দিকে ফেরাতে এমন উদ্যোগ নিয়েছেন ইউএনও তমাল হোসেন।


স্থানীয় কয়েকজন সাবেক খেলোয়াড়ের সহায়তায় বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক সভা করে এসব তরুণ খেলোয়াড়কে মাঠে ফেরাতে উদ্বুদ্ধ করেন। তরুণ খেলোয়াড়দের মাঠে ফেরানোর পাশাপাশি প্রবীণ ও সাবেক খেলোয়াড়দেরও মাঠে ফিরিয়ে আনেন তিনি। সাবেক এসব খেলোয়াড় দিয়েই ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলার প্রশিক্ষকের দায়িত্ব দিয়েছেন। খেলোয়াড়দের জন্য সরবরাহ করেছেন ফুটবল ও ক্রিকেটসামগ্রীসহ বিভিন্ন খেলাধুলার সরঞ্জাম। নিয়মিত চলছে তাদের চর্চা।

এ কাজে তিনি সাবেক খেলোয়াড়দের সহযোগিতা নিয়েছেন। ইউএনওর এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন ক্রীড়ামোদীসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ। তিনি সাবেক খেলোয়াড়দের দিয়েছেন সম্মাননা।

স্থানীয়রা জানান, ইউএনও তমাল হোসেনের এই উদ্যোগের কারণে গুরুদাসপুরের ঝিমিয়ে পড়া ক্রীড়াঙ্গনে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছে।

নাটোর জেলা ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় মিজানুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন পর তিনি যে সম্মাননা পেয়েছেন, তা তাকে অনুপ্রাণিত করেছে। ইউএনওর এই উদ্যোগে উপজেলার ঝিমিয়ে পড়া প্রায় সব কটি খেলার মাঠে এখন প্রাণের স্পন্দন ফিরে পেয়েছে। তিনি নিজে খুবজীপুর মাঠে ৭০ জন তরুণ ফুটবলারকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। এ ছাড়া সাবেক ফুটবলার পলান ঘোষের পরিচালনায় বিলচলন শহীদ শামসুজ্জোহা সরকারি কলেজ মাঠে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছেন। তার কাছে প্রশিক্ষণ নিয়ে রোকনুজ্জামান নামে এক ফুটবলার অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় দলের অন্যতম খেলোয়াড় হিসাবে রয়েছে।

এ ছাড়া বিকেএসপিসহ বিভিন্ন ক্লাব, জেলা ও বিভাগীয় টিমেও তার ছাত্র রয়েছে। বর্তমানে ২০০ প্রশিক্ষণার্থী রয়েছে তার কাছে।

ইউএনও তমাল হোসেন বলেন, শিক্ষার্থী আর উঠতি বয়সী তরুণদের যে সময়ে খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকার কথা, সে সময় তারা স্মার্টফোন হাতে অলস সময় কাটায়। ফলে তারা জড়িয়ে পড়ছে সাইবার ক্রাইমে।

এ ছাড়া মাদকাসক্ত ও নেশাগ্রস্ত হয়ে বিভিন্ন অপরাধে তারা জড়িয়ে পড়ছে। খেলাধুলার মধ্যে থাকলে তারা একটা রুটিনের মধ্যে চলবে। ফলে তারা বিভিন্ন অপরাধ প্রবণতা থেকে দূরে থাকবে বলে তিনি এ ধরনের উদ্যোগ হাতে নিয়েছেন। সেই উপজেলাব্যাপী এই উঠতি বয়সী ছেলেদের তিনি মাঠমুখী করে খেলাধুলায় আসক্ত করতে চান। তার এ উদ্যোগে সাড়া দিয়ে ইতিমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ৩১০ যুবক স্মার্টফোন ছেড়ে খেলার মাঠে ফিরেছে।

তিনি আরও জানান, গুরুদাসপুর উপজেলায় ১০টি বড় খেলার মাঠ রয়েছে। দীর্ঘদিন খেলাধুলা না করায় এগুলো পরিত্যক্ত ও গোচারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছিল।

অমৃতবাজার/ কেএসএস