ঢাকা, শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বগুড়ার নারীকে খুঁটিতে বেঁধে অমানবিক নির্যাতন


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০২:৫৩ পিএম, ০৪ নভেম্বর ২০১৯, সোমবার
বগুড়ার নারীকে খুঁটিতে বেঁধে অমানবিক নির্যাতন

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় স্বামীর দাবি করতে আসা নির্মাণ শ্রমিক শিল্পী খাতুনকে (৪০) চোর সাজিয়ে প্রকাশ্যে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে।


রোববার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের পরিবর্তে ‘হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিটের ধারায়’ মামলা নেয়া হয়। নির্যাতিত শিল্পী খাতুনের ভাই মামুন হোসেন সাদা কাগজে স্বাক্ষর করেছেন আর পুলিশ এজাহার লিখেছে।

রোববার মামলাটি রেকর্ড করার পর প্রধান আসামি মো. রাফিকে (২৬) গ্রেফতার করা হয়। সোমবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

শিবগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, রাফি ওই নারীকে বিয়ে বা সংসার করার কথা অস্বীকার করেছেন। ফুলকপির ক্ষেত নষ্ট ও চুরি করায় নারীরা শিল্পীকে বেঁধে রেখেছিলেন।

বগুড়া সদরের পলাশবাড়ী গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের মেয়ে শিল্পী খাতুন।

শিল্পী খাতুনের অভিযোগ, ঠেঙ্গামারা এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনে শ্রমিকের কাজ করেন তিনি। সেখানে শিবগঞ্জ উপজেলার অনন্তবালা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে রাজমিস্ত্রি মো. রাফির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

৮-৯ মাস আগে তারা বিয়ে করেন এবং ঠেঙ্গামারা এলাকায় ভাড়া বাড়িতে দম্পতি হিসেবে বসবাস করছিলেন। স্বামী রাফি ১৫-২০ দিন ধরে তার খোঁজখবর না নেয়ায় তিনি শুক্রবার সকালে শিবগঞ্জের অনন্তবালা গ্রামে ঘর ভাড়ার টাকা নিতে রাফির বাড়িতে যান।

তখন রাফি ও তার বাড়ির লোকজন জমি থেকে কপির গাছ উপড়ে তোলেন এবং তাকে চুরির অপবাদ দেন। এর পর তাকে জমিতে বাঁশের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করেন।

এদিকে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ শিল্পীকে উদ্ধার করে থানায় আনে এবং ফসল চুরি ও নষ্ট করায় তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে নেয়ার চেষ্টা করে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর কবির ঘটনাটি জেনে নিয়মিত মামলা নিতে পুলিশকে পরামর্শ দেন। কিন্তু শিবগঞ্জ থানা পুলিশ অজ্ঞাত কারণে মামলা ও নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে ওই নারীকে ছেড়ে দেয়।

রোববার সকালে শিল্পী খাতুনকে প্রকাশ্যে জমির মধ্যে বাঁশের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখে নির্যাতনের ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে।

গণমাধ্যমকর্মীরা সোচ্চার হলে পুলিশ ওই নারীর ভাই মামুন হোসেনকে থানায় ডেকে এনে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়। এর পর পুলিশ তাতে শুধু ‘হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিটের ধারায়’ মামলা লিখে তা রেকর্ড করে।

এজাহারে রাফিকে প্রধান আসামি করে আরও অজ্ঞাত ৫-৬ জন আসামি করা হয়। এর পর পুলিশ রাফিকে গ্রেফতার করে।

এজাহার প্রসঙ্গে মামুন হোসেন জানান, রোববার দুপুরে পুলিশ তাকে থানায় ডেকে নিয়ে যায়। এর পর কম্পিউটারে কম্পোজ করা কাগজে স্বাক্ষর নেয়।

মামলায় কতজনকে আসামি করা হয়েছে তা জানা নেই শুনেছি পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছে।

অমৃতবাজার/ কেএসএস