ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২০ | ২৪ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

প্রেমের অভিনয়ে ২০ নারীকে ধর্ষণ অবশেষে গ্রেফতার


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৯:৫৬ এএম, ৩১ অক্টোবর ২০১৯, বৃহস্পতিবার
প্রেমের অভিনয়ে ২০ নারীকে ধর্ষণ অবশেষে গ্রেফতার

নাম তার আশরাফুল মোল্যা (৩৮)। সুমন আর্মি, সুমন হাসান, সুমন মোল্যা নামেও তিনি পরিচিত। সরকারি চাকুরে পরিচয় দিয়ে প্রেমের অভিনয় করে নারীদের ধর্ষণ, ধর্ষণের সেই দৃশ্য ভিডিও করে অর্থ হাতিয়ে নেয়াই তার নেশা ও পেশা। সম্প্রতি একটি ধর্ষণ মামলার তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ এই ভয়ংকর অপরাধীর মুখোশ উন্মোচন করে।

নড়াইল সদর উপজেলার বোড়ামারা গ্রামের আকবর মোল্যার ছেলে আশরাফুল মোল্যার প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়ে ইতিমধ্যেই অন্তত ২০ জন নারী ধর্ষিতা হয়েছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আশরাফুল বলেছেন, ধর্ষণের দৃশ্য ভিডিও করে পরে তাদের কাছ থেকেই অর্থ হাতিয়ে নিতেন।

সম্প্রতি যশোরের বাঘারপাড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। ওই মামলার তদন্তে নেমে মোবাইল ফোনের সূত্র ধরেই ‘সিরিয়াল ধর্ষক’ আশরাফুল মোল্লাকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে যশোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) তৌহিদুল ইসলাম এ সময় বলেন, বাঘারপাড়া থানার একটি ধর্ষণ মামলার তদন্ত করতে গিয়ে আশরাফুল মোল্যাকে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি সেনাবাহিনীর সদস্য ও সরকারি চাকরিজীবী পরিচয়ে প্রতারণা করছিল।

মেয়েদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার নামে প্রতারণার মাধ্যমে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করত। পরে সেই ভিডিও ধারণ করে ধর্ষিতার কাছ থেকে টাকা দাবি করত। সম্প্রতি এক ছাত্রীকে একই কায়দায় ধর্ষণের পর টাকা দাবি করেছিল।

ঝিকরগাছার ওই ছাত্রীর বাবা ৩ অক্টোবর বাঘারপাড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলার এজাহারে তিনি বলেছেন, প্রেমের অভিনয় করে আমার মেয়েকে বাঘারপাড়া থানার জামদিয়া এলাকায় নিয়ে ধর্ষণ করেছে। এজাহারে ধর্ষকের নাম-পরিচয় উল্লেখ ছিল না।

পরে মামলার তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ ধর্ষিতার কাছ থেকে ওই যুবকের একটি মোবাইল ফোন নম্বর পায়। ওই মোবাইল ফোন নম্বরের সূত্র ধরেই আশরাফুল মোল্যাকে শনাক্ত করা হয়। সোমবার রাত আড়াইটার দিকে যশোর শহরের শংকরপুর জমাদ্দারপাড়া এলাকার ভাড়া বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাকে।

তার কাছ থেকে সেনাবাহিনীর ভুয়া আইডি কার্ড, তিনটি ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র, সেনাবাহিনীর একটি করে ক্যাপ, নেমপ্লেটযুক্ত জ্যাকেট, সোয়েটার, ১৩টি সিম কার্ড, ধর্ষণের ভিডিও ধারণকৃত একটি মেমোরি কার্ড ও দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় প্রতারণার ৪টি মামলা রয়েছে।


পুলিশের এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আশরাফুল দোষ স্বীকার করেছে যে ২০১১ সাল থেকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে মেয়েদের সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন এবং তার ভিডিও করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আদায় করে আসছিল।

এ পর্যন্ত ২০ জনকে সে ধর্ষণ করেছে। তাকে কোতোয়ালি থানায় প্রতারণার মামলা দিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল আল নাসের, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অপু সরোয়ার, জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ওসি মারুফ আহমেদ।

অমৃতবাজার/ কেএসএস