ঢাকা, শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯ | ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বিয়ে করে কারাগারে গেল কিশোর দম্পতি


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৯:২৫ এএম, ২১ অক্টোবর ২০১৯, সোমবার
বিয়ে করে কারাগারে গেল কিশোর দম্পতি

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে অ্যাফিডেফিটের মাধ্যমে বাল্যবিয়ে এবং গোপনে সংসার করার অভিযোগে কিশোর-কিশোরী দম্পতিকে আটক করে কারাগারে পাঠিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রোববার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের জয়নদ্দিন মোড় এলাকার একটি বাড়ি থেকে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ তাদের আটক করে।

দুপুরে গোয়ালন্দের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবদুল্লাহ আল-মামুন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাদের এক মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

পুলিশ জানায়, উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের মিনাজ উদ্দিনপাড়ার তোতা পাটাদারের মেয়ে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী তানিয়া আক্তারের (১৪) সঙ্গে পার্শ্ববর্তী সোহরাব মণ্ডলপাড়ার দুলাল ফকিরের ছেলে রাসেল ফকিরের (১৯) সঙ্গে সম্প্রতি প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। রাসেল গোয়ালন্দ আব্দুল হালিম মিয়া কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র।

গত ১৭ অক্টোবর ফরিদপুরের নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে গিয়ে নোটারিয়ান অ্যাডভোকেট এমএ সালামের সহায়তায় তারা তাদের বিবাহের অ্যাফিডেফিট করান। অ্যাফিডেফিটের পর দূর সম্পর্কের আত্মীয় উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের জয়নদ্দিনের মোড় এলাকার জনৈক আলিম উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেয়।

সেখানে অবস্থানকালে গোপন সংবাদ পেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার এসআই ইকবাল আহম্মেদ তাদের আটক করেন। এ সময় ওই বাড়ির আশ্রয়দাতা হিসেবে বাড়ির গৃহিণী আলিম উদ্দিনের স্ত্রী ডালিমা বেগমকেও আটক করা হয়।

রোববার দুপুরে গোয়ালন্দের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবদুল্লাহ আল-মামুনের আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাদের এক মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, অসচেতন বাবা-মাসহ অভিভাবকেরা নিজ জেলা ছেড়ে অন্যত্র গিয়ে কিছু অসাধু আইনজীবীর মাধ্যমে বিবাহ অ্যাফিডেফিট করিয়ে এনেছে। এটাকেই তারা বিয়ে মনে করে এলাকায় একত্রে বসবাস করতে শুরু করে। কিন্তু এটা আইনত বিয়ে নয় বরং গুরুতর অপরাধ।

অমৃতবাজার/ কেএসএস