ঢাকা, সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সিরিয়াল কিলার বাবু গ্রেফতার: একাই দশ নারীকে হত্যা


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৮:২৯ এএম, ২১ অক্টোবর ২০১৯, সোমবার
সিরিয়াল কিলার বাবু গ্রেফতার: একাই দশ নারীকে হত্যা

নাটোরে ১০ নারীকে হত্যাকারী সিরিয়াল কিলার আনোয়ার ওরফে আনার বাবু ওরফে কালুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাছ শিকারির বেশে টাকার নেশায় বাবু শেখ একের পর এক ১০ নারীকে হত্যা করে।


২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত তিনি ৯টি ঘটনায় ১০ নারীকে হত্যা করেছেন। শুধু হত্যা নয়, হত্যার আগে স্কুল শিক্ষার্থীসহ দুই নারীকে ধর্ষণও করে। রোববার নাটোর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি একেএম হাফিজ আকতার এ তথ্য জানান।

পুলিশ জানায়, ২০১৩ সালে নলডাঙ্গার বাসুদেবপুরে বৃদ্ধ রোকেয়া বেগমকে হত্যার মধ্য দিয়ে তিনি রক্ত খেলায় মেতে উঠেন। তিনি মামলায় চার্জভুক্ত আসামি হলেও পুলিশ তাকে কোনোভাবেই ধরতে পারেনি। এরপর লালপুর উপজেলার চংধুপইলের আনসার সদস্য সাহেরা খাতুন দুর্গাপূজার দায়িত্ব পালনের সময় তার কানের দুল এবং গলায় স্বর্ণের চেইন দেখে লোভ হয়। পরে বাবু শেখ ও তার সহযোগীরা রাতের কোনো একসময় ওই আনসার সদস্যকে হত্যা করে।

ওইদিন রাতেই বাগাতিপাড়ার জয়ন্তীপুরে বৃদ্ধ রেহেনা বেগমকেও তিনি হত্যা করেন। এরপর আনসার সদস্যের মোবাইল ফোনে বাবু শেখ অন্য একজনের সঙ্গে কথা বলেন। এই কললিস্টের সূত্র ধরেই শনিবার বাবু শেখকে নাটোর রেলস্টেশন থেকে ডিবি পুলিশ আটক করে। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে বাবু শেখ একের পর এক নারীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, বাবু শেখ নলডাঙ্গার বাঁশিলা গ্রামে ধর্ষণসহ হালিমা খাতুন ওরফে শারমিন এবং তার প্রতিবন্ধী শিশু আবদুল্লাহকে হত্যা করেন। এছাড়া বাঁশিলা পূর্বপাড়ার আমেনা বেওয়া, ২০১৩ সালে নলডাঙ্গার বাসুদেবপুরের রোকেয়া বেগম, ২০১৪ সালে নলডাঙ্গা উপজেলার স্কুলছাত্রী মরিয়ম খাতুন লাবনীকে ধর্ষণের পর হত্যা, টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের বাঁশতৈলের রূপবানু, টাঙ্গাইলের সফিপুর উপজেলার তক্তারচালা এলাকার সমলা এবং নওগাঁ জেলায় এক নারীকে হত্যা করেন। বাবু শেখ হত্যা মামলায় এক বছর জেল খেটে জামিনে বেরিয়ে আসেন।

নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা বলেন, বিভিন্ন সময় নাটোরে হত্যাকাণ্ড ঘটে আসছে, কিন্তু কোনো মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করা যাচ্ছিল না। বাবু শেখ বিভিন্ন স্টেশনে যাযাবরের মতো রাত্রিযাপন করতেন। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করার পর তিনি সব হত্যাকাণ্ডের বিষয় স্বীকার করেছেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিআইজি একেএম হাফিজ আকতার আরও বলেন, বাবু শেখ সিরিয়াল কিলার। তিনি নারীদের ওপর কোনো কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে থাকতে পারেন। তবে তিনি যেসব হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন, সবই একই ধরনের।

বাবু শেখ জানান, তার স্ত্রী, দুই মেয়ে এবং এক ছেলে রয়েছে। সচ্ছলভাবে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবনযাপনের জন্য মাছ শিকার করে সংসার চলত; কিন্তু তার সহযোগীরা তাকে টাকার লোভ দেখিয়ে ২০১৩ সালে নলডাঙ্গার বাসুদেবপুরের রোকেয়া বেগমকে হত্যা করান। এর মধ্য দিয়ে তার এই কিলিং শুরু হয়।

এরপর ঢাকায় চা বিক্রির জন্য চলে যান। আবার কোনো হত্যার পরিকল্পনা হলে তার সহযোগীরা তাকে ফোন করলে তিনি চলে আসতেন। এভাবে তিনি একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। নাটোর ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈকত হাসান বলেন, সিরিয়াল কিলার বাবু শেখকে রিমান্ডে নেয়া হবে।

অমৃতবাজার/ কেএসএস