ঢাকা, সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

নিজের ছেলেকে লুকিয়ে রেখে অপহরণ নাটক বাবার


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৮:১৩ এএম, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, শুক্রবার
নিজের ছেলেকে লুকিয়ে রেখে অপহরণ নাটক বাবার

পৈচাশিক কায়দায় পিতার হাতে শিশু তুহিন হত্যাকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় ছেলেকে লুকিয়ে রেখে অপরহণ নাটক সাজিয়েছিলেন পিতা। কিন্তু সে নাটকের যবনিকা টেনেছে পুলিশ।


অপহরণ নাটকের ১১ দিন পর পিতা মো. আজিজুর রহমান ওরফে হেকমত আলীর হেফাজত থেকে রিমন মিয়া নামে ৯ বছরের ওই শিশুপুত্রকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মো. আজিজুর রহমান ওরফে হেকমত আলী। তিনি উপজেলার বালিজুরী ইউনিয়নের পিরিজপুর গ্রামের মৃত হাদিস মিয়ার ছেলে।

বৃহস্পতিবার আজিজুরকে ভ্রাম্যমাণ আদালত গণউপদ্রব সৃষ্টির অপরাধে সাজা দিয়ে জেলা কারাগারে পাঠিয়েছেন।

পুলিশ জানায়, নিজ শিশু সন্তানকে আত্মীয়ের বাড়িতে রেখে অপহরণ নাটক সাজান মো. আজিজুর রহমান ওরফে হেকমত আলী। সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার (সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. মিজানুর রহমানের দিকনির্দেশনায় এ ঘটনার ১১ দিন পর সুনামগঞ্জের আবদুজ জহুর সেতুর মুখ থেকে বুধবার রাতে শিশু রিমনকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় ওই শিশু পিতা আজিজুর রহমান ওরফে হেকমকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার পিরিজপুর গ্রামের আজিজুর রহমানের জামেনা বেগম ও লিপিয়া বেগম নামে দুই স্ত্রীকে ঘিরে পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছে গত ২২ বছর ধরে। প্রথম স্ত্রী জামেনার গর্ভের ৪ মেয়ে ও ১ ছেলে, দ্বিতীয় স্ত্রী লিপিয়ার গর্ভের ৩ মেয়ে ও ৬ ছেলে সন্তান রয়েছে।

প্রথম স্ত্রী পৃথক থাকলেও আজিজুর দ্বিতীয় স্ত্রীর লিপিয়ার সঙ্গেই জীবনযাপন করে আসছেন।

এদিকে প্রথম স্ত্রী জামেনা নিজে ও সন্তানদের নিয়ে দিনমজুরির আয়ের টাকায় কয়েকবছর পূর্বে আজিজুরের কিছু জমি ক্রয় করেন। কিন্তু সে জমি ভোগদখল করে আসছেন আজিজুর। সেই জমির দখল বুঝে নিতে গেলে শুরু হয় প্রথম-দ্বিতীয় স্ত্রীর পক্ষ থেকে আদালতে দায়ের করা হয় একে অপরকে ফাঁসানোর জন্য পাল্টাপাল্টি মামলা।

একপর্যায়ে জমির দখল বুঝিয়ে না দিতে প্রথম স্ত্রী জামেনা, তার সন্তান ও মেয়ে জামাইদের ফাঁসাতে গিয়ে আজিজুরের সহযোগিতায় দ্বিতীয় স্ত্রী লিপিয়া বেগম নিজের ৯ বছরের শিশুপুত্র রিমনকে আত্মীয়ের বাড়িতে রেখে অপহরণ নাটক সাজায়। পরে ৬ অক্টোবর তাহিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন দ্বিতীয় স্ত্রী লিপিয়া বেগম।

পরে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের দিকনির্দেশনায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শিশু রিমনের অবস্থান কিশোরগঞ্জের ভৈরবের চণ্ডীবের গ্রামে তার খালুর বাসায় শনাক্ত করেন অভিযোগের তদন্তপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাহিরপুর থানার এসআই মো. গোলাম মোস্তাফা।

মঙ্গলবার রাত থেকে মামলার তদন্তকারী অফিসার একদল পুলিশ নিয়ে ভৈরবের চণ্ডীবের গ্রাম হতে ভিকটিমকে উদ্ধার করতে গেলে চতুর গুণধর পিতা আজিজুর ফের নিজ শিশুপুত্র রিমনকে গুম বা হত্যার পরিকল্পনা আঁটতে থাকেন।

বুধবার সকালে খালুর বাড়ি থেকে রিমনকে অন্যত্র নেয়া হয়। রাতে বাসযোগে যাওয়ার পথে তাহিরপুর থানার ওসি মো. আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে সুনামগঞ্জ শহরের প্রবেশমুখ আবদুজ জহুর সেতুতে মামুন পরিবহন নামের একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে রিমনকে উদ্ধার ও আজিজুরকে গ্রেফতার করেন।

এ ঘটনায় বুধবার রাতেই আজিজুরকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. মুনতাসির হাসান ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে আজিজুরকে ১ মাসের কারাদণ্ড দেন।

অমৃতবাজার/ কেএসএস