ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯ | ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বাবার পর বিষধর সাপের ছোবলে দম্পতির মৃত্যু


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৫:৪৩ পিএম, ১১ অক্টোবর ২০১৯, শুক্রবার
বাবার পর বিষধর সাপের ছোবলে দম্পতির মৃত্যু

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাপে কাটা এক দম্পতির মৃত্যু হয়েছে।


শুক্রবার দুপুরের দিকে তারা মারা যান।

হতভাগা দম্পতি হলেন- নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার রামচরণপুর গ্রামের নূর ইসলাম (৩০) ও তার স্ত্রী মৌসুমী খাতুন (২৬)।

জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে সাপের ছোবলে নূর ইসলামের বাবা সিরাজুল ইসলামেরও মৃত্যু হয়।

নূরের চাচা আবদুর রহিম জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে নূর ও মৌসুমী ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। মশারির ভেতর ঢুকে সাপটি তাদের দুজনকেই কামড় দেয়। এর পর তাদের ঘুম ভেঙে গেলে তারা দেখেন, বিছানার ওপর একটি সাপ। পরে মাছ ধরার জাল দিয়ে সাপটিকে ধরা হয়।

এর পর তাদের দুজনকেই মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে সাপে কাটার কোনো ওষুধ না থাকার কারণে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের রামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

শুক্রবার ভোর ৬টায় তাদের সেখানে ভর্তি করা হয়। নূর হাসপাতালের ৪২ ও মৌসুমীকে ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডে রেখে এন্টিভেনম প্রয়োগ করা হয়।

কিন্তু দুপুর ১২টার দিকে একে একে দুজনই মারা যান।

আবদুর রহিম আরও জানান, ২৯ দিন আগে নূরের বাবা সিরাজুল ইসলামেরও মৃত্যু হয়েছে সাপে কেটে। বাড়িতে সাপে কাটার পর তাকে হাসপাতালে নেয়ারও সময় পাওয়া যায়নি। নূর ও মৌসুমীকে হাসপাতালে নেয়া হলেও বাঁচানো গেল না।

রামেক হাসপাতালে নূর ও মৌসুমীকে আনার পাশাপাশি সেই সাপটিও ধরে আনেন স্বজনরা।

রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বেলাল হোসেন দেখে জানান, সাপটির নাম ‘কমন ক্র্যাট’। এই সাপ ফনা তোলে না। কিন্তু গোখরার চেয়ে চার গুণ বেশি বিষধর। বালতিতে করে জালে জড়িয়ে আনা সাপটি দেখার পর তিনি এটিকে মেরে পুঁতে ফেলার নির্দেশ দেন।

নূরের চাচা আবদুর রহিম বলেন, মহাদেবপুরের হাসপাতালে সাপে কাটার ওষুধ নেই। সেখানে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিলে হয়তো নূর ও মৌসুমীকে বাঁচানো যেত।

রামেক হাসপাতালের চিকিৎসক বেলাল হোসেনও একই কথা উল্লেখ করে বলেন, মহাদেবপুর থেকে রামেক হাসপাতালের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার। কমপক্ষে দুই ঘণ্টার পথ। এই দুই ঘণ্টা আগে যদি নূর ও মৌসুমীকে এন্টিভেনম প্রয়োগ করা যেত, তা হলে তাদের বাঁচানোর সম্ভাবনা ছিল।

জানতে চাইলে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আ ম আখতারুজ্জামান বলেন, উপজেলা পর্যায়ে সাপে কাটা রোগীদের জন্য এন্টিভেনমের সরবরাহ নেই। আর এন্টিভেনম ছাড়া সাপে কাটা রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসাও হয় না। তাই তাদের এখানে সাপে কাটা রোগী গেলে নওগাঁ অথবা রাজশাহী পাঠিয়ে দেয়া হয়। এতে অনেকেরই জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে।

অমৃতবাজার/ কেএসএস