ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯ | ৩০ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জটিল রোগ, জরুরি দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৩:৩৪ পিএম, ০১ অক্টোবর ২০১৯, মঙ্গলবার | আপডেট: ০৩:৩৭ পিএম, ০১ অক্টোবর ২০১৯, মঙ্গলবার
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জটিল রোগ, জরুরি দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন

মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে নানা ঝুঁকিতে পড়েছে বাংলাদেশ। এক গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য উদ্ধৃত করে সোমবার একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে ‘হেপাটাইটিস-সি’ আক্রান্তের হার ১৩ শতাংশের বেশি। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

কারণ নিরাময় অযোগ্য ‘হেপাটাইটিস-সি’ একটি সংক্রামক রোগ। এটি প্রধানত লিভারকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ৮০ ভাগ রোগীর ক্ষেত্রে রোগটি লিভার ক্যান্সার ও লিভার সিরোসিস সৃষ্টি করে, যা রোগীকে নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়।

এছাড়া হেপাটাইটিস-সি আক্রান্ত ব্যক্তির আরও নানা রকম জটিলতা দেখা দিতে পারে। রোহিঙ্গারা নানা কৌশলে আশ্রয় শিবির থেকে পালিয়ে যাচ্ছে বলে খবর রয়েছে। এতে রোগটি দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কাজেই এ বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

এছাড়া জানা যায়, বিপুলসংখ্যক এইচআইভি আক্রান্ত রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। রোহিঙ্গাদের মধ্যে কতজন এইচআইভি বা বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত তা চিহ্নিত করা দরকার। যারা এইচআইভি আক্রান্ত তারা এ তথ্য প্রকাশ করতে চায় না। কাজেই এ ধরনের জটিল রোগীর সংখ্যা নির্ণয়ও একটি চ্যালেঞ্জ।

রোহিঙ্গা নারীদের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাইরে চলাফেরার খবর গণমাধ্যমে এসেছে। এসব নারীর কেউ কেউ বিভিন্ন অসামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার খবরও পাওয়া যাচ্ছে। এ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনসহ জনগণও উদ্বিগ্ন। এ অবস্থা চলতে থাকলে কক্সবাজারে এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যেতে পারে।

রোহিঙ্গাদের দ্বারা সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়লে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা কক্সবাজারকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করবে, এতে সন্দেহ নেই। বস্তুত নতুন আসা রোহিঙ্গারা আগে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়েই বিভিন্ন অসামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। কাজেই আগে আসা রোহিঙ্গারা কোথায় অবস্থান করছে তা জানা জরুরি।

অভিযোগ আছে, স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় রোহিঙ্গারা বিভিন্ন অসামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। কাজেই যাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে রোহিঙ্গারা অসামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা দরকার। রোহিঙ্গারা যাতে কোনোভাবেই ক্যাম্পের বাইরে বের হতে না পারে, বিভিন্ন ঝুঁকি এড়াতে তা নিশ্চিত করতে হবে।

 অমৃতবাজার/ কেএসএস