ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯ | ৩ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

নানিকে হত্যা করে দুর্বৃত্তদের হামলার নাটক সাজায় কিশোর


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৮:৫৩ এএম, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার
নানিকে হত্যা করে দুর্বৃত্তদের হামলার নাটক সাজায় কিশোর

যিনি তাকে প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবেসেছিলেন, স্নেহ-আদর-মায়া নিয়ে সবসময় পাশে থাকতেন, সেই নানিকেই নৃশংসভাবে খুন করেছে কিশোরগঞ্জের ফাহিম নামের এক কিশোর।

ঠিকমতো স্কুলে না যাওয়া, নিয়মিত লেখাপড়া না করায় তাকে শাসন করতেন নানি জয়নব জান বিবি। কখনো কখনো বকাঝকাও করতেন।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ১৫ বছর বয়সের ফাহিম ৭৫ বছর বয়সীকে এই বৃদ্ধাকে হত্যা করে।

পুলিশের কাছে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব কথা জানিয়েছে কিশোরগঞ্জ শহরের আজিমউদ্দিন হাইস্কুলের নবম শ্রেণির এই শিক্ষার্থী।

শনিবার ভোরে শহরের হারুয়া পুরাতন ফায়ার সার্ভিস রোড এলাকার বাসায় খুন হন জয়নব জান বিবি।

এ সময় মায়ের খোঁজ নিতে এসে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন দেলোয়ার হোসেন মানিক (৪০)। তিনি জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার মন সন্তোষ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার পর একদল সশস্ত্র মুখোশধারী এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে নাটক সাজায় ফাহিম।

সে নিজে এ সময় খাটের নিচে পালিয়ে আত্মরক্ষা করে বলেও প্রচার চালায়। জয়নব জান বিবির লাশও খাটের নিচ থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

মুখোশধারী দুর্বৃত্তদের হামলায় এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রচারে আঁতকে ওঠেন কিশোরগঞ্জবাসী। তোলপাড় সৃষ্টি হয় পুলিশ প্রশাসনে।

কিন্তু আলামত ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে কিছুতেই ফাহিমের এ সাজানো নাটক হজম করতে পারছিল না পুলিশ।

নানি ও মামা হতাহতের ঘটনার পর থেকে ফাহিমের অসংলগ্ন আচরণ ও কথাবার্তায় পুলিশের সন্দেহের তির ছিল তার দিকেই।

তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদফা থানায় ডেকে পাঠানো হয়। অবশেষে রোববার সন্ধ্যায় মুখ খোলে সে। পুলিশ হেফাজতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সে জানায় নানিকে নৃশংসভাবে হত্যা এবং মামাকে গুরুতর জখম করার চাঞ্চল্যকর কাহিনী।

কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক জানান, ফাহিম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানিয়েছে- লেখাপড়ায় তাগাদা দেয়া নিয়ে রাগারাগির জের ধরে সে নানিকে শাবল ও ফল কাটার বার্মিজ অস্ত্রের আঘাতে খুন করে।

তিনি বলেন, পরে তার লাশ খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে। জয়নব জান বিবির স্কুলশিক্ষক ছেলে দেলোয়ার হোসেন মানিক নিজের বাসা থেকে বোনের বাসায় গিয়ে মায়ের খবর নিতে দরজায় কড়া নাড়লে দরজা খুলেই ফাহিম মামার পেটে ছুরি ঢুকিয়ে দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

রোববার বিকালে নিহত জয়নব জান বিবির বড় ছেলে আব্দুর রউফ বাদি হয়ে ফাহিমকে একমাত্র আসামি করে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা রুজু করেছেন। ওসি আবুবকর সিদ্দিক পিপিএম এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, নিহত জয়নব জান বিবি জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার গুজাদিয়া ইউনিয়নের বড়কান্দা গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের স্ত্রী। নাতনি ফাহিমকে নিয়ে তিনি জেলা শহরের হারুয়া পুরাতন ফায়ার সার্ভিস রোডের বাসায় থাকতেন।

 অমৃতবাজার/ কেএসএস