ঢাকা, সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৭ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ক্লাসে ঢুকে ছাত্রদের চুল কাটলেন স্কুল সভাপতি


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৫:৪৩ পিএম, ২৭ আগস্ট ২০১৯, মঙ্গলবার | আপডেট: ০৫:৪৪ পিএম, ২৭ আগস্ট ২০১৯, মঙ্গলবার
ক্লাসে ঢুকে ছাত্রদের চুল কাটলেন স্কুল সভাপতি

 

রাজশাহীর পুঠিয়ার সরিষাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রের চুল কেটে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি এবাদুল হক। রোববার সকালে সেলুন থেকে কেচি নিয়ে শ্রেণি কক্ষে গিয়ে বেশ কয়েকজন ছাত্রের বখাটে কাটিংয়ের চুল কেটে দেয়। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে বাড়ি চলে যায়।

স্কুলের এক শিক্ষার্থী জানান, স্কুলের কয়েকজন ছাত্রের মাথার চুল বড় ছিল। আর কিছু ছাত্রের চুল মডেলদের অনুকরণে কাটা। সকালে স্কুল কমিটির সভাপতি এবাদুল হক সেলুন থেকে কেচি এনে বিভিন্ন শ্রেণির ছাত্রের মাথার চুল এলোমেলো ভাবে কেটে দেয়। এ ঘটনায় অনেক ছাত্র লজ্জায় বাড়ি চলে যায়। আবার কেউ কেউ সেলুনে গিয়ে চুল ঠিক করে নিয়েছেন। এ ঘটনার পর দিন সোমবার তারা ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ করেছে।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক আফসার আলী সরদার বলেন, এক সপ্তাহ আগে বিদ্যালয়ের সভাপতি বখাটেপনা ও বড় চুল কেটে ফেলতে ছাত্রদের নোটিশ দেয়। কিন্তু যেসব ছাত্র চুল কাটেনি রোববার সভাপতি ক্লাসে গিয়ে কয়েকজনের চুল কেটে দিয়েছে। এ নিয়ে কয়েকজন ছাত্র বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করে। তারা ছাত্রদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। খবর পেয়ে সোমবার সকালে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে একজন প্রতিনিধি এসে ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানান তিনি।

স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি এবাদুল হক বলেন, আমরা স্কুলের ছাত্রদেরকে শনিবারের মধ্যে যারা স্টাইল করে চুল কেটেছে তাদের চুল কাটার জন্য নোর্টিশের মাধ্যমে জানিয়ে দিই। যেসব ছাত্র সেই নির্দেশনা অমান্য করেছে আমরা তাদের চুল সামান্য করে কেটে দিয়েছি। যাতে করে তারা স্বাভাবিকভাবে চুল কাটে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাহিদুল হক বলেন, মাথার চুল কাটা খবর পাওয়ার পর সোমবার অফিস থেকে একজন প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছিল। তার মাধ্যমে তিনি জেনেছেন, স্কুল কমিটি নোর্টিশের মাধ্যমে এক সপ্তাহের মধ্যে ছাত্রদের স্টাইল করা ও বড় চুল কাটার নির্দেশনা দেয়। শনিবার পর্যন্ত সময় বেধে দেয়া হয়েছিল। যারা নির্দেশনা মানেনি তাদের চুল কেটে দিয়েছে সভাপতি। তবে চুল কাটার ব্যাপারে শিক্ষা অফিস থেকে কোন নির্দেশনা ছিল না বলে জানান এই কর্মকর্তা।

অমৃতবাজার/এএস