ঢাকা, রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯ | ৩ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

নওগাঁয় পানির দামে চামড়া বিক্রি, কারসাজির অভিযোগ


নওগাঁ প্রতিনিধি:

প্রকাশিত: ০৭:৫২ পিএম, ১৪ আগস্ট ২০১৯, বুধবার
নওগাঁয় পানির দামে চামড়া বিক্রি, কারসাজির অভিযোগ

 

নওগাঁয় গত কয়েক বছরের চেয়ে এবছর ঈদুল আয্হার কোরবানি পশুর চামড়া একেবারে পানির দামে বেচা কেনা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ও পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে চামড়ার দাম অনেক বেশি থাকলেও ট্যানারী মালিকদের দু’টি সংগঠন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দাম নির্ধারণ করে দেওয়া ও বকেয়া টাকা পরিশোধ না করার কারনে এই অবস্থা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানায়।

নওগাঁ জেলার ৪টি উপজেলায় ভারতীয় সীমান্তবর্তী হওয়ায় এবার চামড়া ভারতে পাচার হবার আশংকা আছে বলে কিছু ব্যবসায়ী মন্তব্য করেন। এদিকে কোন ভাবেই যাতে কোরবানি পশুর চামড়া ভারতে পাচার হতে না পারে এই জন্য বিজিবি ও পুলিশ চামড়া বাহী গাড়ীর উপর বিশেষ নজরদারী ও ৪টি উপজেলায় ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকায় টহল জোরদার করেছে।

এ বারের ঈদে আড়াই থেকে তিন কোটি টাকার চামড়া বেচা কেনার সম্ভাবনা থাকলেও স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ীর অভিযোগ করে বলেন ট্যানারী মালিকরা তাদের নিকট পাওনা টাকা না দেওয়ায় তারা বিপাকে রয়েছেন। একারনে এবার তারা ধার দেনা করে টাকা সংগ্রহ করে তাদের জাত ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে কম দামে চামড়া কিনতে বাধ্য হচ্ছে।

প্রতি বছর ঈদুল আযহার দিনে নওগাঁয় কোরবানীর পশুর চামড়ার বিশাল বাজার বসে। শহরের বিভিন্ন এলাকা ও গ্রামাঞ্চল থেকে চামড়া কিনে এনে বিক্রির জন্য ভীড় করে মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবারে চামড়ার দাম কম হওয়াই মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা এবার পথে বসার উপক্রম ঘটেছে।

নওগাঁ জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপ এর সভাপতি মমতাজ উদ্দিন বলেন সরকাররে বেধে দেওয়া চামড়ার দামের চেয়ে বেশী দামে চামড়া ক্রয় করতে হচ্ছে। তবে পার্শ্ববতী দেশ ভারতে চামড়ার দাম অনেক বেশী। একারনে চামড়া ভারতে পাচার হবার আশংকা আছে। প্রতি বছর সিন্ডিকেটের মাধ্যেমে কেন্দ্রীয় থেকে চামড়ার দাম কমানো হয়। এ বারও একই ভাবে কম দাম নির্ধারণ করা হয়েছে অভিযোগ করেন এ ব্যবসায়ী নেতা।

তবে পার্শ্ববতী ভারতে চামড়ার দাম বেশী বলে জানান তিনি। চামড়া শিল্পকে টিকে রাখতে ট্যানারী মালিকদের নিকট পাওনা টাকা পরিশোধ ও ভারতে পাচার রোধ করে চামড়ার প্রকৃত মুল্য নির্ধারণে সরকারের নিকট দাবী জানান তিনি। এছাড়া চামড়ার ব্যবসাকে টিকিয়ে রাখতে হলে ‘ওয়েট ব্লু’ করে রপ্তানি সহ এ শিল্পের স্বার্থ রক্ষায় নীতিমালা তৈরী করতে হবে। তা না হলে আগামী ৫ বছরের মধ্যে এ শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে। দাম কম হওয়ার কারণে এবছর ২৫ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা আছে বলে মনে করেন এ ব্যবসায়ী নেতা।

কয়েক জন মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা বলেন এবার গরু চামড়ার মূল্য ৩শ টাকা থেকে সর্বচ্চ ৫শটাকা এবং খাশির চামড়ার মূল্য ২০ থেকে ৪০টাকা দরে কেনা বেচা হচ্ছে।

১৪ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোঃ জাহিদ হাসান বলেন যেহেতু নওগাঁ সিমান্তবর্তী এলাকা একারণে সিমান্ত এলাকার সংশ্লিষ্ট সকলকে সর্তক করানো হয়েছে। সিমান্তবর্তী এলাকায় বিশেষ টহল দল জোরদার করা হয়েছে যাতে কোন ক্রমেই কোরবানি পশুর চামড়া ভারতে পাচার হতে না পারে।

পুলিশ সুপার মোঃ ইকবাল হোসেন পিপিএম জানান কোরবানি পশুর চামড়া কোন ভাবেই যাতে ভারতের সিমান্ত মুখি হতে না পারে এজন্য আমাদের জেলার সিমান্ত এলাকর ৪টি থানা সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে সর্তক করানো হয়েছে। এমনকি পুলিশিং  কমিউনিটিকেও এবিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। কোন ক্রমেই কোরবানি পশুর চামড়া ভারতে পাচার হবে না বলে আশা করছি।

অমৃতবাজার/বেলাল/এএস