ঢাকা, শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯ | ৮ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বন্যা অবস্থার অবনতি, পানিবন্দি লাখ লাখ মানুষ


অমৃতবাজার রিপোর্ট 

প্রকাশিত: ০৯:৪০ এএম, ২১ জুলাই ২০১৯, রোববার | আপডেট: ০৯:৪০ এএম, ২১ জুলাই ২০১৯, রোববার
বন্যা অবস্থার অবনতি, পানিবন্দি লাখ লাখ মানুষ

 

দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ। উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির কোথাও অবনতি হয়েছে, আবার কোথাও সামান্য উন্নতি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে অন্তত্য ১৮ পয়েন্টে দেশের বড় বড় নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। প্লাবিত হয়েছে নতুন নতুন এলাকা।

একই সঙ্গে বৃদ্ধি পেয়েছে নদী ভাঙন। পানি বৃদ্ধি ও ভাঙনের কারণে আশ্রয়হীন হয়ে পড়ছে লাখ লাখ মানুষ। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাবারে সঙ্কট। চরম বিপদে আছেন নারী, শিশু ও বয়স্করা।

জামালপুর সংবাদদাতা জানান,  যমুনার পানি বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে হ্রাস পেতে শুরু করলেও বাড়ছে ব্রহ্মপুত্র, ঝিনাই, জিঞ্জিরাম, দশানীসহ সব নদ নদীর পানি। বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৩৩ সেন্টিমিটার ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পানি জামালপুর ফেরিঘাট পয়েন্টে ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলার ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ, সরিষাবাড়ি, জামালপুর সদর ও বকশীগঞ্জ উপজেলার ৬১ টি ইউনিয়ন ও ৭ টি পৌরসভা বন্যাকবলিত হয়েছে। এসব এলাকার সাড়ে ১২ লাখ মানুষ পানিবন্দি। পানিবন্দি এসব মানুষ বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্র ও উচু বাঁধে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বন্যাকবলিত এলাকায় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও গো-খাদ্যের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। চরম বিপাকে নারী ও শিশুরা। সড়ক ও রেললাইন ডুবে যাওয়ায় ভেঙ্গে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।

শনিবার (২০ জুলাই) বকশীগঞ্জের কৌশলনগরে বন্যার পানিতে ডুবে রাহাত মিয়া নামে এক শিশু এবং একই উপজেলার ঝালুরচরে রাজা বাদশা নামে এক ব্যাক্তির সাপের কামড়ে মারা গেছে। জামালপুর সদর উপজেলার তিতপল্লা কামালখান মোড় এলাকায় রমজান আলীর ৮ বছরের শিশু সজিব বন্যার পানির স্রোতে পড়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জামালপুর সদরের কেন্দুয়া কালিবাড়ি পণ্ডিতপাড়া জেলা সদরের সাথে সরিষাবাড়ি উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বকশীগঞ্জের বড়ইতারী সেতুর নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় শুক্রবার (১৯ জুলাই) রাত থেকে দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়েছে। এসব সড়ক ভেঙ্গে প্রবল বেগে পানি ঢুকে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

বগুড়া সংবাদাদাতা জানান, সারিয়াকান্দির কাছে যমুনা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি ১০ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ১১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে।

উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ এখনও দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। প্রতিদিনই বন্যাদুর্গত এলাকায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ত্রাণ বিতরণ করছে।

ধুনটে যমুনা নদীর পানি কমতে শুরু করলেও উপজেলার ভাণ্ডারবাড়ি ইউনিয়নের ১৪টি গ্রামের ২ হাজার পরিবার পানিবন্দি। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে রাধানগর চরের ৮৮টি বসতবাড়ি। বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে ৩০০ পরিবার। ৭টি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পানি প্রবেশ করায় পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বিশুদ্ধ পানির জন্য বাঁধে ১৮টি নলকূপ বসানো হয়েছে।

যমুনার পানি কমতে শুরু করায় সোনাতলায় বানভাসি মানুষের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। এখনও সোনাতলা উপজেলার তেকানীচুকাইনগর, পাকুল্লা, মধুপুর ও জোড়গাছা ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি।

গঙ্গাচড়া (রংপুর) সংবাদদাতা জানান, গঙ্গাচড়ায় গত কয়েকদিনে তিস্তার তীব্র ভাঙনে নদীর বাম তীরের বন্যা নিয়ন্ত্রণ একটি বাঁধের অর্ধেকাংশসহ হাজার হাজার একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন রোধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে শেখ হাসিনা সেতু সংযোগ সড়কসহ লক্ষ্মীটারী ও কোলকোন্দ ইউনিয়নের চরাঞ্চলের ৪-৫টি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শনিবার (২০ জুলাই) তিস্তার বাম তীর ভাঙনকবলিত এলাকা উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের চর বিনবিনা, লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের চর ইচলী, চর শংকরদহ এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, তিস্তার তীব্র ভাঙনে চর বিনবিনা গ্রামের বন্যা নিয়ন্ত্রণ একটি বাঁধের অর্ধেকাংশসহ আশপাশের ৩-৪টি গ্রামের হাজার হাজার একর ফসলি জমি বিলীন হওয়ার দৃশ্য। বিনবিনা গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজুর রহমান, মনোয়ার হোসেন, গাজিউর রহমান সবুজ বলেন, দ্রুত ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে তাদের বসতভিটা ও আবাদি জমি সবই বিলীন হয়ে যাবে। নিঃস্ব হয়ে পড়বে বহু পরিবার।

শনিবার (২০ জুলাই) ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী জ্যোতি প্রসাদ ঘোষ, রংপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সৈয়দ এনামুল কবীর, গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাসলিমা বেগম, লক্ষ্মীটারী ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ্ আল হাদী।

ভাঙনকবলিত লক্ষ্মীটারী ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ্ আল হাদী  বলেন, নদী শাসনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অপরিকল্পিত কাজ করার কারণে প্রতিবছরই নদী ভাঙন হয়। তিনি পরিকল্পনা মাফিক নদীর ডান তীরের মতো বাম তীরেও নদী রক্ষা বাঁধ করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, ভাঙন রোধে কাজ চলমান রয়েছে।

মানিকগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, আরিচা পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ৯ সেন্টিমিটার বেড়ে শনিবার (২০ জুলাই) দুপুুর ১২টায় বিপৎসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অব্যাহত পানি বৃদ্ধির ফলে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর, শিবালয়, হরিরামপুর ও ঘিওর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে। চরাঞ্চলের অনেক বাড়ি-ঘরে পানি উঠেছে। নদী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। গৃহহীন হয়েছে এসব এলাকার ৩ শতাধিক পরিবার। শিবালয়ের তেওতা ইউনিয়নের  চঞ্চালের অধিকাংশ বাড়িতে পানি ওঠেছে।

শনিবার (২০ জুলাই) সকালে আরিচা পুরাতন ট্রাক টার্মিনালে পানি  প্রবেশ করেছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভাঙনকবলিত মানুষের মধ্যে ৮ মেট্রিক টন চাল দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও কয়েকটন চাল ও শুকনো খাবার বিতরণের ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।

নবাবগঞ্জ (দোহার) সংবাদদাতা জানান, প্রবাহমান পদ্মা নদী সংলগ্ন ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত জনপদ জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন। যা দোহার ও নবাবগঞ্জবাসীর নিকট বেড়িবাধ এলাকা হিসেবে পরিচিত। চলমান বর্ষা মৌসুমে পদ্মা নদীর প্রবল বর্ষণ ও পানি বৃদ্ধির ফলে গত কয়েক দিনে বেড়িবাধ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত ১২ টি গ্রামের প্রায় আড়াই হাজার মানুষ পানি বন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। এরই মধ্যে প্রবল বর্ষণে নিশ্চহ্ন হয়ে গেছে বহু গ্রামীণ জনপদসহ কৃষি ফসল। তলিয়ে গেছে বসতবাড়ি এবং বিভিন্ন গ্রামীণ অবকাঠমো। আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠার মধ্যে রাত দিন পার করছেন গ্রামবাসীরা

পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি ও প্রবল বর্ষের কারণে জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের  রায়পুর, চারাখালী, বালেঙ্গা, রাজাপুর, কান্তারটেক, কেদারপুর, আশয়পুর, পানি কাহুর, আর ঘোষাইল, ঘোষাইল, তিকপালদিয়া ও সোনাবাজু গ্রামে অবস্থিত বসতভিটা,  কৃষিজমি, মসজিদ, মন্দির, স্কুল ও হাটবাজারে অবস্থিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে গেছে। গ্রামীণ কাঁচা সড়কগুলো পানিতে ডুবে গেছে। সংযোগ বিছিন্ন অবস্থায় পড়ে আছে ৪টি সেতু।

জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান বলেন, ঢাকার নবাবগঞ্জ ও মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলটি অবহেলিত এলাকা। পদ্মার পানি  ও ভাঙন  থেকে নবাবগঞ্জ উপজেলাকে রক্ষায় ১৯৯৭-৯৮  অর্থবছরে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার এই এলাকায় বাধ নির্মাণ করে। তাতে করে এই ইউনিয়নের একটি বিরাট অংশ ভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পায়। অন্যদিকে পদ্মানদী-সংলগ্ন এই ইউনিয়নের প্রায় ১২ থেকে ১৫টি গ্রাম প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে পানিতে ডুবে যায়। ফলে স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। তিনি রক্ষাবাঁধে পরিকল্পিতভাবে আরও বেশ কয়েকটি স্লইচগেট নির্মাণের দাবিসহ সরকারের সংশিষ্ট দফতরকে বন্যাকবলিত পানিবন্দি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান।

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইস এম  সালাউদ্দিন মনজু বলেন, নিয়মিত খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত এলাকাটি পরিদর্শন করা হবে।

কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা জানান, পানি ধীর গতিতে কমতে শুরু করায় দুর্ভোগ বেড়েছে বানভাসিদের। নিম্নাঞ্চলের অধিকাংশ বাড়ি-ঘর তলিয়ে থাকায় এবং পার্শ্ববর্তী কোনও উঁচু জায়গা না থাকায় পানিবন্দি মানুষরা পরিবার-পরিজন নিয়ে ডিঙ্গি নৌকা ও কলা গাছের ভেলায় অবর্ণনীয় কষ্টে বসবাস করছেন। দুর্গম চরাঞ্চলগুলোতে এই চিত্র আরও ভয়াবহ।

উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ, সাহেবের আলগা, হাতিয়া, কুড়িগ্রাম সদরের যাত্রাপুরসহ ব্রহ্মপুত্রের অববাহিকার বিভিন্ন চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি চরের অধিকাংশ মানুষ নিকট শুকনো জায়গায় স্থান না পেয়ে পরিবার- পরিজন নিয়ে নৌকা ও ভেলায় বসবাস করছে।

ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকার প্রায় ২ শতাধিক দুর্গম চরাঞ্চলের প্রায় ৫ হাজার পরিবার ১০ থেকে ১২ দিন ধরে বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া বাড়ি ঘরের পাশেই নৌকায় বসবাস করছেন।

বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের মশালের চর ও বালা ডোবার চর ঘুরে দেখা গেছে, এসব চরে ৬ শতাধিক পরিবারের বসবাস। তাদের মধ্যে যাদের নৌকা নেই সেসব পরিবার দূরবর্তী উঁচু স্থানে ও আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে স্থান নিলেও বেশিরভাগ পরিবার নৌকায় আশ্রয় নিয়েছে। ১৮ থেকে ২০ হাত ডিঙ্গি নৌকায় বসবাস করছেন একেকটি পরিবারের ৬ থেকে ৯ জন সদস্য। সেখানেই তাদের রান্না-বান্না, নাওয়া-খাওয়া ও প্রাকৃতিক কাজ সম্পাদন করা হয়। বাড়ির আশে-পাশেই জোটবদ্ধভাবে কয়েকটি করে পরিবার এক সঙ্গে পাশাপাশি নৌকায় অবস্থান নিয়েছেন। ইঞ্জিন চালিতো যে কোনও নৌকার শব্দ শুনলেই এসব পরিবার ত্রাণের আশায় নৌকা নিয়ে ছুটে আসেন সেই নৌকার কাছে।

মশালের চরে নৌকায় বসবাসকারী পরিবারের একজন আজাহার আলীর ছেলে মাইদুল ইসলাম জানান, বাড়িতে বন্যার পানি উঠায় এবং নিকটবর্তী উঁচু কোনও জায়গা না থাকায় বাবা-মা, ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে ৯ দিন যাবৎ এই নৌকায় বসবাস করছি। এ অবস্থায় বৃদ্ধ বাবা-মা ও ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের নিয়ে চিন্তিত থাকতে হয় সব সময়। নৌকায় চাল, ডাল থাকলেও শুকনো খড়ির অভাবে ঠিকমতো রান্না করে খাওয়াতে পারছি না। নৌকাতে পরিবার থাকায় বাজার গিয়ে শুকনো খাবার কিনে আনবো সেটারও কোনও পথ নেই।

একই চরে নৌকায় বসবাসকারী আমিনা বেগম জানান, এই ছোট নৌকায় পরিবারের আট সদস্য মিলে বসবাস করছি। এখানে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে প্রাকৃতির কর্ম সারতে গিয়ে। নলকূপ তলিয়ে থাকায় বন্যার পানিই খাওয়াসহ রান্না-বাড়ার কাজও সারতে হচ্ছে।

জানা গেছে, চারিদিকে থৈ থৈ পানি থাকায় কোনও কাজ জুটছে না। আর যারা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতে তাদের নৌকাটিতে পরিবার নিয়ে বসবাস করায় মাছ ধরে বিক্রি করতেও পারছেন না তারা। অনেক পরিবারের ছোট ছোট বাচ্চারা ডায়রিয়া ও জ্বরসহ নানা পানি বাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। এসব পরিবার রান্নার অভাবে একবেলা খেয়েই দিন পার করছেন। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার অপেক্ষা প্রহর গুনছে এসব পরিবারগুলো।

বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের ৯ নাম্বার ওয়ার্ড মশালের চরের ইউপি সদস্য আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, আমার ওয়ার্ডে মোট মোট ৬০০ পরিবার তাদের মধ্যে ৩ শতাধিক পরিবার নিকটবর্তী কোনও শুকনো জায়গায় স্থান না পেয়ে নৌকায় বসবাস করছে। এই পরিবারগুলো দীর্ঘ ১০ থেকে ১২ দিন পর্যন্ত পরিবারের ৪ থেকে ৫ জন করে সদস্যকে নিয়ে নৌকায় বসবাস করছে। এরই মধ্যে অধিকাংশ পরিবারকে এ পর্যন্ত মাত্র ১০ কেজি করে চাল দেয়া সম্ভব হয়েছে। আবারও ত্রাণের চাল পেলে বাকিদের দেয়া হবে।

উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন বলেন, আমার ইউনিয়নটি বহ্মপুত্র নদের অববাহিকায় অবস্থিত। এই ইউনিয়নে কমপক্ষে ৬০০ পরিবার ছোট ছোট নৌকায় বসবাস করছেন। প্রয়োজনের তুলনায় এসব পরিবারকে ত্রাণ দেয়া সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৯ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে ৯০ সেন্টিমিটার ও নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সরকারি হিসাবে জেলার ৯ উপজেলায় বন্যা কবলিত প্রায় ৮ লক্ষাধিক মানুষের জন্য ৮০০ মেট্রিক টন জিআর, ৬ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার ও ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

অমৃতবাজার/এএস