ঢাকা, রোববার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৭ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শিকল বন্দি জীবন থেকে মুক্তি চায় ‘মুন্না’


ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি,

প্রকাশিত: ০১:১৯ পিএম, ১১ জুলাই ২০১৯, বৃহস্পতিবার
শিকল বন্দি জীবন থেকে মুক্তি চায় ‘মুন্না’

 

নাম তার মনোয়ার ইসলাম মুন্না। ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার জাবরহাট গ্রামে তার বাড়ি। মাত্র ৭ বছর বয়সে হঠাৎ করেই মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে মনোয়ার ইসলাম মুন্না। তার বর্তমান বয়স ১৮ ছুইছুই। ১১ বছর যাবৎ শিকল বন্দী জীবন পার করে আসছে সে। তিন ভাই বোনের মধ্যে সবচেয়ে বড় মুন্না। তার বাবা মনসুর আলী (৫৫) তিনি পেশায় একজন গরু ব্যবসায়ী।

মুন্নার মা মনোয়ারা বেগম বাংলাদেশের আলোকে জানান, আমার ছেলে ৭ বছর বয়সে হঠাৎ করেই মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। প্রাথমিক চিকিৎসা করা হলে কিছুদিন সুস্থ থাকার পর আবার আগের মতো অসুস্থ পরে সে। অর্থের অভাবে তার চিকিৎসা করাতে পারিনি। মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ার পর থেকে গত কয়েক বছর এলাকাবাসীর বিভিন্ন ক্ষয়ক্ষতি করে। যেমন- কারও গরু ছাগলকে মারধর, মানুষ মারধর, সবজি ক্ষেত নষ্ট করা, কোন মেয়ে বা মহিলা দেখলে ঝাপটে ধরা এমনকি পরিবারের সদস্যদের মারধর। এ ধরনের অভিযোগ পাওয়ার পরে অবশেষে সিন্ধান্ত নেই হয় তাকে পায়ে শিকল বেঁধে রাখার। সে জন্য গত ১১ বছর যাবৎ ছেলেকে পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে বারান্দার খুঁটির সাথে।

গত মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, টিনের চালার একটি ঘরের বারান্দায় শিকল পাঁয়ে মাটিতে বসে আছে মুন্না। শরীরে শুধু পেন্ট পরা আর কোন কাপড় নেই।

এ বিষয়ে মুন্নার বাবা মুনসুর বলেন জানান, সামান্য একজন গরুর ব্যবসা (দালালি) করি আমি। সব সময় গরুর ব্যবসায় টাকা যোগাতে না পেরে অনেক সময় দিনমজুরের কাজ করি। দিনমুজুরী দিয়ে দৈনিক ৩০০-৩৫০ টাকা উর্পাজন করি। যে টাকা উর্পাজন করি এই টাকায় সংসারে খরচ করবো না ছেলের চিকিৎসায় খরচ করবো ভেবে পাচ্ছিনা আমি। তারপরও যতটুকু সম্ভব হয় ছেলের চিকিৎসা করাই। মুন্নার প্রতিদিন ১০০ টাকার ঔষধ লাগে। শত কষ্টের মধ্যে দিয়ে চলছে আমাদের জীবন সংসার। টাকা পয়সা না থাকার কারনে পুরোপুরি ভাবে ছেলের চিকিৎসা করাতে না পেরে ছেলেকে শিকলে বেঁধে রাখতে হচ্ছে। আমি বাবা হয়ে ছেলের কষ্ট সইতে পারছি না আর। সরকারি ভাবে আমার ছেলেকে কোন ভাতা দেওয়া হচ্ছে না। যদি সরকারি ভাবে কোন সাহায্যে সহযোগিতা পাই তবে প্রতিবন্ধী মুন্নার চিকিৎসা করতে পারতাম।

এ ব্যাপারে জাবরহাট ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির জানান, মুন্নার পরিবারকে বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি। মুন্নাকে চিকিৎসার জন্য পাবনা মানসিক হাসপাতালে নেওয়ার জন্য তার বাবাকে সহযোগিতা করবো। পাবনা মানসিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে হয়তো মুন্না স্বাভাবিক ভাবে ফিরে আসবে।

অমৃতবাজার/হাসান/এএস