ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯ | ৮ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ঘোড়াশাল রেলওয়ে ভবনে ফাটল, ঝুঁকিতে স্টেশন


নরসিংদী প্রতিনিধি,

প্রকাশিত: ০৬:৩৭ পিএম, ২৫ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার
ঘোড়াশাল রেলওয়ে ভবনে ফাটল, ঝুঁকিতে স্টেশন

 

মরণ ফাঁদে পরিণত হচ্ছে বাংলাদেশের সর্বপ্রথম দ্বিতলবিশিষ্ট নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল ফ্ল্যাগ রেলওয়ে স্টেশনের ভবনটি। বহু বছরের পুরাতন ভবনটির সংস্কার কাজ না হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলছে স্টেশনের কার্যক্রম।

যে কোনো সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনায় যাত্রীসহ অনেকেরই প্রাণ-হানির ঘটনা ঘটতে পারে। যে কোনো সময়ই ধ্বংস স্তুপে পরিণত হতে পারে ভবনটি। ঘোড়াশাল পৌর এলাকার শীতলক্ষ্যা নদীর পাশে অবস্থিত দেশের একমাত্র দোতলা রেলওয়ে স্টেশন এটি।

শিল্পসমৃদ্ধ এই শহরে হাজারও মানুষের বসবাস। এখানে রয়েছে দেশের বৃহৎ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, ২টি সারকারখানা, ২টি সিমেন্ট কারখানা, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের তিনটি কারখানা, ৩টি জুটমিল, পেপার মিল, ড্রাইং, সিলিন্ডার গ্যাস ও রড ফ্যাক্টরীসহ অসংখ্য ছোট বড় কারখানা।

এসকল কারখানায় দেশের বিভিন্ন জেলার প্রায় ৪০ হাজার কর্মকর্তা ও শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত রয়েছে। এই উপজেলা থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় প্রতিনিয়ত হাজারও যাত্রী যাতায়াত করে। তাদের মধ্যে  বেশির ভাগ যাত্রীই বাস সার্ভিসের পরিবর্তে ট্রেনের ওপর নির্ভর হয়ে পড়েছে। এই স্টেশনটি ঝুঁকিপূর্ণ থাকা শর্তেও  ঢাকাসহ অন্যান্য স্থানে ট্রেনযুগে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করছে যাত্রীরা।

ঘোড়াশাল বাজার এলাকার আমির হোসেন জানান, সড়ক পথে যানজটের সমস্যার কারণে এ স্টেশন থেকে ট্রেনযুগে প্রতিদিন ঢাকা আসা যাওয়া করি। এই স্টেশনের পুরাতন ভবনটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ভবনের নিচতলার ওপরের কিছু অংশ ধ্বসে পড়ে যাচ্ছে । এছাড়াও ভবনটির কয়েকটি পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছে।

এমন অবস্থায় চলতে থাকলে যে কোনো সময়ই বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এখানে। তাই সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে এ স্টেশনটি জরুরী ভিত্তিতে সংস্কার করার দাবি জানান ওই ব্যক্তি। অপরদিকে এই স্টেশন থেকে নিয়মিত ঢাকা যাতায়াতকারী উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের আশরাফুল আলম গাজী দাবী করে বলেন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যদি স্টেশনের পুরাতন এই ভবনটির সংস্কার কাজ করতে না পারে। তাহলে যেনো  এটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে।

কারণ পাশেই একটি নতুন স্টেশনের ভবনের কাজ শেষ হয়েছে। অথচ সেটিকে চালু না করে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে স্টেশনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এসব বিষয়ে রেলওয়ের বিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুস সালামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি প্রধান প্রকৌশলীর অনুমতি ছাড়া কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।

অমৃতবাজার/জাহিদ/এএস