ঢাকা, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯ | ৬ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

যেভাবে মাদরাসাছাত্র শাহ পরান হত্যার আসামি ধরলো পুলিশ


বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০১:১৭ পিএম, ২৫ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার
যেভাবে মাদরাসাছাত্র শাহ পরান হত্যার আসামি ধরলো পুলিশ

যশোরের শার্শায় মাদরাসাছাত্র শাহ পরান হত্যার মূল আসামি হাফিজুর রহমান ১১ জুন পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। শার্শা থানা পুলিশের একটি দল আসামি হাফিজুরকে ধরতে সক্ষম হয়।

শাহপরান হত্যার মোটিভ এবং আসামি গ্রেফতারে পুলিশি অভিযানের অনুসন্ধানে জানা যায়, আসামি হাফিজুর রহমানের স্ত্রী, (হাসিনা বেগম) এর মোবাইল কল লিষ্ট দেখে আসামি গ্রেফতারে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা এসআই মামুনসহ শার্শা থানা পুলিশের একটি দল খুলনা জেলার তেরখাদা এবং দিঘলিয়া থানার ছদ্মবেশে তল্লাশি চালায়।দুদিন ধরে তল্লাশী শেষে দিঘলিয়া মাদরাসা থেকে হাফিজুরকে ধরতে সক্ষম হয়।

সেখান থেকে তারা শার্শা থানায় নিয়ে আসেন এবং আসামিকে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেন।

চাঞ্চল্যকর শাহ পরান হত্যাকারী হাফিজুরের গ্রেফতারের বিষয় নিয়ে শার্শা উপজেলার নাভারণ সার্কেলের এএসপি জুয়েল ইমরান এবং শার্শা থানার ওসি গ্রেফতারের পরদিন শার্শা থানায় একটি সংবাদ সম্মেলনে সংবাদিকদের মুখোমুখি হন এবং হত্যাকারী আসামি হাফিজুরের গ্রেফতারের বিষয়ে স্থানীয় সংবাদিকদের অবহিত করেন।

এদিকে ৩১ মে শার্শা উপজেলার পোর্ট থানাধীন কাগজপুকুর খেদাপাড়া (হফিজুর) কোরআন মাদরাসাছাত্র (শাহ পরান) হত্যার পর থেকে হত্যাকারী ঐ মাদরাসার শিক্ষক হাফিজুর মাদরাসা কমিটির কয়েকজন সদস্যের সহায়তায় পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। হত্যার দু’দিন পর একই উপজেলার গোগা ইউনিয়নের গাজিপাড়া এলাকায় আসামি হাফিজুরের বাসা থেকে মৃত অবস্থায় শাহ পরানের লাশ উদ্ধার করে শার্শা থানা পুলিশ। আসামির খোঁজ পেতে শার্শা থানা পুলিশ আসামি হাফিজুরের নিকট আত্মীয় চায়না বেগম (২৫), স্বামী মুক্তচ্ছর বিল্লাহ শার্শা মসজিদের ইমাম, হাসিনা বেগম (২৮), স্বামী খুনি হাফিজুর রহমান, রেশমা খাতুন (৩৫), স্বামী হেদায়েত উল্লাহ (৪৫), পিতা আব্দুল আহাদ এবং মোনায়েম হোসেন (৪৫), পিতা শামসুর রহমান, গ্রাম চৌগাছা, মোট পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে। জিজ্ঞাসা বাদের পর মুচলেখা নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ছেড়ে দেওয়া হয়।

হেদায়েত উল্লাহ অভিযোগ করেন, আমার বোনাই ওয়াহেদ দালাল সৈয়দার মাধ্যমে অর্থ দিয়ে আমাদেরকে শার্শা থানা থেকে ছাড়িয়ে আনেন। সেই মোতাবেক স্থানীয় সংবাদকর্মীরা রিপোর্টটি প্রকাশ করেন। কিন্তু বরাবর শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ মসিউর রহমান টাকা লেনদেন এর বিষয়টি নাকচ করে দেন।

অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে দেখা গেছে, শার্শা থানা সংলগ্ন বসবসকারী স্বীকৃতিপ্রাপ্ত দালাল সৈয়দ আলী সৈয়দাই সকল কাজের নাটের গুরু। ধৃত ঐ ৫ (পাঁচ) নারী-পুরুষকে শার্শা থানা পুলিশ নিঃশর্ত মুক্তি দিলেও ধৃত সৈয়দ আলী সৈয়দা ঐ ৫ (পাঁচ) নারী-পুরুষের কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়।

গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, অর্থের রিপোর্টটি প্রকাশ হওয়ার পর দালাল সৈয়দা তার কাছে গচ্ছিত অর্থ হেদায়েত উল্লাহার কাছে ফিরিয়ে দেন।সৈয়দার সাথে ঐ পাচঁ নারী-পুরুষের মধ্যে টাকা লেনদেনের বিষয়টি শার্শা থানা পুলিশের ওসি মসিউর রহমান এবং তদন্ত কাজে নিয়োজিত এসআই মামুন কোন ভাবেই জানতে পারেননি। শার্শা থানার পুলিশ লেনদেনের বিষয়টি সাংবাদিদের কাছ থেকে জেনে হতবাক হয়ে যান। অনুসন্ধানে আরো বেড়িয়ে আসে অর্থ লেনদেন ও ফেরৎ এর বিষয়টি দালাল সৈয়দা পর্যন্ত এসে থেমে যায়। এ ব্যাপারে থানা এখনও বিষয়টির সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন।

শার্শা থানার এসআই মামুন বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর নির্দেশে ও থানার ইনচার্জ এর নির্দেশনা মেনে আসামি হাফিজুরকে আটক করার জন্য রাতদিন না খেয়ে, না ঘুমিয়ে নিজের টাকা খরচ করে লুঙ্গি, গেঞ্জি পড়ে ছদ্মবেশে অতি গোপনীয়তা রক্ষা করে খুলনা পাঁচ/সাতটি মাদরাসায় অভিযান চালিয়ে অবশেষে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। আসামিকে গ্রেফতার না করা পর্যন্ত আমি নিজের পরিবারের সাথে যোগাযোগ বিছিন্ন রাখি। সেখানে অর্থ লেনদেনের বিষয়টি ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে এসআই মামুন দাবি করেন।

ওসি মসিউর রহমান এ ব্যাপারে বলেন, শাহপরান হত্যায় যদি কোন প্রতারক, দালাল চক্র ও পুলিশের কোন কর্মকর্তা টাকা লেনদেনের ব্যাপারে জড়িত থাকার প্রমান মেলে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে যথাযথ ভাবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অমৃতবাজার/আরএইচ