ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ২ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

৩০০ প্রাণ বাঁচানোর নায়ক শাহান মিয়া


মৌলভীবাজার সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১০:১৫ এএম, ২৪ জুন ২০১৯, সোমবার
৩০০ প্রাণ বাঁচানোর নায়ক শাহান মিয়া

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার বরমচাল রেলক্রসিং এলাকায় রোববার রাত ১২টার দিকে চলন্ত ট্রেনের ৫টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে উল্টে যায়। মধ্যরাতে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে পুলিশকে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার খবর জানান শাহান মিয়া নামে এক যুবক।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উয়ারদৌস হাসান বলেন, রাত ১২টার কিছুক্ষণ আগে এক ব্যক্তি ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে ট্রেন দুর্ঘটনার খবর জানায়। দুর্ঘটনার পরপরই ওই যুবক ৯৯৯ নম্বরে ফোন না দিলে বড় ধরনের ঘটনা ঘটতো। খবর পেয়ে সঙ্গে তখনই ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্য রওনা দেই আমরা।

ওসি বলেন, হতাহতদের উদ্ধারে কাজ করেছে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও বিজিবি। ট্রেনের অন্য যাত্রীদেরও নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

রোববার রাত ১২টার দিকে কুলাউড়ার বরমচাল স্টেশনের পাশে ঢাকাগামী উপবনের বগি ছিটকে পড়ে। তিন শতাধিক যাত্রী নিয়ে রাতে সিলেট স্টেশন থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্য ওই ট্রেনটি ছেড়ে যায়।

এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ৭ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। অন্তত ২০০ যাত্রী আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

পুলিশকে খবর দেয়া শাহান মিয়ার বাড়ি কুলাউড়ার আকিলপুর গ্রামে। তিনি কুলাউড়া ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী।

ট্রেন দুর্ঘটনার বর্ণনা দিয়ে শাহান মিয়া বলেন, আমি বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলাম। বরমচাল সেতুর অনেকটা দূরে আমি তখন। হঠাৎ বিকট শব্দ কানে আসে। সেই সঙ্গে ভেসে আসে মানুষের কান্না, চিৎকার। দূর থেকে তাকিয়ে দেখে, বরমচাল সেতু ভেঙে ট্রেনের বগি নিচে। কাছে যেতেই মানুষের কান্নার আওয়াজ আরও জোরে শোনা যায়। ঘটনার ২-৩ মিনিটের মধ্যেই আমি ৯৯৯ নম্বরে ফোন দেই। সঙ্গে সঙ্গে রিসিভ হয় ফোন। তখন পুলিশকে পুরো ঘটনা খুলে বলি। যদি সময়মতো পুলিশ না আসতো আরো অনেক মানুষের প্রাণহানি ঘটতো।

তিনি বলেন, বরমচাল স্টেশন সংলগ্ন সেতুতে হঠাৎ ট্রেনের ছয়টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে খালে পড়ে যায় এবং একটি বগি উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া লাইনচ্যুত বগির যাত্রী ছাড়াও মারাত্মক ঝাকুনিতে অন্তত দুই শতাধিক যাত্রী আহত হয়। ঘটনাস্থলে এসে আহতদের উদ্ধার করেছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।

অমৃতবাজার/আরএইচ