ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯ | ২৮ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে শ্রমিকদের সংঘর্ষে কার্যক্রম বন্ধ


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৩:৫৪ পিএম, ২২ জুন ২০১৯, শনিবার
পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে  শ্রমিকদের সংঘর্ষে কার্যক্রম বন্ধ

পটুয়াখালীর পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বাংলাদেশি ও চায়না শ্রমিকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ-ভাংচুর, নিহত-আহত ও লুটপাটের ঘটনার পর অচল হয়ে পরেছে এ প্রতিষ্ঠানটির সকল কার্যক্রম। ঘটনার পর থেকে আজ শনিবার চতুর্থ দিনেও পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সব ধরনের কাজ বন্ধ রয়েছে। কবে নাগাদ এখানের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে তা সঠিক করে বলতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।  

অপরদিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তারকৃত ১২ বাংলাদেশি শ্রমিককে আজ শনিবার সকালে কলাপাড়া থানায় আনা হয়েছে এবং এদেরকে বেলা পৌনে ১২টার দিকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।  

এর আগে পায়রা তাপ-বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আশপাশের গ্রাম থেকে গ্রেপ্তারকৃত ৪ জনকে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। এ নিয়ে পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ঘটনায় মোট ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কলাপাড়া থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম। 

এ ব্যাপারে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী আরটিভি অনলাইনকে জানান, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রয়েছে। ল্যাপটপসহ ইলেক্ট্রনিক্স মালামাল লুট হওয়ায় কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না। তবে কার্যক্রম সচল করার জন্য অপ্রাণ চেষ্টা চলছে।  

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার কলাপাড়ার তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কাজ করতে গিয়ে বাংলাদেশি শ্রমিক সাবিন্দ্র দাস নিহত হন। কিন্তু চায়না শ্রমিকরা নিহত হবিগঞ্জ এলাকার সাবিন্দ্র দাসের মরদেহ লুকিয়ে ফেলার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। পরে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে বাংলাদেশি শ্রমিকরা। এ নিয়ে বাংলাদেশি ও চায়না শ্রমিকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘাতে তাপ-বিদ্যুৎ প্লান্ট এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং ওইদিন (মঙ্গলবার) রাতে আহত চায়নিজ শ্রমিক ঝাং ইয়াং ফাং (২৬) চিকিৎসারত অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তাপ-বিদ্যুৎ কেন্দ্রে র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়। এ ঘটনায় চিনা কোম্পানির নিরাপত্তা পরিচালক ওয়াং লিবিং বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার কলাপাড়া থানায় আলাদা দু’টি মামলা করেন এবং আসামি করা হয় ১২শ’ জনকে। এসব আসামিরা সবাই অজ্ঞাত।  বর্তমানে পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকায় পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন আছে এবং প্রশাসন সতর্কতা অবস্থায় রয়েছে। 

অমৃতবাজার/পিকে