ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯ | ২৯ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

স্বামীর চিকিৎসার খরচ মেটাতে শাক বিক্রি


সাইফুল ইসলাম রুদ্র, নরসিংদী

প্রকাশিত: ০৪:৫৩ পিএম, ১৮ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার
স্বামীর চিকিৎসার খরচ মেটাতে শাক বিক্রি

নরসিংদীতে পঙ্গু স্বামীর চিকিৎসা খরচ মেটাতে বিভিন্ন এলাকা থেকে হেটে হেটে বিভিন্ন শাক তুলে বাজারে বিক্রি করছেন সাবিকুন্নেছা। তার স্বামী একজন রাজমিস্ত্রি ছিলেন। ৫ সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার ওপর রয়েছে অসুস্থ পিতামাতা।

গত অক্টোবরে একটি দুঘর্টনায় শিকার হন কাশেম। চিকিৎসার খরচ অনেক। একমাত্র বসতভিটে রেখে বাকীগুলো বিক্রি করে দেন। তাতেও চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে পারছিলেন না এই দরিদ্র পরিবার। আয় রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারের ভরণপোষণ করাই দায়, তার ওপর চিকিৎসার খরচ।

শেষ পর্যন্ত আর কোনো উপায় না পেয়ে সাবিকুন্নেছা শাক তুলে পাঁচদোনা বাজারে প্রতি মোঠা ৫ টাকা করে বিক্রি করেন। প্রতিদিন ৩০০- ৩৫০ টাকা বিক্রি করতে পারেন বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, এই শাক বিক্রি করে আমি আমার দুটি সন্তানকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করেছি। মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করার চেয়ে নদীর পাড়ের শাক বিক্রি করাও অনেক ভাল।

কিন্তু আমার সন্তানরা মানুষের সামনে পরিচয় দিতে কিছু দ্বিধা বোধ করে। আমি এ সমস্ত কিছু পরোয়া না করে আমার সংসারের ভরণ পোষণ করার ভার নিয়েছি এই শাক বিক্রির মাধ্যমে।

মঙ্গলবার শিলমান্দি এলাকা থেকে দুটি শিশুকে নিয়ে শাক উঠাই। সন্ধায় বাজারে বিক্রি করার জন্য বাজারে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে বসে মুঠি বাঁধছি।

ছোট নাহিম বলে, শাক তুলে প্রতিনিয় ৫০ টাকা পাই আমি। এই টাকা দিয়ে বাড়ির জন্য কিছু সদাই কিনে বাড়ি নিয়ে যাই। তাতেই আমার পরিবার খুবই খুশি হয়।

অন্যদিকে ফয়সাল বলে, প্রতিনিয়ত রুদে পুড়ে হেটে হেটে শাক তুলে বিক্রি করতে গেলে বড়রা আমাদের ছোট বলে দাম কম দেয়। অনেক সময় গালাগালও করে বড়রা। কিন্তু তারপরও আমরা এই শাক বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করি।

এদিকে পাঁচদোনার কাচামাল ব্যবসায়ী শাহিন মিয়া বলেন, এই বাজারে দীর্ঘদিন যাবৎ শাক বিক্রি করে তার সন্তানদের মানুষ করে আসছেন। তাই তাকে আমরা এই কাজ করতে উৎসাহ প্রদান করি। আর এই শাক বিক্রি করে তার সন্তানসহ অসুস্থ স্বামীকে চিকিৎসার অর্থ জোগান করেন এই সাবিকুন্নেছা।

অমৃতবাজার/আরএইচ