ঢাকা, সোমবার, ১৭ জুন ২০১৯ | ২ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ঝিকরগাছায় আবাদী জমি গিলে খাচ্ছে ইটভাটা


ইকরামুল সাজু

প্রকাশিত: ০৬:৩৮ পিএম, ১০ জুন ২০১৯, সোমবার
ঝিকরগাছায় আবাদী জমি গিলে খাচ্ছে ইটভাটা

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় ইটভাটা মালিকরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। কিছুতেই দমানো যাচ্ছে না তাদের দৌঁড়াত্ব। কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ইচ্ছে মতো ইটভাটা তৈরি করে অদৃশ্য শক্তির বলে পার পেয়ে যাচ্ছেন বছরের পর বছর। কোন কোন ভাটা মালিক আদালতের আদেশ বলে, কেউ বা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই, কারো বা কোনো কাগজপত্রই নেই, নেই রেজিস্ট্রেশন। তবুও বহাল তবিয়তে চলছে ইটভাটা।

অপরিকল্পিতভাবে যত্রতত্র গড়ে ওঠা ইটভাটিগুলি চোখের পলকে গিলে খাচ্ছে সোনা ফলা আবাদী জমি। জমির উপরিভাগ কেটে ইটভাটাতে ব্যবহার করায় উর্বরতা হারিয়ে উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। এছাড়া প্রতিদিন শত শত অবৈধ ট্রলি ও ট্রাক্টরে অতিরিক্ত ইট ও মাটি পরিবহনের ফলে ভেঙে চৌচির হচ্ছে এলাকার কাচা পাকা রাস্তা ঘাট।

এ বিষয়ে কথা হয় উপজেলার বোধখানা গ্রামের মৃত হাজী নূর মোহাম্মদের ছেলে কৃষক শিহাব উদ্দীনের সঙ্গে।
তিনি বলেন, ‘ইটির ভাটার জন্নি একদিন না খায়ি মত্তি হবে। এক সময় আমাগের এই মাঠে সারা বছর আবাদ হতো আর এখন কোন কিছু হয় না ভাটার জন্নি। ভাটার ধুঁলো ও ছাঁইর জন্নি সব ফসলের ফুল নষ্ট হয়ি যাচ্ছে। কিন্তু আমাগের এসব কথা শুনার তো কোনো লোক নেই।’

ওই গ্রামে মজনু ব্রিকসের কারণে ফসলহানির বিষয়ে সরেজমিনে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। বোধখানা মাঠে তাদের পরিবারের প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে এখন আর আগের মতো ফসল হয় না ওই ভাটার কারণে বলেও জানান শিহাব।

একই গ্রামের মৃত সরোয়ার উদ্দীনের ছেলে মোস্তফা আমান জানান, বোধখানা মাঠে এক সময় সোনা ফলতো। বছরে ৩-৪টি ফসল হতো। তাই অল্প জমি চাষ করেও এই গ্রামের মানুষের ঘরে কোন অভাব ছিল না। কিন্তু ইট ভাটার কারণে এখন আবাদ ঠিক মতো হয় না।

কৃষক আমান আরো জানান, ভাটার পাশে তার ৫১ শতক জমিতে পানের বরজ রয়েছে। যা ভাটার কালো ধোঁয়ার কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ভাটা মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় তার সাথে পেরে ওঠেন না বলেও তিনি দাবি করেন।

ভুক্তভোগি কৃষক মতিয়ার রহমান জানান, তার জমির পাশে ১৫-১৬ ফুট গর্ত করে মাটি কেটে পুকুর বানিয়েছে ভাটা মালিক। ভাঙন শুরু হলে তার জমিও ওদের কাছে বিক্রি করা ছাড়া পথ থাকবে না। এভাবে ভাটা মালিক সারা মাঠ কৌঁশলে ক্রয় করে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন ক্ষতিগ্রস্থ আরেক কৃষক সোলাইমান হোসেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভাটা মালিকের ছেলে মজনু মিয়া জানান, তাদের ইট ভাটার কারণে মাঠের ফসল ভালো হচ্ছে।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আইয়ুব হোসেন জানান, ইট ভাটার কালো ধোঁয়া ও ধুলোর কারণে উদ্ভিদ খাদ্য তৈরি করতে পারে না। ফলে ফসলের ফলন ভালো হয় না।

পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শেখ মো. নাজমুল হুদা বলেন, ইটের ভাটায় ইট পোড়ানোর সময় যে কালো ধোয়া নির্গত হয়, সেটি পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

তিনি বলেন, লোকবলের অভাবে এসব ইট ভাটায় অভিযান চালানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে শীঘ্রই এসব ভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

অমৃতবাজার/আরএইচ