ঢাকা, সোমবার, ০১ জুন ২০২০ | ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ঝিকরগাছায় ভিজিএফ’র চাল বিতরণে অনিয়ম


ঝিকরগাছা সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০৬:২২ পিএম, ০৮ জুন ২০১৯, শনিবার
ঝিকরগাছায় ভিজিএফ’র চাল বিতরণে অনিয়ম

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়নে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার ভিজিএফের চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা নির্বাচনে নৌকার পক্ষে নির্বাচন করায় ৫জন ইউপি সদস্যকে এ কার্যক্রম থেকে বাদ রেখে চাল বিতরণ করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. নিছার আলী।

জানা যায়, ঈদ উপলক্ষে বাঁকড়া ইউনিয়নে হতদরিদ্র ও দুস্থদের জন্য ৪ হাজার ৯০০ কার্ড বরাদ্দ দেয়া হয়। যার প্রতি জনকে ১৫ কেজি করে চাল প্রদান করা হয়। কিন্তু এই চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠে।

অভিযোগে জানা যায়, নৌকার পক্ষে নির্বাচন করায় ১নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রমজান আলী, ২নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুস সোহাবান, ৫নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আজগর আলী, ৭নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সেলিম রেজা ও ৮নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফাকে বাদ রেখেই ইউনিয়নের ভিজিএফ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

ভুক্তভোগী ইউপি সদস্যরা অভিযোগ করেন, ৪৯শ’ কার্ডের মধ্যে চেয়ারম্যান নিছার আলী নিয়েছেন ৪০০, শীর্ষ জনপ্রতিনিধিদের প্রতিনিধি যুবলীগ নেতা কামরুজ্জামান মিন্টু প্রত্যেক ওয়ার্ড থেকে ২শ’ করে মোট ১৮শ’ কার্ড নিয়েছেন এবং চাল পরিবহন বাবদ ৩ টন চাল অর্থাৎ ২১৬টি কার্ডের চাল কেটে নিয়েছেন চেয়ারম্যান নিছার আলী।

তাদের অভিযোগ, প্রতিনিধির মাধ্যমে তারা যে কার্ড করেছে তা বিতরণ না করেই বাজারে বিক্রয় করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ১নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রমজান আলী বলেন, গরীব মানুষ কেউ চাল পায়নি। যারা পেয়েছেন তাদের ছাদের বাড়ি এবং সচ্ছল।

৮নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা জানান, পরিষদে ইউপি সদস্যদের কোন মূল্যায়ন নেই। যতসব বখাটেদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। ৫নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আজগর আলী জানান, আমি ও সেলিম মেম্বর উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলামের লোক কিন্তু চেয়ারম্যান ও তার লোকজনের অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় আমাদের কার্যক্রম থেকে বাদ রেখেছে।

২নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুস সোহাবান জানান, মুখ দেখে চাল বিতরণ করা হয়েছে। যারা নৌকার পক্ষে ভোট দিয়েছে তাদের পরিষদের কোনো সুবিধা দেয়া হচ্ছে না। নৌকায় ভোট দেয়ার অপরাধে আওয়ামী লীগের গরীব সমর্থকদের কেউ কার্ড দেয়া হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চেয়ে বাঁকড়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. নেছার আলীকে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অমৃতবাজার/বিআর