ঢাকা, রোববার, ১৯ জানুয়ারি ২০২০ | ৬ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সাংবাদিকদের নামে ফেসবুকে মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন তথ্য!


এস,কে ফেরদৌস আহমেদ,অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৫:৫৪ পিএম, ৩০ মে ২০১৯, বৃহস্পতিবার
সাংবাদিকদের নামে ফেসবুকে মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন তথ্য!

গত ২৩-০৫-২০১৯ তারিখ থেকে "এমডি শরিফুল খান রহিম" নামক একটি ফেসবুক আইডি থেকে সাংবাদিক এস,কে ফিরোজ আহম্মেদ সহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে (ছবিসহ) মিথ্যা,বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। এস,কে ফিরোজ আহম্মেদ অমৃতবাজার পত্রিকার নিজস্ব পতিবেদক ও সাতক্ষীরা জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্য।

উক্ত "এমডি শরিফুল খান রহিম" নামক আইডির বন্ধু তালিকার কিছু বন্ধুদের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে। সে সাতক্ষীরা জেলার, কালিগঞ্জ থানার ,রতনপুর ইউনিয়নের, মহেষকুড় গ্রামের হাশেম শাহাজীর বড় পুত্র মো: রহিম শাহাজী। সে উর্দ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে এস,কে ফিরোজ ও তাঁর পরিবারকে সমাজ,রাষ্ট্র ও জাতীর কাছে হেয় করা সহ বড় ধরনের বিপদে ফেলার লক্ষ্যে নিমর্জিত আছে। রহিম শাহাজীর এলাকা সূত্রে জানা যায়, রহিম একজন কুখ্যাত চোর ও মাদক ব্যবসায়ি হিসাবে পরিচিত। সে দেশের বিভিন্ন থানার অপহরণ, চুরি ও মাদক মামলা সহ একাধিক মামলার ওয়ারেন্ট ভুক্ত ফেরারি আসামী। সে তার নিজ এলাকার বিভিন্ন মাছের ঘের থেকে মাছ , পানি সেচ দেওয়া মেশিন, সাইকেল,কবুতর,ছাগল,হাঁস-মুরগি ইত্যাদি ছোটখাটো চুরিসহ খুচরা ভিত্তিতে গাঁজা বিক্রয়ের মাধ্যমে অপরাধ জগতের হাতে খড়ি নেয়। এসকল কর্মকান্ডের জন্য রহিম শাহাজী এলাকার সচেতন মানুষের কাছে একাধিকবার গণপিটুনি খাওয়াসহ কয়েক বার হাজত বাস করে । কিন্তু অধিক লোভের বসবতি হয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় মাদক পাচার শুর” করে রহিম । গত ইং ১০-০২-১৪ সালে অভিনব কায়দায় ব্যাটারির ভিতরে ফেন্সিডিল পাচারকালে খুলনা হরিণটানা থানায় আটক হয় রহিম এবং দীর্ঘদিন হাজতবাস করে ,(মামলা নং-জি আর-৭/১৪)।

এছাড়া কালিগঞ্জ থানাসহ সাতক্ষীরা জজ্ আদালতে তার নামে নারী অপহরণ সহ একাধিক মামলা রয়েছে। রহিম মহিষকুড় তার নিজ বাড়ির পাশে খালের ধারে ব্যাটমিন্টন খেলা চলাকালিন সময়ে ইয়্যাবা বিক্রয় কালে পুুলিশ তাকে ইয়্যাবাসহ আটক করে কিন্তু রহিম পুলিশকে ধাক্কা দিয়ে খাল পার হয়ে পালিয়ে যায় এবং তার ছোট ভাই রনিকে পুলিশ আটক করে কিছু জিঙ্গাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেয়। এসকল বিষয়ে এলাকার সকলেই জানেন।

ধুরন্ধর রহিম মাদক ব্যসায়ীদের নিকট থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে তাদের মাদক সরবরাহ করতে ব্যর্থ হওয়ায় ঢাকা,খুলনা,বরিশালসহ বিভিন্ন জায়গার মাদক ব্যবসায়ীদের নিকট একাধিকবার আটক ছিলো এবং তার পিতা-মাতা টাকা পরিশোধের মাধ্যমে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসতো।

সে ভালো হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঢাকায় সাংবাদিক ফিরোজের নিকট থেকে দৈনিক ভাড়া ভিত্তিতে একটি ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক ক্রয় করে নেয়। কিন্তু কথায় আছে,“চোরে না শোনে ধর্মের কথা ” সে ইজিবাইকটি চুরি করে বিক্রয় করে নিজ এলাকায় চলে আসে। উক্ত বিষয়ে রহিম শাহাজীর নামে ঢাকা মুগদা থানা ও কালিগঞ্জ থানাতে ইজিবাইক চুরির অভিযোগ পত্র দাখিল হওয়াতে কালিগঞ্জ থানার ফোর্স মহেশকুড় গ্রামের গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) বাবুলকে সাথে নিয়ে রহিমের বাড়িতে যায় এবং পুলিশের উপস্থিতি টেরপেয়ে রহিম পালিয়ে যায়। সেই থেকে সাংবাদিক এস,কে ফিরোজ ও তাঁর পরিবার হয়ে গেল রহিমের চোখের বিষ। রহিম সুযোগ পেলেই তাঁদের ক্ষতি করার চেষ্টা করে। কিন্তু রহিম ছাড়তে পারেনি যুবসমাজ ধংসকারী লাভজনক সেই মাদক ব্যবসা। সে তার লাভজনক মাদক ব্যবসা বড় করার লক্ষ্যে এলাকার কিছু প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় খালে অবৈধ বেড়ি বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ এবং উক্ত খালপাড়ে রমরমা মাদক ব্যবসা ও জুয়ার আখড়া পরিচালনা করতো। এবিষয়ে গত ইং-১৫-০৮-২০১৭ তারিখে জাতীয় দৈনিক সংবাদ সংযোগ এবং স্থানীয় দৈনিক দক্ষিণের মশাল এ “কালিগঞ্জ রহিমের রমরমা ইয়্যাবা ব্যবসা ” শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রশাসন উক্ত স্থানে কয়েক দফা অভিযান পরিচালনা করেন । এসব অভিযানে মাদক ব্যরসায়িরা আটক না হলেও,গত ইং-২০-০৯-২০১৭ তারিখে উক্ত খালপাড়ের জুয়ার বোর্ড হতে কালিগঞ্জ থানার পুলিশ চার জন জুয়াড়িকে আটক করেন কিন্তু রহিম সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় এবং কালিগঞ্জ ভূমি অফিসের মাধ্যমে সরকারি খালটি রহিমদের দখল থেকে দখলমুক্ত করা হয়। এঘটনায়ও রহিমের সন্দেহের তীর থাকে সাংবাদিক এস,কে ফিরোজের দিকে। তারই কিছু দিন পর রহিমকে কালিগঞ্জ থানার এস আই মিজানুর রহমান মহেশকুড় প্রাইমারি স্কুল সংলগ্ন পাঁকা রাস্তার উপরে আটক করে তল্লাশি চালিয়ে সাত পিছ ইয়্যাবা উদ্ধার করে কিন্তু রহিম তার কাছে থাকা মোবাইল এবং সাইকেল ফেলে রেখে সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়, এস আই মিজান তখন সেই মোবাইল ও সাইকেলটি এলাকার মেম্বর রফিক আহম্মেদ রফুর হেবাজতে রেখে চলে যায়। তারই কিছুদিন পরে রহিম ভাড়াটে মাস্তান হিসাবে দুদলি মারাদ মীরেদের জমি জোর পূর্বক দখল কালে গনপিটানি খায় এবং কিছুদিন কালিগঞ্জ হাসপাতালে থাকে।

কালিগঞ্জ থানার মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকায় থাকায় ও বিভিন্ন থানার ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামী হওয়ায় সে পুলিশের হাত থেকে রক্ষা পেতে সম্পূর্ণ আত্মগোপনে রয়েছে। বিভিন্ন বিশ্বাস যোগ্য মাধ্যম থেকে জানা যায়, সে বাংলাদেশ ত্যাগ করে সম্পূর্ন অবৈধ ভাবে পাসপোর্ট বিহীন নদী পথে ভারতে চলে যায় এবং তার পিতা হাশেম শাহাজীকেও ভারতে নিয়ে যায়। তার পর থেকে রহিমের পিতাকে মাসে দুই তিন বার করে ভারতে যাওয়া আসা করতে দেখা যায়। একটি নির্ভর যোগ্য সূত্র থেকে জানা যায় রহিম তার পিতার মাধ্যমে ফেন্সিডিল বাংলাদেশে পাঠায়। এলাকার সকলের ধারনা, রহিম তার অবৈধ মাদক ব্যবসা সহ সকল অবৈধ কাজগুলো সুষ্ঠ্য ভাবে পরিচালনা করতে নাপারার জন্য এস,কে ফিরোজকে দ্বায়ী করে এবং সেই প্রতিশোধ নিতে সে আত্মগোপনে থেকে ফিরোজ ও তাঁর পরিবারকে সমাজের নিকট হেয় করার লক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এসব মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিক এস,কে ফিরোজ বলেন,"রহিম ও তার পরিবার একজন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী। সে ভালো হতে চাওয়ায় আমি তাকে একটা ইজিবাইক কিনে দিয়েছিলাম। কিন্তু সে সেটা চুরিকরে বিক্রয় করে ঢাকা থেকে পালিয়ে যায়। আমি তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করে ছিলাম। পুলিশের তাড়া খাওয়ার পর থেকে সে আমাকে শত্রু হিসাবে দেখে এবং আমাকে সমাজের কাছে ছোট করতে ফেসবুকে এসব মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি এবিষয়ে থানায় অভিযোগ করেছি এবং তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এবিষয়টি নিয়ে ডিবির একটি দল কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।"

এবিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির, সভাপতি বরুণ ব্যনার্জী বলেন, এস কে ফিরোজ আমাদের সাতক্ষীরা জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্য। আমাদের জানা মতে, সে কখনো অপরাধ মূলক কর্ম কান্ডে নিয়োজিত নয় সে এক জন সৎ সাহসী সাংবাদিক,তাকে সমাজে ছোট করার লক্ষে একটি চক্র এমন অপপ্রচার চালাচ্ছে, আমরা এটার নিন্দা জানায় এবং একই সাথে সাতক্ষীরা জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির পক্ষ থেকে ইতো পূর্বে কঠোর আইন গত ব্যাবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।

এসকল বিষয়ে রহিমের পিতা, হাশেম আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি কাজের বাহানায় ব্যাস্ততা দেখিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে কিছু বলতে পারবে না বলে চলে যায়।

এ বিষয়ে সচেতন মহলের প্রশ্ন ? রহিমের বাবা এক জন ভ্যান চালক। যার দিনে খাওয়ার টাকা হতো না সে হটাৎ করে অল্প দিনে ইট দিয়ে এমন পাঁকা ঘর নির্মান করে কিভাবে এবং সে প্রতি মাসে ভারতে গিয়ে এমন কি কাজ করে এত দ্রুত ঘর বাড়ি টাকা পয়সার মালিক হচ্ছে নাকি আলাউদ্দিনের চেরাক পেয়েছে, এমনটা প্রশ্ন সচেতন মহলের । সচেতন মহল এসকল বিষয় খতিয়ে দেখার জন্য প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছে।

অমৃতবাজার/ফেরদৌস/পিকে