ঢাকা, রোববার, ১৬ জুন ২০১৯ | ২ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ঝিকরগাছা রেজিস্ট্রি অফিসের কেরানি রবিউল বেপরোয়া


নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:০৫ পিএম, ২৩ মে ২০১৯, বৃহস্পতিবার | আপডেট: ১১:৪৬ পিএম, ২৩ মে ২০১৯, বৃহস্পতিবার
ঝিকরগাছা রেজিস্ট্রি অফিসের কেরানি রবিউল বেপরোয়া

 

যশোরের ঝিকরগাছার রেজিস্ট্রি অফিসের কেরানি রবিউল বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। বৃহস্পতিবার রবিউলকে ঘুষের টাকা কম দিতে চাওয়ায় দলিল লেখক রানা শারীরীকভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

সূত্র জানায়, কেরানি রবিউল দীর্ঘদিন ধরেই ঝিকরগাছা রেজিস্ট্রি অফিসে ক্ষমতাসীন কতিপয় উচ্ছৃংখল নকল নবিশদের হাত করে দেদারছে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রত্যেক দলিল লেখককে একটি দলিল করতে হলে দলিলের মূল্যের প্রতি লাখে তিন হাজার টাকা করে কোন রশিদ ছাড়াই কেরানি রবিউলকে ঘুষ দিতে হয়। এমন তথ্য দীর্ঘদিন ধরেই গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে আসতে থাকে।

সরেজমিনে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ঝিকরগাছা রেজিস্ট্রি অফিসে বারবাকপুর মৌজার ১৯.৫০ শতক জমিসহ তিনতলা একটি বাড়ির  দলিল রেজিস্ট্রি হয়। যার মূল্য দেখানো হয় এক কোটি টাকা। কোটি টাকার দলিল রেজিস্ট্রির বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে ওই দলিলের লেখক রানার সাথে যোগাযোগ করা হয়। রানা  বিকেল ৪টার দিকে একজন সাংবাদিককে সাথে নিয়ে ওই কেরানি রবিউলকে কোটি টাকার দলিল বাবদ ১০ হাজার টাকা দিতে চাইলে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেন।

সাংবাদিকের সামনেই রবিউল চিৎকার দিয়ে বলেন, ‘টাকা সরান। ৩০ হাজারের এক টাকা কম নেয়া হবে না। আর আপনি সাংবাদিক নিয়ে আসায় আপানার আরো ব্যবস্থা হবে।’

তখন সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে কেরানি রবিউলকে প্রশ্ন করা হয়; আপনাকে দলিল লেখক ৩০ হাজার টাকাই দিবে কিন্তু আপনি কি এ টাকার রশিদ দিতে পারবেন? তখন কেরানি রবিউল আরো উত্তেজিত হয়ে বলেন এসব টাকার কোন রশিদ হয় না।

এ সময় অবস্থা বেগতিক দেখে রবিউল তার সাথে সিন্ডিকেট করে চলা কতিপয় উচ্ছৃংখল নকল নবিশদের ডেকে সাংবাদিকদের ও দলিল লেখক রানাকে হুমকি দিতে থাকেন। সাংবাদিক ওই রেজিস্ট্রি অফিস থেকে চলে যাওয়ার পরপরই কেরানি রবিউল মাস্তান ভাড়া করে দলিল লেখক রানাকে অফিসের সামনে প্রকাশ্যে মারপিট করেন।

এরপর রানা প্রাণ ভয়ে ২৫ হাজার টাকা ওই কেরানি ঘুষ দিয়ে প্রাথমিকভাবে মুক্তি পায়। বর্তমানে কেরানি রবিউলের পক্ষে এক সন্ত্রাসী প্রকাশ্যে অনবরত সাংবাদিকদের হুমকি দিয়ে চলেছে। যার তথ্য প্রমাণ প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় দেওয়া হয়েছে।

অমৃতবাজার/এএস