ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯ | ১১ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ঘরে ডেকে নিয়ে দরজা বন্ধ করে স্কুলছাত্রীকে পুলিশের ধর্ষণ


মাতুব্বর শফিক স্বপন, মাদারীপুর

প্রকাশিত: ০৩:০৭ পিএম, ২০ মে ২০১৯, সোমবার
ঘরে ডেকে নিয়ে দরজা বন্ধ করে স্কুলছাত্রীকে পুলিশের ধর্ষণ

মাদারীপুর পৌরসভার টিবি ক্লিনিক সড়কে এক স্কুলছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে মোক্তার হোসেন নামে এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় নির্যাতিত স্কুলছাত্রীকে রোববার রাতে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর পুলিশ লাইনের পুলিশ সদস্য মোক্তার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে শহরের টিবি ক্লিনিক সড়কে ভাড়া থাকেন। কয়েক দিন আগে মোক্তারের গর্ভবতী স্ত্রী গ্রামের বাড়ি চলে যান। এই সুযোগ রোববার রাতে প্রতিবেশী এক স্কুলছাত্রীকে ঘরে ডেকে নেন। এ সময় দরজা বন্ধ করে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়।

পরে পুলিশ সদস্য মোক্তার হোসেন স্কুলছাত্রীকে পিছনের ভেন্টিলেটর দিয়ে ফেলে দেন। এতে স্কুলছাত্রী গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

নির্যাতিত স্কুলছাত্রী বলেন, মোক্তার হোসেন আমাকে তার ঘরে ডেকে নিয়ে দরজা বন্ধ করে আমার সাথে খারাপ কাজ করেছে। পরে স্থানীয়রা টের পেয়ে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দিলে আমাকে সে ভেন্টিলেটর দিয়ে ফেলে দেয়। এতে আমার পায়ের হার ভেঙে গেছে। এর আগে সে আমাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়েছে।

এ ব্যাপারে স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘক্ষণ ঘরের মধ্যে ওই মেয়েকে নিয়ে থাকায় আমাদের সন্দেহ হয়। পরে আমরা বাইরে থেকে ঘরের দরজা বন্ধ করে দিলে সে মেয়েটিকে ভেন্টিলেটর দিয়ে ফেলে দেয়। এতে মেয়েটি গুরুতর আহত হয়ে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

মাদারীপুর সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মফিজুল ইসলাম লেলিন জানান, মেয়েটি হার ভেঙে গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। সেরে উঠতে কমপক্ষে ৩ মাস সময় লাগবে।

অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য মোক্তার হোসেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আমাকে শুধু শুধু স্থানীয়রা ঘরের বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দিয়েছিল। ওই মেয়ে সাথে আমার কিছু হয়নি।

বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে আপনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করলে আপনি পুলিশ সুপার বা ওসির সাহায্য নেননি কেন? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি কোন উত্তর দিতে পারেননি।

মাদারীপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল ) বদরুল আলম মোল্লা বলেন, আমি সদর হাসপাতালে গিয়ে মেয়েটির সাথে দেখা করে এসেছি। মেয়েটির পরিবারের সদস্যদের সকল আইনগত সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছি। যে পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মৌখিকভাবে অভিযোগ করা হয়েছে তারও তদন্ত আমরা গুরুত্ব সহকারে করছি। তদন্তে দোষী প্রমাণ হলে পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অমৃতবাজার/আরএইচ