ঢাকা, সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৭ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ঝিকরগাছায় ‘ছেলেধরা’ আতঙ্ক, পুলিশ বলছে গুজব


এম আলমগীর, ঝিকরগাছা

প্রকাশিত: ১১:১৩ এএম, ১১ মে ২০১৯, শনিবার | আপডেট: ১২:২৮ পিএম, ১১ মে ২০১৯, শনিবার
ঝিকরগাছায় ‘ছেলেধরা’ আতঙ্ক, পুলিশ বলছে গুজব

গত কয়েকদিন যাবৎ বাঁকড়া এলাকাসহ যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় ছেলেধরা নামক এক গুজবের সৃষ্টি হয়েছে। যার সূত্রপাত হয়, কলারোয়া উপজেলার শাকদাহ গ্রাম থেকে।

শাকদাহ গ্রামের পার্শ্ববর্তী এলাকা ঝিকরগাছা উপজেলার মুকুন্দপুর, খাটবাড়িয়া, পোদাউলিয়া, বাঁকড়া, উজ্জ্বলপুর, সোনাকুড়, হাজিরবাগ, ইস্তা, সাদিপুর, নিশ্চিন্তপুর, কানাইরালী, বল্লাসহ বিভিন্ন গ্রামের মসজিদে মসজিদে ঘোষণা দেয়া হয় এলাকায় একশ্রেণির ছেলেধরা প্রবেশ করেছে।

তারা মানুষকে চেতনানাশক ওষুধ দিয়ে অজ্ঞান করে বাচ্চা নিয়ে যাচ্ছে। এই খবরে সারা এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। গ্রামের লোকজন লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পাহারা দেওয়া এবং অপরিচিত লোক দেখলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা শুরু করে। আতঙ্কিত মানুষ রাতে ছেলেধরা-ছেলেধরা বলে চিৎকার করে গ্রামের মানুষ তাদের খুঁজতে থাকে কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাউকে পাওয়া যায় না।

এদিকে উপজেলার বেজিয়াতলা, উজ্জ্বলপুর ও মণিরামপুর উপজেলার গোয়ালবাড়ি গ্রামে ছেলেধরা আটক হয়েছে বলে খবর প্রকাশ হয়।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, তারা মানসিক ভারসাম্যহীন অপরিচিত মানুষ। তাদেরকে অনাকারণেই গণধোলাই দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে বাঁকড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মেজবাহ আহমেদ জানিয়েছেন, যাদেরকে আটক করা হয়েছে তারা সকলেই মানসিক ভারসাম্যহীন।

তারা ঠিকমত কথা বলতেও পারে না। উজ্জ্বলপুর গ্রামে আটকের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই, সেখানে আটককৃত একজন বয়স্ক লোক। মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষ। গ্রামের মানুষের সম্মতিতে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার রাতেও কানাইরালী ও নিশ্চিন্তপুর গ্রামে ছেলেধরা আতঙ্কে লোক তাড়ানো হয়েছে কিন্তু কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এদিকে ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাক থানার অফিসিয়াল ফেসবুকে সকলকে সহযোগিতার আহবান জানিয়ে লিখেছেন, সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে কতিপয় লোক শিশু পাচারকারী/রোহিঙ্গা বলে অভিহিত করে মানুষিক ভারসাম্যহীন অজ্ঞাতনামাদের মারপিট করে এলাকায় গুজব সৃষ্টিসহ সাধারণ জনমনে ভীতি সৃষ্টি করছে। শিশু পাচারকারী দলের সদস্য আটক হয়েছে মর্মে তথ্যের ভিত্তিতে ঝিকরগাছা থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে বিষয়টি সম্পর্কে উপস্থিত স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিসহ আটককৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার কোনো সত্যতা পাওয়া যায় নাই এবং শিশু পাচার হয়েছে মর্মে কোনো ব্যক্তি লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ প্রদান করে নাই।

কতিপয় কিছু ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে গুজব সৃষ্টি করে অহেতুক জনমনে ভীতি সৃষ্টি করছে। সঠিক তথ্য প্রমাণ ব্যতিত গুজব সৃষ্টি না করে ঘটনা সংক্রান্তে কোনো ব্যক্তির অভিযোগ থাকলে অভিযোগ দায়ের করার জন্য অনুরোধ করা হলো। অভিযোগ প্রাপ্তির সাথে সাথে তাৎক্ষণিক বিধি মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। থানা এলাকার সার্বিক আইন শৃক্সখলার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে ঝিকরগাছা থানা পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য সর্বসাধারণকে আহবান করা হলো।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুল ইসলাম জানান, গুজবে কোনো রকম কান দিবেন না। যদি আপনাদের কোনো প্রকার সন্দেহ হয় তাহলে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করুণ। আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব। কেউ আইন নিজে হাতে তুলে নিবেন না।

অমৃতবাজার/আলমগীর/এএস/আরএইচ