ঢাকা, রোববার, ১৯ জানুয়ারি ২০২০ | ৬ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

পরীক্ষায় পাসের মিষ্টি কিনতে গিয়ে লাশ হলো ২ বন্ধু


কক্সবাজার সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০৩:৩৭ পিএম, ০৭ মে ২০১৯, মঙ্গলবার
পরীক্ষায় পাসের মিষ্টি কিনতে গিয়ে লাশ হলো ২ বন্ধু

এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন তারা। এই আনন্দে এক মোটরসাইকেলে করেই মিষ্টি কিনতে গিয়েছিলেন চার বন্ধু। কিন্তু মিষ্টি কিনে ফেরার পথে বাসের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন দুই বন্ধু। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজারের ঈদগাঁহ ফরিদ আহমদ কলেজ এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ঈদগাঁওর কলেজ গেইট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এ সময় আরো দুই বন্ধু আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ওই বাসে আগুন দেয়। এতে দুই ঘণ্টা ওই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ তাকে।

নিহতরা হলেন- রামু উপজেলার রশিদনগর ইউনিয়নের কালিরছড়া এলাকার প্রবাসী আবু তাহেরের ছেলে মোহাম্মদ ইমরান (১৬) ও একই এলাকার শামশুল আলমের ছেলে শামীমুল আলম রাহুল (১৭)।

আহতরা হলেন- কালিরছড়া এলাকার নুরুল আলমের ছেলে শামীমুর রহমান (১৭) ও নুরুল আলমের ছেলে জয়নাল আবেদীন (১৭)। হতাহতরা সবাই সোমবার প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে উত্তীর্ণ হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তারা সবাই ঈদগাঁহ কেজি স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এক মোটরসাইকেলে চার শিক্ষার্থী মিষ্টি কিনতে ঈদগাঁও বাস স্টেশনে যায়। মিষ্টি নিয়ে ১০টার দিকে বাসায় ফেরার পথে কলেজ গেইট এলে চট্টগ্রামমুখী হানিফ পরিবহণের (চট্টমেট্টো-ব-১১-০২৪৩) বাসটি রং সাইডে এসে মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। এতে আরোহীসহ মোটরসাইকেলটি বাসের নিচে ঢুকে যায়। মোটরসাইকেল ও আরোহীসহ গাড়িটি সামনে বেশ কিছুদুর চলে আসে। এতে ক্ষতবিক্ষত আরোহীদের মাঝে ইমরান ঘটনাস্থলে মারা যায়। স্থানীয়রা দ্রুত এসে বাসের নিচ থেকে মোটরসাকেল আরোহীদের বের করে ঈদগাঁও হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সবাইকে চকরিয়ার মালুমঘাট হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে অবস্থান অবনতি হলে শামীমকে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে মারা যায় শামীম।

বাসটি সড়কের একপাশে রেখে চালক হেলপার পালিয়ে যায়। এদিকে দুই শিক্ষার্থী নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়ায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে এসে বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ায় ভয়ে উভয়পাশে আটকা পড়ে যানবাহন। শিক্ষার্থীরা বাসস্টেশন এলাকায় টায়ার ও অন্যদ্রব্য দিয়ে আগুন দেয়। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। এর রেশ দক্ষিণে প্রায় রামু উত্তরে ইসলামপুর পর্যন্ত পড়ে। খবর পেয়ে ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ও রামু দমকল বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সদর উপজেলার ঈদগাঁহ পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই সঞ্জিত চন্দ্র নাথ। তিনি জানান, চালক ও সহকারী পালিয়ে গেলেও ক্ষুব্ধ জনতা বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়; সড়ক অবরোধ করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ বাসের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে; ক্ষুব্ধ লোকজনকে সড়ক থেকে সরিয়ে দিয়ে গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক করে।

অমৃতবাজার/আরএইচ