ঢাকা, বুধবার, ২২ মে ২০১৯ | ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শার্শায় প্রতিবেশির আঘাতে দম্পত্তি আহত, মামলা না করার হুমকি


বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০:৫৩ পিএম, ১৯ এপ্রিল ২০১৯, শুক্রবার | আপডেট: ১১:০৬ পিএম, ১৯ এপ্রিল ২০১৯, শুক্রবার
শার্শায় প্রতিবেশির আঘাতে দম্পত্তি আহত, মামলা না করার হুমকি

যশোরের শার্শায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক দম্পত্তিকে মারাত্মকভাবে পিটিয়ে আহত করেছে বেপরোয়া প্রতিবেশি। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার দুপুরে উপজেলার ডিহি ইউনিয়নের নারকেলবাড়িয়া গ্রামে। এ ঘটনায় আহত দম্পত্তিকে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে স্বজনরা।

হাসপাতাল ও আহতদের স্বজনরা জানান, গত বৃহস্পতিবার সকালে নারকেলবাড়িয়া গ্রামের আব্দুল হাই ও তার স্ত্রী মুসলিমা খাতুন আত্মীয়র বাড়িতে বেড়াতে যান। ফিরে এসে তাদের পোষা ছাগলের মৃত বাচ্চা দেখতে পান। এ ঘটনায় প্রতিবেশি সইরুননেছার কাছে মৃত বাচ্চার বিষয়ে জানতে চাইলে বিষয়টি তারা কিছুই জানেন না বলে জানান। উক্ত  ঘটনার জের ধরে শুক্রবার দুপুরে প্রতিবেশি সইরুননেছা ও তার ছেলে আবু হানিফ ভাই নজরুল ইসলাম এবং বোন মরিয়ম মিলে আব্দুল হাই ও তার স্ত্রীকে বেদমভাবে পিটিয়ে গুরুতর রক্তাত্ব জখম করেন। পরে আহত দম্পত্তিকে স্বজনরা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মশিউল আলম জানান, আহত আব্দুল হাইয়ের মাথায় ৪টি সেলাই দেয়া হয়েছে এবং তার স্ত্রীর মুখে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারপিটের কারণে জখম হওয়ায় তাদের দু’জনকেই হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে।

এ ব্যাপারে নারকেলবাড়িয়া গ্রামের ওয়ার্ড মেম্বার ফারুখ হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। শনিবার সকালে হাসপাতালে গিয়ে খোঁজখবর নেবো এবং উভয়পক্ষের জবান নিয়ে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলবো।

জানতে চাইলে গোড়পাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খায়রুল আলম জানান, ঘটনাটি লোক মারফত শুনেছি। এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্তা নেওয়া হবে।

এদিকে আব্দুল হাই ও মুসলিমা খাতুন চরম আতঙ্কের মধ্যে আছেন বলে তারা জানান। তারা বলেন, সইরুননেছা পেশায় সুদের ব্যবসায়ী। তার ছেলে আবু হানিফা মাদক ব্যবসায়ী। তারা উল্টো মামলা করার ভয়ভীতি দেখিয়ে চলেছে এবং বেশি বাড়াবাড়ি করলে আব্দুল হাইকে ধর্ষণ মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকিও দিচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এই দম্পত্তি।

অমৃতবাজার/রাসেল/এএস