ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯ | ৭ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

পাঁচবিবিতে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ


জয়পুরহাট প্রতিনিধি:

প্রকাশিত: ১২:২৫ এএম, ২৯ মার্চ ২০১৯, শুক্রবার
পাঁচবিবিতে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

 

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে রাজশাহী বিভাগ (সিরাজগঞ্জ জেলা ব্যতিত) পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আয়মারসুলপুর-শিমুলতলী সড়কের ১ কিলোমিটার পাকাকরণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী।

অনিয়মের প্রতিবাদ করায় উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে লাঞ্চিতের শিকার হয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা মকলেছুর রহমান। গত বছরের ২৩ জুলাই স্থানীয় সংসদ সদস্য নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করলেও সম্প্রতি কাজ শুরু করেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মা তাসিন এন্টার প্রাইজ।

সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, গত বছরের জুলাই মাসে আয়মারসুলপুর থেকে শিমুলতলী পর্যন্ত ১ কিলোমিটার কাঁচা সড়কের পাকাকরণের কাজ উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সামছুল আলম দুদু। উদ্বোধনের পর সড়কের মাটি কেটে রেখে চলে যায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মা তাসিন এন্টারপ্রাইজ। এতে চলাচলে দুর্ভোগে পড়ে এলাকাবাসী। দীর্ঘ ৭ মাস পর চলতি মার্চ মাসে সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কাজের শুরু থেকেই সড়কে প্রকৃত বালু না দিয়ে মাটি মিশানো বালি দিয়ে ভরাটের কাজ শুর করলে এলাকাবাসী বাধা দেয়। এরপর নিম্নমানের ইট, খোয়া (ইটের টুকরো) আর বালু দিয়ে সাব বেজের কাজ শুরু করলে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা মকলেছ মন্ডলের নেতৃত্বে এলাকাবাসী বাধা দেয়।

এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে নিম্নমানের খোয়া তুলে সড়কের ধারে ফেলে রাখে। বাধ্য হয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সড়কের কিছুটা অংশে নিম্ন মানের ইট ও খোয়া সরিয়ে নেয়। পরবর্তীতে আবারো নিম্নমানের ইটের খোয়া দিয়ে কাজ শুরু করলে এলাকাবাসী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানে নিযুক্ত শ্রমিকদের মারধর করে। সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ তুলে উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কাইয়ুমের কাছে প্রতিবাদ করলে প্রকৌশলী কাইয়ুম তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন বলে জানান মুক্তিযোদ্ধা মকলেছুর রহমান।

মুক্তিযোদ্ধা মকলেছ জানান, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে সড়কের মাটি কেটে রেখে কাজ করেনি। এখন কাজ শুরু করলেও সড়ক নির্মাণের সব পর্যায়ে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করছে। সড়ক নির্মাণে ঠিকাদরী প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা সিরাজুল ইসলাম অনিয়মের কথা স্বীকার করে জানান, এলাকাবাসী বাধা দেওয়ায় নিম্নমানের ইট ও খোয়া সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সিরাজুল ইসলাম ঠিকাদারের মুঠোফোন নম্বর দিতে রাজি হননি।

সড়ক নির্মাণে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কাইয়ুম জানান, অনিয়ম দূর করে সঠিকভাবে কাজ আদায় করে নেওয়া হবে। কারিগরি প্রতিবেদন ভালো না হলে ঠিকাদারকে অর্থ ছাড় করা হবে না। তিনি আরো জানান, মুক্তিযোদ্ধা মকলেছুর রহমানের সাথে খারাপ আচরণ করিনি। তবে তার প্রতি আমি বিরক্ত।

অমৃতবাজার/এফসি জেসান/এএস