ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯ | ১২ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানীর অভিযোগ


চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১:৩৭ পিএম, ১৯ মার্চ ২০১৯, মঙ্গলবার | আপডেট: ১১:৩৮ পিএম, ১৯ মার্চ ২০১৯, মঙ্গলবার
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানীর অভিযোগ অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক শাহাজান কবির

যশোরের চৌগাছায় ছাত্রীকে কু-প্রস্তাব দিয়ে ফেঁসে গেছেন প্রধান শিক্ষক শাহাজান কবির। তিনি উপজেলার এবিসিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। মঙ্গলবার দুপুরে মোবাইল ফোনে একজন অভিভাবকের অভিযোগ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফুল আলম তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে যাওয়ার নির্দেশ দেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফুল আলম বলেন, ছাত্রীর অভিভাবকের লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে সত্যতা পেলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জানা যায়, উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের এবিসিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাজান কবীর তারই স্কুলের অষ্টম ও সপ্তম শ্রেণির কয়েকজন ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়ান। সেখানে তিনি প্রায়ই ছাত্রীদের কুপ্রস্তাব দেওয়াসহ উত্যক্ত করেন। মঙ্গলবার প্রাইভেট পড়ানোর সময় অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী এবং সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী একসাথে প্রাইভেট পড়তে আসলে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে তিনি বলেন তুমি একটু বাইরে যাও। এরপর রুমের মধ্যে ওই ছাত্রীকে তিনি শ্লীলতাহানী করেন।

পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ওই ছাত্রীর অভিভাবক উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানান। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম রফিকুজ্জামানকে ঘটনাস্থলে পাঠান। এর আগেই সেখানে চৌগাছা থানা পুলিশের দু’জন এসআই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। ওই পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতেই শিক্ষা কর্মকর্তা ছাত্রীদের নিকট জানতে চাইলে তারা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে জোরালোভাবে শ্লীলতাহানীর অভিযোগ করেন।

উল্লেখ্য, দু’বছর আগেও একবার একই স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে শ্লীলতাহানীর অভিযোগ উঠেছিল এই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এর আগে এক মহিলা বীমা কর্মীর সাথে আপত্তিকর অবস্থায় তিনি ধরা পড়েছিলেন। বেশ টাকা খুইয়ে তিনি সে যাত্রা রক্ষা পান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েক ছাত্রী ও অভিভাবকরা জানান প্রধান শিক্ষকের এটি পুরান রোগ। তার বিরুদ্ধে বহু আগে থেকেই এ ধরনের অভিযোগ হয়ে আসছে। তারা তার শাস্তি দাবি করেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম রফিকুজ্জামান বলেন, আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি সেখানে ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসান ও দু’জন পুলিশ অফিসার রয়েছেন। আমি নিজে ছাত্রীদের সাথে কথা বলে বুঝতে পেরেছি প্রধান শিক্ষক অন্তত দু’ছাত্রীর শরীরে হাত দিয়েছেন। ছাত্রীরা জোরালোভাবে তার সম্মুখে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেও তিনি কোনো সদুত্তোর দিতে পারেননি। তিনি শুধু বলেছেন আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

চৌগাছা থানার ওসি রিফাত খান রাজিব বলেন, খবর পেয়ে আইন শৃঙ্খলা শান্ত রাখতে ঘটনাস্থলে দুইজন পুলিশ অফিসারকে পাঠানো হয়েছিল। তবে এ ব্যাপারে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি।

এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক শাহাজান কবিরের নিকট জানার জন্য মোবাইলে কল দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

অমৃতবাজার/ফিরোজ/আরবি