ঢাকা, বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯ | ৮ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

চার জেলায় ‌‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৫


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২:১৮ পিএম, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, শুক্রবার
চার জেলায় ‌‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৫

সারাদেশে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এরমধ্যে খুলনায় ১, কুমিল্লায় ১, ময়মনসিংহে ১ ও টেকনাফে ২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের একজনকে ডাকাত ও চারজনকে মাদক ব্যবসায়ী দাবি করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত এ ‘বন্দুকযুদ্ধে’র ঘটনা ঘটে।

খুলনা: খুলনায় পুলিশের সাথে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মাসুদ রানা ওরফে মাসুদ নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩:২০ মিনিটের দিকে নগরীর নিরালা কবরস্থান সংলগ্ন দীঘির পার এলাকায় বন্দুকযুদ্ধের এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করেছে।

পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামান মিঠু জানান, রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিরালা দীঘির পার কবরস্থান এলাকায় মাদক উদ্বারে অভিযান চালায় তারা। এ সময় পুলিশের সাথে দুই পক্ষের মধ্য গোলাগুলিতে মাদক ব্যাবসায়ী মাসুদ রানা নিহত হয়।

পুলিশ জানায় নিহত মাসুদ এর বিরুদ্বে বিভিন্ন থানার একাধিক মামলা রয়েছে এবং সে নগরীর কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী। মাসুদ খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার বসুপাড়া এলাকার মৃত আ. হকের ছেলে।

কুমিল্লা: কুমিল্লার তিতাসে বন্দুকযুদ্ধে মো. আল-আমিন নামে এক ডাকাত নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জেলার তিতাস উপজেলার ঝড়িকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আল-আমিন ওই উপজেলার জিয়ারকান্দি ইউনিয়নের নয়াগাঁও গ্রামের মাঈনুদ্দিনের ছেলে। ঘটনাস্থল থেকে একটি রিভলবার, একটি এলজি ও ৫ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

জানা যায়, দাউদকান্দির গৌরীপুর বাজারের রিয়াজ ট্রেডের ৫জন সেলসম্যান অটোরিক্সাযোগে বৃহস্পতিবার সকালে টাকা নিয়ে হোমনা যাচ্ছিল। পথে গৌরীপুর-হোমনা সড়কের তিতাস উপজেলার দড়িকান্দি সেতু অতিক্রম করার সময় একদল ছিনতাইকারী অটোরিকশার গতিরোধ করে এবং তাদের কাছ থেকে বিকাশ ডিলারের ৫৮ লাখ টাকা ছিনতাই করে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে ওই চক্রের ২ সদস্যকে ১৫ লাখ টাকাসহ আটক করে পুলিশ।

এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তারকৃত আল-আমিনকে নিয়ে জেলা ডিবি পুলিশ ও তিতাস থানা পুলিশ অবশিষ্ট টাকা এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযানে নামে। রাত সাড়ে ৩টার দিকে তিতাসের দড়িকান্দি নামক এলাকায় পৌঁছালে একদল ডাকাত পুলিশের গাড়িতে হামলা চালিয়ে আল-আমিনকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালায়। এ সময় পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি ছুড়লে ডাকাতদল পালিয়ে যায়।

তিতাস থানার ওসি সৈয়দ মোহাম্মদ আহসানুল ইসলাম জানান, ডাকাতদের একটি গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে আল-আমিনের গায়ে লাগে। আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আল-আমিনের বিরুদ্ধে ডাকাতি, ছিনতাইসহ থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার নগরীর ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রাত ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম আব্দুর রশিদ (৫০)। পুলিশের দাবি, নিহত ব্যক্তি তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি শাহ কামল আকন্দ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গভীর রাতে ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড এলাকার হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজ মাঠে মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক ভাগাভাগি করছে খবর পেয়ে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রথমে পুলিশের ওপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ পরে গুলি চালায়। পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। পরে তল্লাশি করে গুলিবিদ্ধ আব্দুর রশিদকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কথিত বন্দুকযুদ্ধে পুলিশের দুই সদস্য আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ওসি। আহতদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগান ও ১০০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে। আব্দুর রশিদের নামে বিস্ফোরক ও মাদকসহ একাধিক মামলা আছে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।

টেকনাফ: কক্সবাজারের টেকনাফের শালবন আনসার ব্যারাকের কমান্ডার আলী হোসেন হত্যার মুল হোতা, শীর্ষ ডাকাত মিয়ানমারের নাগরিক নুরুল আলম র‌্যাবের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে। শুক্রবার ভোররাতে টেকনাফের দমদমিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে দুইটি বিদেশী পিস্তল, দুইটি ম্যাগাজিন ও ১৩ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-৭ এর আওতাধীন কক্সবাজার ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর মো. মেহেদী হাসান।

এদিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের মরিচা যৌথ চেকপোস্টে আটক হওয়া ইয়াবা কারবারি বেল্লাল হোসেন (২৫) বিজিবির সাথে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে। শুক্রবার ভোররাতে তাকে নিয়ে টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের কাটাবুনিয়া এলাকায় ইয়াবা উদ্ধারে গেলে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বেল্লাল লক্ষ্মীপুর জেলা সদরের জিএমহাট এলাকার শাকচর গ্রামের মো. সিরাজুল ইসলামের ছেলে।

টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আছাদুদ-জামান চৌধুরী জানান, গত ২১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) সদস্যরা মরিচা চেকপোস্টে ইয়াবাসহ মো. বেল্লাল হোসেনকে আটক করে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যায়, বিপুল পরিমাণে ইয়াবা শুক্রবার ভোররাতে সাবরাং ইউপিস্থ কাটাবুনিয়া এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে। ওই সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর নায়েক মো. হাবিল উদ্দিন এবং কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) এর নায়েব সুবে. মো. ওহিদুল ইসলাম এর নেতৃত্বে যৌথ টহলদল দ্রুত আটক ব্যক্তিকে নিয়ে সেখানে যায়।

ভোররাত ৪টা ২০ মিনিটের দিকে কাটাবুনিয়া এলাকায় একদল ব্যক্তিকে দেখে যৌথ টহলদল তাদের চ্যালেঞ্জ করে। যৌথ টহলদলের উপস্থিতি লক্ষ্য করা মাত্রই চোরাকারবারীরা টহলদলের উপর অতর্কিতভাবে গুলি বর্ষণ করতে থাকে। এ সময় বিজিবির যৌথ টহলদল আত্মরক্ষার্থে কৌশলগত অবস্থান নিয়ে পাল্টা গুলিবর্ষণ করে। গুলির শব্দ থামার পর ভোরের আলোতে যৌথ টহলদলের সদস্যরা এলাকা তল্লাশি করে মো. বেল্লাল হোসেনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। এছাড়াও ওই স্থান হতে আনুমানিক ৯ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

অমৃতবাজার/আরবি