ঢাকা, শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৯ | ১৩ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পানির ট্যাংক পরে ৩ শিক্ষার্থী আহত


ইভান চৌধুরী, বেরোবি প্রতিনিধি,

প্রকাশিত: ১১:১২ পিএম, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, বুধবার | আপডেট: ১১:২৩ পিএম, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, বুধবার
রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পানির ট্যাংক পরে ৩ শিক্ষার্থী আহত

 

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন নং একাডেমিক ভবনের ছাদ থেকে পানির ট্যাংক পড়ে দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। আহতরা হলেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী মুনিরা খাতুন ও রুমি আখতার। আর তাদেরকে উদ্ধার করতে গিয়ে আহত হন একই বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী সুলতান মাহমুদ।

বুধবার দুপুর ১ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এঘটনার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। পরে তাদের বিক্ষোভের মুখে অভিযুক্ত দুই কর্মচারীকে সাময়িক বহিস্কার করে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আগামী ২৩-২৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধিন ওয়াজেদ রিসার্স ইনস্টিটিউট সংলগ্ন মাঠে রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির ৫ দিনের ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে। ওই ক্যাম্পের ভ্রাম্যমান ওয়াসরুমে পানির সুবিধা দিতে ৩ নং একাডেমিক বিল্ডিং এর ছাদ থেকে ট্যাংকি আনতে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল শাখার দুই কর্মচারী শামীম আহমেদ ও আজহারুল ইসলাম।

এসময় তাদের হাত থেকে একটি ট্যাংক নীচে থাকা ওই দুই ছাত্রীর উপর পড়ে যায়। এতে, রুমি আক্তার মাথায় আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। আর ট্যাংকের একটি অংশ  মুনিরা খাতুনের বাম হাতে এসে পড়লে তিনিও গুরুতর আহত হন। ঘটনা প্রত্যক্ষ করে দ্রুত ভবনের ছাদ থেকে পালিয়ে যান ওই দুই কর্মচারী। পরে আহতদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে সহপাঠীরা।

এদিকে, ঘটনার পরপরই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু হেনা মোস্তফা কামালের সাথে সাক্ষাত করে অভিযুক্ত দুই কর্মচারীকে বরখাস্তের দাবি জানায়। তাদের দাবির মুখে তৎক্ষনাত ওই দুই কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন।

একই সাথে ঘটনা তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আতিউর রহমানকে আহবায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠিত হয়েছে। প্রক্টর দপ্তরের সহকারী রেজিস্ট্রার মনিরা খাতুনকে কমিটির সদস্য সচিব ও সহকারী প্রক্টর ছদরুল ইসলাম সরকারকে সদস্য করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এদিকে, দুই কর্মচারীর ছাদ থেকে পানির ট্যাংক আনার বিষয়টি ক্যাম্পাসজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। প্রকৌশল দপ্তরের দুই সহকারী প্রকৌশলী শরিফ পাটোয়ারি ও কমলেশ রায় জানান, পানির ট্যাংক আনার বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না।

ওই দুই কর্মচারী তাদেরকে কিছু না জানিয়ে ট্যাংক আনতে গিয়েছিলেন। একই কথা জানিয়েছে প্রক্টর দপ্তর। তবে, প্রকৌশল দপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রেড ক্রিসেন্টের ওই অনুষ্ঠানের আয়োজকদের একজনের বাড়ি প্রকৌশল দপ্তরের কর্মচারী শামীমের বাড়ির পাশে।

তিনি বলেন, শামীম অনৈতিকভাবে আয়োজকদের সুবিধা দেয়ার চেষ্টা করছিল। এবিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শামীম ও আজহারুল ইসলামের মুঠোফোনে কল দেয়া হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। তবে, রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির রংপুর ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক রওশানুল ইসলাম সংগ্রাম জানান, শামীম স্যানিটেশনের দায়িত্বে ছিল। তাই তিনি ট্যাংক আনতে গিয়েছিলেন। এবিষয়ে তিনি শামীমকে কিছু বলেননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, এক প্রভাবশালী কর্মকর্তার নির্দেশে ওই দুই কর্মচারী ট্যাংক আনতে ৩ নং ভবনে যায়। ঘটনার পর ওই কর্মকর্তা তাদেরকে দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নেন এবং কোনোভাবে তার নাম প্রকাশ না করতে চাপ দেন।

এবিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্যের পিএস আমিনুর রহমান জানান, এবিষয়ে প্রকৌশল দপ্তর ভালো জানে। তবে, এবিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলি শরিফ পাটোয়ারি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আবু কালাম মো: ফরিদ উল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ঘটনাটি জানার পর শিক্ষার্থীদের রংপুর মেডিকেল কলেজে পাঠিয়েছি। যদি এ ঘটনার সাথে কারও কোন ধরণের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’   

 অমৃতবাজার/এএস