ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯ | ৬ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

রংপুরে ১০ বেওয়ারিশ লাশ দাফন


অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:১৮ পিএম, ১২ জানুয়ারি ২০১৯, শনিবার
রংপুরে ১০ বেওয়ারিশ লাশ দাফন

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাশ রাখা হিমঘরে ছয় বছরের বেশি সময় ধরে পড়ে থাকা বেওয়ারিশ ১০টি লাশের অবশেষে দাফন করা হয়েছে। নগরীর মুন্সিপাড়া কবরস্থানে লাশগুলো দাফন করা হয়েছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের পরিচালক ডা. অজয় রায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

হাসপাতালের সর্দ্দার দফতর সূত্রে জানা গেছে, রংপুর জেলায় বিভিন্ন সময় সড়ক দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন কারণে মৃত্যুবরণ করা ১০টি লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে হাসপাতালের লাশ রাখা হিমঘরে ছয় বছরের বেশি সময় ধরে পড়েছিল। কোনো স্বজন বা পরিচিত কেউ লাশগুলো নিতে আসেনি।

এদিকে লাশ রাখা হিমঘরের তিনটি ফ্রিজের দুটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল। একটি কোনো রকমে সচল থাকলেও সেটিও ঠিকমতো কাজ করে না। ফলে ১০টি বেওয়ারিশ লাশ অযত্নে অবহেলায় সেখানে পড়েছিল। হিমঘরের ফ্রিজিং ব্যবস্থা ভালো না থাকায় বেশির ভাগ লাশ বিকৃত হয়ে কোনোটা কঙ্কাল এবং কোনোটা গলেপচে যায়।

এতে হিমঘরের আশপাশে সাধারণ মানুষের যাতায়াত করাই কঠিন হয়ে পড়েছিল। এ অবস্থায় পুলিশ ও জেলা প্রশাসন পর্যায়ের চিঠি চালাচালির পর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে গত বৃহস্পতিবার বিকালে জানাজা শেষে মুন্সিপাড়া কবরস্থানে লাশগুলো কবর দেয়া হয়।

হাসপাতালের ডোম মানু জানান, ‘লাশগুলোর একটিকেও চেনার কোনো উপায় ছিল না। লাশ রাখা হিমঘরের ফ্রিজ ভালো থাকলে লাশগুলোর এমন অবস্থা হতো না। কারণ বেওয়ারিশ হিসেবে লাশগুলো থাকলেও নিখোঁজ হিসেবে অনেকের স্বজন লাশ রাখা হিমঘরে আসতেন। তবে চেহারা বিকৃত হয়ে যাওয়ায় তারা লাশ চিনতে পারেনি। ফলে তারা ফিরে গেছেন।`

হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মানিক জানান, ‘বেওয়ারিশ লাশগুলো দাফন করার জন্য অনেকবার জেলা ও পুলিশ প্রশাসন এবং সিটি করপোরেশনকে জানানো হলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ফলে লাশগুলো হিমঘরের পড়েছিল।’

এ ব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক ডা. অজয় রায় জানান, ‘আমি এবার চিঠি ছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসন ও সিটি মেয়রকে বেওয়ারিশ লাশ সৎকার করার অনুরোধ করি। ফলে তাদের সবার ঐকান্তিক চেষ্টায় রংপুর সিটি করপোরেশনের অর্থায়নে ১০টি বেওয়ারিশ লাশ জানাজা শেষে মুন্সিপাড়া কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।’

অন্যদিকে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেলের সহকারী পুলিশ কমিশনার আলতাফ হোসেন জানান, ‘পুলিশ কমিশনারের উদ্যোগে ১০টি লাশ দাফন করা হয়েছে।’

অমৃতবাজার/ইকরামুল