ঢাকা, শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

একজন ব্যতিক্রমী এমপি আনার


ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১:৫৫ এএম, ১৭ অক্টোবর ২০১৮, বুধবার
একজন ব্যতিক্রমী এমপি আনার

সরকারি হাসপাতালে এ্যাম্বুলেন্স চালক না থাকায় নিজেই এ্যাম্বুলেন্স চালিয়ে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে,কখনো রাতে কিংবা দিনে পুলিশ প্রটেকশন না নিয়ে মটরসাইকেল করে একা একা উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করে, কখনো হিন্দু-মুসলিম কোন ব্যক্তির মৃত্যর খবর শুনলেই তার বাড়িতে গিয়ে হাজির হয়ে আবার প্রতিনিয়ত ফেসবুকে লাইফ এ এসে এলাকার জনগনের সাথে কথা বলে আলোচনায় এসেছেন ঝিনাইদহ ৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার।

জনগনের সাথে তিনি নিবিড় সম্পর্ক তৈরি করেছেন । তার এই সব ব্যতিক্রমী কার্যক্রমের জন্য ব্যাপক প্রশংসা ও আলোচিত হয়েছেন ঝিনাইদহ ৪ নির্বাচনী (কালীগঞ্জ ও ঝিনাইদহ সদরের আংশিক) এলাকায়। তার এই জনপ্রিয়তার কারনে পৌরসভার কাউন্সিলর থেকে এখন সংসদ সদস্য। এলাকায় তিনি বেশ উন্নয়ন করেছেন।

জানা যায়, আনোয়ারুল আজীন আনার কালীগঞ্জ পৌরসভার নিশ্চিন্তপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে উপজেলা আওয়ামী লাগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি প্রথম কালীগঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলর হিসেবে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হন। এর কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি ঝিনাইদহ ৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ঝিনাইদহ জেলার নামকরা একজন ফুটবল খেলোয়াড় ছিলেন এমপি আনার। এখনো নিয়মিত ফুটবল খেলেন। তিনি জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবার পর থেকে বেশ কিছু কাজের জন্য আলোচনায় এসেছেন। হয়েছে পত্রিকার হেডলাইন। আর সে গুলো ভাল কাজ হিসেবে এলাকার ভোটাররা দাবি করেন।

সুত্র মতে, আনোয়ারুল আজিম আনার ইতিমধ্যে প্রায় ১০ হাজার মৃত মানুষের জানাযা নামাজে অংশ নিয়েছেন। তার নির্বাচনী এলাকায় হিন্দু কিংবা মুসলিম। আওয়ামী লীগ,বিএনবি কিংবা অন্য দলের যেই হোক তার কাছে মৃত্যুর খবর আসলে তিনি ছুটে যান শোকাহত পরিবারের পাশে। জানাযা কিংবা দাফন শেষ করেই সেখান থেকে তিনি ফেরেন। আনোয়ারুল আজীন আনার কখনই তার নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে চলেন না।

নিজের বাইক নিয়ে মাথায় হেলমেট পরে অধিকাংশ সময়ই একা একাই তার নির্বাচনী এলাকায় চলে যান। শহর কিংবা গ্রামে ,রাত কিংবা দিনে তিনি এলাকার উন্নয়ন খবর নেন। মটর সাইকেল চালিয়ে উন্নয়ন কাজ পরিদর্শণের সময় পুলিশ তাকে না চিনতে পেরে তার গাড়ির কাগজপত্রও চেক করেছেন এমন নজিরও রয়েছে।

আনোয়ারুল আজীম আনার আরো দুটি কাজ করে আলোচনায় এসেছে। সম্প্রতি কালীগঞ্জ শহরে একটি বড় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় প্রায় ২০জন গুরুতর আহত হন। কিন্তু জরুরী সময়ে হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স চালক না থাকায় নিজে এ্যাম্বুলেন্স চালিয়ে রোগীদের যশোর নিয়ে গেছেন। এছাড়াও আরেক মৃত রোগীকে নিজে এ্যাম্বুলেন্স চালিয়ে কাদার রাস্তায় বাড়ি পৌছে দিয়েছেন।

আনোয়ারুল আজীম আনার প্রতিনিয়ত রাতে তার নিজ ফেসবুক আইডি থেকে লাইফ এ আসেন। যাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করতে পারেন না তাদের সাথে ফেসবুকে কথা বলেন।

বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন। আর সেগুলো সমাধানের আশ্বাস দেন। আবার ফেসবুকে শোনার পর পরই সকালে হয়তো সেখানে নিজে গিয়ে পরিদর্শন করে দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা নেন।

তিনি উল্লেখযোগ্য যে কাজ করেছেন তার মধ্যে, একটি কলেজ,একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় জাতীয় করন, কালীগঞ্জ শহরে খেলোয়াড়কের জন্য একটি স্থায়ী খেলার মাঠ শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম তৈরি, অর্ধ শতাধিক স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার বহুতল নতুন ভবন, এলাকার অধিকাংশ সড়ক পাকাকরন, প্রতিটি গ্রাম শতভাগ বিদ্যুৎতায়ন,ব্রীজ,কালভাট নির্মান,গরীব-অহসায় জনগনের সরকারি অনুদান প্রদান ইত্যাদি।

আনোয়ারুল আজীম আনার জানান, জনগন জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করে তাদের সুখ,দু:খে পাশে থাকার জন্য, তাদের এলাকায় উন্নয়ন কাজ করার জন্য। কিন্তু আমাদের এ জেলায় অনেক জনপ্রতিনিধি আছেন যারা নির্বাচিত হবার পর জনগনের সাথেই যোগাযোগ ঠিক মতো থাকে না। তিনি বলেন, আমি জাতীয় সংসদ চলাকালীন সময় বাদে সব সময় নিজ নির্বাচনী এলাকায় থাকি। আমার নিজের বাড়ি ও দলীয় অফিস সব সময় খোলা থাকে। সমাজের উচ্চবৃত্ত কিংবা নিন্মবৃত্তি সকলের আমার কাছে সমান। তারা আমাকে ৩বার নির্বাচিত করেছেন। একবার কাউন্সিলর, একবার উপজেলা চেয়ারম্যান এবং একবার জাতীয় সংসদ সদস্য। আমি ঝিনাইদহ ৪ নির্বাচনী এলাকার জনগনের কাছে চির কৃতজ্ঞ। তারা আমাকে জনগনের ক্ষেদমত করার সুযোগ দিয়েছেন।

আনার আরো বলেন, জনগনই জানে আমি গত ৫ বছরে ঝিনাইদহ ৪ আসনে কতটুকু উন্নয়ণ করেছে। আমার বিশ্বাস আমি যতটুকু উন্নয়ণ করেছে এমন উন্নয়ণ আগের কোন সংসদ সদস্য করতে পারেনি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে খুব ভাল বাসেন। যার কারনেই এত উন্নয়ন করতে পেরেছি। আনোয়ারুল আজীম আনার বলেন, আগামীতে সংসদ সদস্য হই কিংবা না হই তার পরেও আমার সাথে এ আসনের সকল জনগনের সাথে সম্পর্ক থাকবে। তারা আমার কাছে সব সময় আসবেন এই প্রত্যাশা করি।

অমৃতবাজার/বিপাশ/সুজন