ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

যশোরে এবছর শারদীয় দুর্গা পূজার সংখ্যা বেড়েছে


যশোর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৩:১৪ পিএম, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার
যশোরে এবছর শারদীয় দুর্গা পূজার সংখ্যা বেড়েছে

শরতের নীল-সাদা আকাশ, ভোরের আবছা কুয়াশা, শোভা পাচ্ছে কাঁশফুল আর বাতাসে শেফালী ফুলের ঘ্রাণ। ভাদ্রের শেষে শরৎ শুভ্রতায় চারিদিকে শুধু সাজ সাজ রবে উৎসবের আমেজ। প্রকৃতির এ শোভনীয় রূপের মোহনীয় মুহূর্তে জানান দিচ্ছে অশুভনাশিনী আনন্দময়ী দেবী দূর্গার আগমনী বার্তা। বাঙালী সনাতন ধর্মবিশ্বাসীদের সবচেয়ে বড় সার্বজনীন ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজা। আগামী ৯ অক্টোবার মহালয়ার মধ্যে দিয়ে ঢাক-ঢোল আর কাঁসার বাদ্যে শুরু হবে পূজার আনুষ্ঠানিকতা।

দেবীর আগমনকে ঘিরে তাই ব্যস্ত যশোরের প্রতিমা কারিগরেরা। প্রতিমা তৈরি দেখতে মন্দির ও মন্ডপেও আসছে অনেকেই। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে নানা ধর্মীয় মাঙ্গলিক আচার অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আগামী ১৪ অক্টোবর বিকেল ৫টায় পঞ্চমীতে দেবীর বোধন; ১৫ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৬টায় ষষ্টাদি কল্পারম্ভে দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাস, ওই দিন বিকেল ৫টায় পূজারম্ভ। ১৬ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৬টায় মহাসপ্তমি, ১৭ অক্টোবর সকাল ৬টায় মহা অস্টমী, দুপুর ১২টা ৫৬ মিনিটে সন্ধিপূজা শুরু হয়ে দুপুর ১টা ৪৪ মিনিটের মধ্যে সমাপন। ১৮ অক্টোবর সকাল ৭টায় মহানবমী পূজা কল্পারম্ভ; ১৯ অক্টোবর দশমী কল্পারম্ভ সকাল সাড়ে ৬টায় এবং ৮টা ৫১ মিনিটের মধ্যে পূজা সমাপন ও দর্পণ বিসর্জন।

এরই আলোকে এ বছর যশোর জেলার ৮ উপজেলায় ৬শ’ ৬৮টি মন্দির ও মন্ডপে পূজার আয়োজন চলছে পুরোদমে। মন্দিরে ও মন্ডপে প্রতীমা তৈরির কাজে ব্যস্ত ভাস্কর শিল্পীরা। আয়োজকরাও বর্ণিল আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে। এখন শুধু অপেক্ষা সেই মাহেন্দ্রক্ষণের। চারিদিকে ধ্বণিত হবে ‘রূপং দেহি, যশ দেহি, জয়ং দেহি, দিশো দেহি।’

যশোর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, গতবছরের চেয়ে এ বছর পূজার সংখ্যা ১৪টি বৃদ্ধি পেয়েছে। এবছর জেলার ৮ উপজেলার ৬শ’ ৬৮টি মন্দির- মন্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। গত বছর যশোরে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ৬শ’ ৫৪টি মন্দির ও মন্ডপে।

এ বছর সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশী ১শ’৪৪টি স্থানে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে যশোর পৌরসভায় অনুষ্ঠিত হবে ৪১টি মন্দির ও মন্ডপে। অভয়নগরে ১শ’২৪টি, মণিরামপুরে ৯২টি, কেশবপুরে ৯৩টি, বাঘারপাড়ায় ৮৭টি, ঝিকরগাছায় ৫৩টি, চৌগাছা উপজেলায় ৪৫টি ও শার্শায় ৩০টি মন্দির ও মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে এদিকে যশোরে এ উৎসব সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রস্তুতিসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সোমবার বিকেলে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল আওয়াল। সঞ্চালনা করে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হুসাইন শওকত।

সভায় জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল আওয়াল বলেন, নির্ভয়ে ও আনন্দের সাথে এ উৎসব উদযাপনের জন্য সকল প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, যেকোনো মূল্যে দর্শণার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

উৎসব প্রসঙ্গে পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য দীপংকর দাস রতন জানান, শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্ম বিশ্বাসীদের হলেও উৎসব সার্বজনীন। সকলের সহযোগিতায় এ উৎসব সুন্দর ও সার্থক হবে।

যশোর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক যোগেশ দত্ত জানান, উৎসব উপলক্ষে মন্দির- মন্ডপ ভিত্তক কমিটি করা হয়েছে। তারা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছেন। গত বছরের চেয়ে এবছর প্রতিমার সংখ্যাও বেশি। আর আবহাওয়া ভালো থাকায় সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ বছরের দূর্গাৎসব সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করেন তিনি।

এদিকে প্রতিমার ভাস্কররা বলেন, প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। চলছে খড় আর কাঁদা মাটি দিয়ে প্রতিমা নির্মাণের প্রাথমিক কাজ। এরপর প্রতিমাতে দেয়া হবে রং তুলির আঁচড়।

অমৃতবাজার/প্রণব/সুজন