ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮ | ৩০ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিবস্ত্র ছবি তুলে অর্থ আদায়: ৮ জন গ্রেফতার


নওগাঁ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৬:৪২ পিএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, শুক্রবার
প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিবস্ত্র ছবি তুলে অর্থ আদায়: ৮ জন গ্রেফতার

নওগাঁয় ধনাঢ়্য পরিবারের সদস্যদের টার্গেট করে প্রেমের আহবান জানিয়ে বাড়িতে ডেকে এনে বিশেষ কৌশলে বেকায়দায় ফেলে অর্থ আদায়ের মত প্রতারক চক্রের ৪ যুবতী ও তাদের ৪ সহযোগি যুবককে আটক করেছে পুলিশ। এই চক্র বেশ কিছুদিন ধরে নওগাঁ শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করে এই অপকর্ম সাধিত করে আসছিল। পুলিশ তাদের বহুদিন ধরে খুঁজছিল।

অবশেষে গত বৃহষ্পতিবার গভীর রাতে ল্যাব জোন ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের সহকারী পরিচালক ময়নুল হোসেনের অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের নওগাঁ শহরের পার-নওগাঁ (দক্ষিনপাড়া) এলাকায় অভিযান চালিয়ে মৃত শহিদুল ইসলামের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো পার-নওগাঁ দক্ষিনপাড়া এলাকার মৃত শহিদুল ইসলামের কন্যা মোছা শান্তা খাতুন (৩০), মোছা নিপা খাতুন (৩২) ও মোছাঃ সন্ধ্যা খাতুন (১৯), বগুড়া জেলাধীন আদমদিঘী থানার কেল্লা গ্রামের সিরাজুল ইসলামের কন্যা মোছাঃ রিয়া খাতুন, সদর উপজেলার ফতেপুর গ্রামের আব্দুল হামিদ মন্ডলের পুত্র হারুন মন্ডল (৩৬), আজাহার আলীর পুত্র মোঃ আরিফ হোসেন (২৫), মোঃ আফজাল হোসন মোল্লার পুত্র নুর ইসলাম নোবেল (২০) এবং আব্দুস সালামের পুত্র মোঃ আশিক (১৯)। উক্ত রফিকুল ইসলামকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বাড়িতে ডেকে ফাঁসিয়ে অর্থ আদায়ের কৌশল অবলম্বন করে। কৌশলে সে থানায় জানালে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় অফিসার্স ইনচার্জ মোঃ আব্দুল হাইয়ের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

নওগাঁ সদর থানার অফিসার্স ইনচার্জ মো. আব্দুল হাই জানান গ্রেফতারকৃত শান্তা, নিপা ও সন্ধ্যা উক্ত রিয়া নামের মেয়ের সহযোগিতায় যে কোন ধনাঢ়্য ব্যক্তিকে টার্গেট করে মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করে তাদের প্রথমে প্রেমের অফার দিয়ে বাড়িতে ডাকে। এই ডাকে কেউ কেউ সাড়া দিয়ে ফেঁসে যায়। তাদের বাড়িতে ডেকে এনে ঘরের দরজা বন্ধ করে উভয়ে বিবস্ত্র হয়। ত্রা তাদের ছেলে সহযোগিদের ফের করে। ত্রাা এসে দরজা নক করে ভিতরে প্রবেশ করে। তাদের বিবিস্বত্র অবস্থায় বিভিন্ন অাঙ্গিকে ছবি তোলে। ছবি ফেসবুকে বা নানাভাবে প্রকাশ করার ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের অর্থ আদায় করে।

এই ইতিপূর্বে নওগাঁ শহরের বাঙ্গাবাড়িয়া এলাকাং শিউলী ম্যানসনের চতুর্থতলায় ভাড়া থাকাকালীন সময় মঙ্গলপুর গ্রামের জনৈক রফিকুল ইসলামকে এমন ফাঁদে ফেলে নগদ ৫০ হাজার টাকা আদায় করে এবং ৮ লাখ টাকা দাবী করে সাদা ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে নিয়ে ছেড়ে দিয়েছিল। সে ব্যাপারেও একটি মামলা থানায় লিপিবদ্ধ রয়েছে।

অমৃতবাজার/বেলাল/মিঠু