ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১০ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে কুকুরের সিজারিয়ানে সাত বাচ্চা


রাজশাহী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৮:০৯ পিএম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, বুধবার
রাজশাহীতে কুকুরের সিজারিয়ানে সাত বাচ্চা

রাজশাহীতে প্রথমবারের মতো কুকুরের সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়েছে। এ অপারেশনে ওই কুকুরটি সাতটি বাচ্চা জন্ম দিয়েছে বলে জানান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাটেরিনারি ক্লিনিক অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের ডেপুটি ভ্যাটেরিনারি অফিসার ডা. হেমায়েতুল ইসলাম আরিফ।

ডা. হেমায়েতুল ইসলাম আরিফ জানান, গত ৪ সেপ্টেম্বর নাড়িকেলবাড়িয়ায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্স বিভাগের ভ্যাটেরিনারি ক্লিনিক অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারে এ অপারেশনের মাধ্যমে লিলি নামের একটি কুকুরের সাতটি বাচ্চা জন্মলাভ করে।

তিনি আরো জানান, কুকুরটি বগুড়া জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আতিকুর রহমানের পোষ্য। গর্ভবতী কুকুরটির প্রসবের আগ মূহূর্তে তার মালিক আমাদের কাছে নিয়ে এসেছিলেন বাচ্চা হওয়ার পর কুকুরটির লাইগেশন করে দেয়ার জন্য। কারণ পরবর্তীতে তাদের পোষ্য কুকুরটির কাছ থেকে আর সন্তান চান না। আমরা তখন গর্ভবতী কুকুরটিকে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাই এবং প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে ওটিতে সি-সেকশন ডেলিভারির (সিজার করে) মাধ্যমে সাতটি শিশু কুকুরের ডেলিভারি করতে সক্ষম হই। অপারেশনের দুই ঘণ্টার মধ্যেই মা কুকুরটির জ্ঞান ফিরে আসে এবং সুস্থ হয়ে যায়। বাচ্চাগুলো প্রথম পর্যয়ে একটু দুর্বল থাকার কারণে তাদের বিশেষ পর্যবেক্ষণের জন্য আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। এখন সাতটি বাচ্চাই পুরোপুরি সুস্থ। তবে আরো প্রায় ১৫ দিন মতো তাদের বিশেষ যত্নের প্রয়োজন আছে।

কুকুরটির মালিক আতিকুর রহমান বলেন, কুকুরটির নাম লিলি। আমার ছোট মেয়ে কঙ্কনের আবদারেই আমরা লিলিকে বাসায় নিয়ে আসি। প্রায় দুই বছর যাবৎ লিলি আমাদের বাসায় আছে। সে আমাদের খুব যত্নের ও আদরের। লিলি এখন অনেকটাই আমাদের পরিবারের সদস্যের মতো হয়ে গেছে। তাই তার প্রতি আমাদের ভালোবাসার জায়গাটাও অনেকখানি। লিলিকে এবং ছোট্ট কুকুর ছানাগুলোকে দেখতে আমি এবং আমার মেয়ে প্রতিদিনই একবার করে ক্লিনিকে যাই। লিলিকে ছাড়া বাসায় যে শূন্যতা অনুভব করছি তা প্রকাশ করা কঠিন। অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি তাদের বাসায় নিয়ে যাওয়ার জন্য।

লিলির সিজারিয়ান অপারেশনটিতে ডেপুটি ভ্যাটেরিনারি অফিসার ডা. হেমায়েতুল ইসলাম আরিফের সহযোগী হিসেবে ছিলেন ক্লিনিক্যাল অ্যাটেন্ডেন্স জিয়াউর রহমান, ভ্যাটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্স বিভাগের পিএইচডি ফেলো ড. ইসমাইল হক।#ৎ

অমৃতবাজার/শিহাবুল/মিঠু