ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১০ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

পুরো হত্যাকাণ্ড তিনি একাই করেছেন পপি স্বীকারোক্তি


চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৭:৩১ পিএম, ১৮ আগস্ট ২০১৮, শনিবার
পুরো হত্যাকাণ্ড তিনি একাই করেছেন পপি স্বীকারোক্তি

মাঈন উদ্দিনসহ একসঙ্গে ছুরি কেনেন রোকসানা আক্তার পপি। পরে সেই ছুরি দিয়ে হোটেলে পৌঁছে গলাকেটে হত্যা করা হয় মাঈন উদ্দিনকে। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য দিয়েছেন রোকসানা আক্তার পপি।রোকসানা আক্তার পপি পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, পুরো হত্যাকাণ্ড তিনি একাই করেছেন।

শুক্রবার (১৭ আগস্ট) ভোরে নগরের খুলশী ফয়েজলেক এলাকার লেকসিটি মোটেল ফাইভ হোটেলের দ্বিতীয় তলার ২০৩ নং রুম থেকে মো. মাঈন উদ্দিন (৩০) নামে এক যুবকের মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে রুমের ভিতর থাকা প্লাস্টিকের ডাস্টবিন থেকে উদ্ধার করা হয় মাথা। এর আগে বুধবার (১৫ আগস্ট) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে মো. মাঈন উদ্দিন ও তার সাবেক স্ত্রী রোকসানা আক্তার পপি (২২) হোটেলে উঠেন।

মো. মাঈন উদ্দিন ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া শুভপুর এলাকার মো. সিরাজুল হকের ছেলে এবং রোকসানা আক্তার পপি চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ মেহেদী নগর এলাকার আবু আহমদের মেয়ে। রোকসানা আক্তার পপি চীনের একটি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

শনিবার (১৮ আগস্ট) পুলিশ লাইন্সে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) সদর দফতরে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম জানান, ‘ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে সাবেক স্বামী মাঈন উদ্দিনকে খুন করেছে।’

আমেনা বেগম জানান, ‘২০১২ সালে মো. মাঈন উদ্দিন ও রোকসানা আক্তার পপি পরিবারকে না জানিয়ে বিয়ে করেন। রোকসানা আক্তার পপির পরিবার এ বিয়ে মেনে না নেওয়ায় ২০১৪ সালে মাঈন উদ্দিনকে তালাক দেন রোকসানা আক্তার পপি। ২০১৫ সালে রোকসানা আক্তার পপি চীনে পড়াশুনার জন্য চলে যান। পরে পুনরায় রোকসানা আক্তার পপির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেন মাঈন উদ্দিন। এতে রাজি না হওয়ায় তাদের দাম্পত্য জীবনের বিভিন্ন ছবি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেন মাঈন উদ্দিন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নিজের পরিবারের কাউকে না জানিয়ে চীন থেকে বাংলাদেশে আসেন রোকসানা আক্তার পপি। পরে মাঈন উদ্দিনের সঙ্গে হোটেলে উঠেন এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটান।’

তিনি বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের পর রোকসানা আক্তার পপি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পরে ঢাকা না গিয়ে সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড এলাকা থেকে নাসিরাবাদ আল ফালাহ গলির বাসায় ফেরত আসেন। পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।’

সংবাদ সম্মেলনে সিএমপি’র উত্তর জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার আবদুল ওয়ারিশ, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মিজানুর রহমান, নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আবু বক্কর সিদ্দিক, সিনিয়র সহকারী কমিশনার আসিফ মহিউদ্দীন, বায়েজীদ জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার সোহেল রানাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মলনে আমেনা বেগম নগরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলগুলোতে নজরদারি বাড়ানো ও রুম ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দেশনা না মানলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।

গ্রেফতারের পর রোকসানা আক্তার পপির পুলিশকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মো. মাঈন উদ্দিন ও রোকসানা আক্তার পপি বৃহস্পতিবার সকালে এক সাথে হোটেল থেকে বের হয়ে নাস্তা করেন। পরে শপিং করতে যান ষোলশহর এলাকার শপিং কমপ্লেক্সে। সেখান থেকে কোরবানির জন্য প্রয়োজন জানিয়ে মাঈন উদ্দিনসহ ছুরি কেনেন রোকসানা আক্তার পপি, পরে বিকেলে হোটেলে পৌঁছে সেই ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন মাঈন উদ্দিনকে।

সিনিয়র সহকারী কমিশনার সোহেল রানা বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও বিভিন্ন আলমত উদ্ধার করা হয়েছে। রোকসানা আক্তার পপিকে গ্রেফতারের পর তিনি পুলিশের কাছে ঘটনা স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন একাই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।’

সোহেল রানা বলেন, ‘চীন থেকে বিমানের ফিরতি টিকিট করে এসেছিলেন রোকসানা আক্তার পপি। ২১ আগস্ট তার ফেরত যাওয়ার কথা ছিল। ১৫ আগস্ট তিনি বাংলাদেশে আসেন। এসে মাঈন উদ্দিনের সঙ্গে চট্টগ্রামে হোটেলে উঠেন। হয়তো তার পরিকল্পনা ছিল হত্যা করে আবার পালিয়ে চলে যাবেন। আমরা তার পাসপোর্ট ও টিকিট জব্দ করেছি।’

তিনি বলেন, ‘রোকসানা আক্তার পপি হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি কিনেছেন ষোলশহর এলাকা থেকে। ছুরি কেনার সময় মাঈন উদ্দিন সঙ্গে ছিল বলে জানিয়েছে পপি। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।’

শনিবার (১৮ আগষ্ট) বিকেলে মাঈন উদ্দিন হত্যার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু সালেম মোহাম্মদ নোমানের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সিনিয়র সহকারী কমিশনার সোহেল রানা।

অমৃতবাজার/সুজন